খনন না করায় সীতাকুণ্ডে মরে গেছে ১০টি বড় খাল

বোরো মৌসুমে পানির অভাবে অনাবাদি জমি

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

রবিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
33

সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ডোমখালী গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন(৪৩)। তাঁর জমিতে বোরো চাষ করার প্রয়োজনীয় পানির সংস্থান নেই। কারণ, তাঁর জমির আশপাশের শাখা খালগুলো মরে গেছে। তবে কাছাকাছি একটি বড় খালের পানি ওই এলাকার একটি ইরি গোলাতে সেচ কাজে ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকে ড্রেনের মাধ্যমে তাঁর জমিতে পানি আনতে খরচ পড়ে যায় অনেক বেশি। তাই ইচ্ছা থাকলেও তিনি বোরো আবাদ করতে পারেন না। মোশাররফ হোসেনের মতো সীতাকুণ্ড উপজেলায় এমন অনেক কৃষক আছে, বোরো মৌসুমে পানির অভাবে যাদের জমি অনাবাদি পড়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জন প্রতিনিধিদের মতে, খননের অভাবে এবং ‘অপরিকল্পিত’ভাবে নির্মিত স্লুইস গেটের কারণে এ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ১০টি খাল মরে গেছে। এগুলো খনন করা গেলে আরও প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমি বোরো চাষের আওতায় আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয় বারৈয়াঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে। এই চারটি ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে ১০টি বড় খাল। খালগুলো হলো -ডোমখালী খাল, বদর খাল, মহালঙ্গা খাল, বাঁকখালী খাল, অন্তর খাল, গুপ্তা খাল, মান্দারীটোলা খাল, কামানীয়া খাল, উলানিয়া খাল, গুলিয়া খাল। প্রতিটি খালের সাথে রয়েছে অনেকগুলো শাখা খাল। শাখা খালগুলো পাশেই রয়েছে মহালঙ্গা বিল, লালানগর বিল, বগাচতর বিল, বাঁকখালী বিলঅলিনগর বিল, হাতীলোটা বিল, নডালিয়া বিল, লক্ষণের বিল, গোপ্তাখালী বিল, ভাটেরখীল বিল, গুলিয়াখালী বিল। বড় বড় খালগুলো জোয়ারের সময় পানি থাকলেও ওই শাখা খালগুলোতে পানি থাকে না।বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের মহালঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়াল শরীফ(৪৫) জানান, তাঁর জমিতে সেচের জন্য খাল থেকে পানি তুলতে জোয়ারের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এতে সেচকাজ মারাত্মক ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, এই শাখা খালগুলো খনন করতে পারলে এ অঞ্চলে বোরো ধান আরও ভালো হবে। সরকার যদি এদিকে একটু নজর দেয়,তাহলে চাষবাদে অনেক সুবিধা হবে।
ডোমখালী ও বদরখালী খাল সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আনোয়ার জানান, বিভিন্ন জায়গায় দেনদরবার করে ডোমখালী ও বদরখাল খালের কিছু অংশ সংস্কার হয়েছে। এতে গত বছর আমন ধান ভালো হয়েছে। পুরোপুরি খনন করা গেলে শুষ্ক মৌসুমে চাষবাদে এলাকার কৃষকরা কোনো সমস্যায় পড়বে না।
বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রেহান জানান, তাঁর ইউনিয়নের ৫টি খাল খননের অভাবে মাটি ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। পাহাড়ি এলাকায় কৃষকরা ভালো ফলন করলেও উপকূলীয় এলাকায় অনেক বিল চাষাবাদহীন পড়ে আছে। তিনি জানান শুষ্ক মৌসুমে খননের উদ্যোগ নিলে এ এলাকায় ফলন বাড়বে।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্ল্যা মিয়াজী জানান, উপকূলীয় এলাকায় বেশিরভাগ জমি অনাবাদি পড়ে আছে। লবণাক্তের কারণে কৃষকরা চাষ করার আগ্রহ হারাচ্ছে। এই এলাকার বড় বড় খাল খননের পাশাপাশি শাখা খালগুলো জরুরি ভিত্তিকে খনন করা প্রয়োজন। বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরী জানান, এখানকার খালের পানি লবণাক্ত হওয়ায় কৃষকরা বোরো চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠে না। যার কারণে শুষ্ক মৌসুমে এই তিন ইউনিয়নে বেশিরভাগ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। তবে খানগুলো খনন করলে বোরো চাষ বাড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফকাত রিয়াদ জানান, সীতাকুণ্ডে মাত্র ১০হেক্টর জমিতে বর্তমানে বোরা চাষ হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে খালগুলোতে পানি থাকে না। উপজেলার প্রতিটি খাল খনন করা গেলে আরও অন্তত তিন হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের আওতায় আনা সম্ভব। এতে অন্য ফসলের চাষও সহজ হবে।

x