ক্যান্সারাক্রান্ত শিশুর সংখ্যাবৃদ্ধি রোধে জরুরিভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগ চাই

রবিবার , ১ এপ্রিল, ২০১৮ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
73

দেশে বড়দের মতো শিশুরাও ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বেড়ে চলেছে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। বড়দের জন্য যতটুকু চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে, শিশুদের তাও নেই। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক অনকোলোজি বিভাগসহ হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসা দেয়া হয় এ ছাড়া সংকট রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও। পত্রিকান্তরে অতি সম্প্রতি এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি নিঃসন্দেহে খুবই উদ্বেগের। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশে কত সংখ্যক শিশু ক্যান্সার রোগাক্রান্ত তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে চাইল্ডহুড ক্যান্সার ইন্টারন্যাশনাল (সিসিআই) বলছে, বছরে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ শিশু। আর বাংলাদেশে সেই সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব, চিকিৎসক সংকট, ব্যয়বহুলতার কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত অধিকাংশ শিশু চিকিৎসা নিতে পারছে না। এই অবস্থা থেকে দেশের পরিত্রাণ জরুরি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভেজাল খাদ্য, খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার, বায়ুদুষণ, বিকিরণের মাত্রা বাড়ার ফলে শিশুদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও বাস্তবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনুপস্থিত। কিছু অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্যান্সারের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। নাগরিকদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। এছাড়া, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি সামগ্রিক পরিকল্পনারও প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য দেশে কতসংখ্যক শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত তার একটি সঠিক পরিসংখ্যান জরুরি। অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া দুষ্কর। এজন্য একটি ডাটাবেজ তৈরি করা যেতে পারে। এই ডাটাবেজে থাকবে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, কতজন সুস্থ হচ্ছে, বছরে বা মাসে গড়ে কতজন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে ইত্যাদি তথ্য। এটি থাকলে পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হবে। আরেকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে । এটি হলো বিশেষজ্ঞ তৈরি। দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে হাসপাতালগুলোতে ২০২২ জন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। প্রতিবছর প্রচুর চিকিৎসক পাস করে বের হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ যা থাকেন তা না থাকারই মতো। সঠিক নির্ণয়ের অভাবে অনেকে হয়তো জানেন না তাঁর সন্তান এই মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। অন্যদিকে শিশুর ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভিজ্ঞ নার্স ও টেকনিশিয়ানও আমাদের নেই। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। আগামীদিনের প্রয়োজন মেটোনোর জন্য এখন থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স টেকনিশিয়ান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া ঢাকার বাইরে শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা তেমন নেই। ফলে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমাতে বিভাগীয় শহরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের উচিত এই পরামর্শ মোতাবেক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা। ঢাকায়ও যে পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে এমন নয়। সেবার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়াই সুচিকিৎসা দেওয়া ক্রমে কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে আশঙ্কাজনক হারে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর হার বাড়ছে। ঢাকার বাইরে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ক্যান্সার চিকিৎসার সেন্টার গড়ে তোলা গেলে ঢাকার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি রোগীর চিকিৎসা খরচ ও ভোগান্তি কমবে। এজন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে একটি করে ক্যান্সার ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা দরকার।

ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারের উচিত শিশুদের ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। এখনই উদ্যোগ নেওয়া হলে কয়েক বছরে জনগণ এর সুফল দেখতে পাবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। এছাড়া ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে সরকারকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

x