কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

নজরুল ইসলাম

বুধবার , ৪ জুলাই, ২০১৮ at ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
98

ক্ষণে ক্ষণে খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি, রেফারির ঘন ঘন হলুদ কার্ড প্রদর্শন, তেমনই বিশৃংখল এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইংল্যান্ড এবং কলম্বিয়ার মধ্যকার নক আউট পর্বের ম্যাচটি। বারবার দু দলের খেলোয়াড়দের ফাউল করার প্রবণতা ব্যহত হয়েছে ম্যাচের সৌন্দর্য। তারপরও ম্যাচটিতে জিতেছে ইংল্যান্ড। তবে তা টাইব্রেকারে। ফলে শেষ আটে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর আবার শেষ আটে জায়গা করে নিল ১৯৬৬ এর চ্যাম্পিয়নরা। স্নায়ু ক্ষয়ী এই টাইব্রেকিং লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইংলিশরা জিতেছে ৪৩ গোলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ছিল ১১ গোলে ড্র। তবে হতশ্রী এই ম্যাচটিতে কেবলই ফাউল হয়েছে। আর রেফারি পারেননি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করতে। যেন মনে হয়েছে মাঠে দু দলের ফুটবলাররা লড়াই করতে নেমেছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে ইংলিশরা কোয়ার্টার ফাইনালে ।

ম্যাচের শুরু থেকেই দু দলই খেলেছে আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ করে। তবে সময় যতই গড়িয়েছে ততই আক্রমণের ধার বাড়ায় ইংল্যান্ড। কিন্তু গোলের দেখা মিলছিলনা। একাধিক আক্রমণ রচনা করলেও সেগুলো বারবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে হয় বাইরে মেরে নাহয় গোল রক্ষকের গায়ে মেরে। ঠিক গোল করার মত যে আক্রমণ কিংবা গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেওয়া বলতে যা বুঝায সেরকম কিছু করতে পারেনি ইংল্যান্ড কিংবা কলম্বিয়া। হ্যারি কেনের দুর পালহ্মার কিংবা ক্ষীপ্র গতি নিয়ে কলম্বিয়ার রক্ষণভাগে ঢুকলেও শেষ পর্যন্ত গোল আদায় করে নিতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য ভাবে বিরতিতে যেতে হয় দু দলকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে ইংল্যান্ড। তবে এ অর্ধে গোল আদায় করে নিতে বেশি সময় লাগেনি। খেলার ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন। নিজেদের ডি বক্সে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার ফাউল করে ইংলিশ স্ট্রাইকার ডেলে আলিকে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আর সে পেনাল্টি থেকে গোল করতে আর ভুল করলেননা ইংলিশ অধিনায়ক। ১০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে এটি হ্যারি কেন এর ষষ্ট গোল। আর ছয় গোল করে এককভাবে গোলদাতার তালিকায় সবার উপরে হ্যারি কেন। ৬৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার একটি সুযোগ এসেছিল ইংলিশদের সামনে। এবার ডি বক্সের ভেতর থেকে ডেলে আলির শট চলে যায় ক্রসবারে হাওয়া লাগিয়ে। ৭৩ মিনিটে আরো একটি সুযোগ এসেছিল ইংল্যান্ডের সামনে ব্যবধান বাড়ানোর। কিন্তু হ্যারি ম্যাগুয়ারের হেড চলে যায় এবার ক্রসবার উচিয়ে। ৮১ মিনিটে সমতা ফেরাতে পারতো কলম্বিয়া। একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে হুয়ান কুয়াদ্রাদোর শট চলে যায় ক্রসবার উচিয়ে। ফলে হতাশায় থাকতে হয় এ যাত্রায় কলম্বিয়াকে। ৮৫ মিনিটে রামাদাল ফ্যালকাও এর হেডও পায়নি ইংল্যান্ডের গোলের ঠিকানা খুজে। শেষ কয় মিনিটে আক্রমণের ধার আরো বাড়ে কলম্বিয়ার। ৮৬ মিনিটে আবার ফ্যালকাও এর মাট কামডানো শট চলে যায় ইংলিশ গোল রক্ষকের হাতে। আরো একবার হতাশ হতে হলো কলম্বিয়াকে। শেষ পর্যন্ত গোল আদায় করে নিয়েছে কলম্বিয়া। অতিরিক্ত ৫ মিনিটের তৃতীয় মিনিটে কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে দারুন এক হেডে ইয়েরি মিনা গোল করে খেলায় সমতা ফেরান।

এরপর খেলা গড়ায় ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে। এই ৩০ মিনিটের প্রথমার্ধে বলতে গেলে বলের দেখাও পায়নি ইং্যলান্ড। প্রথম ১৫ মিনিট বেশ দাপটের সাথে খেলেছে কলম্বিয়া। গোলে দু একবার শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু সে গুলো থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেনি কলম্বিয়া। খেলার ১১২ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ইংল্যান্ড। বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ড্যানি রোজ এর শট চলে যায় সাইডবার ঘেষে। নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময় মিলে ১২০ খেলা শেষ হয় ১১ গোলে সমতায়। ফলে ম্যাচের নিস্পত্তির জণ্য আশ্রয় নিতে হ টাইব্রেকারের। আর সে টাইব্রেকারে ৪৩ গোরে কলম্বিয়াকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় শেষ আটে। কলম্বিয়ার পক্ষে ফ্যালকাও, কুয়াদ্রাদো এবং মুরিয়েল গোল করলেও উরিবে মারেন ক্রসবারে। আর বাক্কার শট রুখে দেন ইংলিশ কিপার। অফরদিকে ইংল্যান্ডের পক্ষে হ্যারি কেন, রাশফোর্ড, ট্রিপিয়ার এবং ডায়ার গোল করেন। হেল্ডারসনের শটটি রুখে দেন কলম্বিয়া কিপার।

x