কোমর ব্যথা হচ্ছে কেন ?

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২ মার্চ, ২০১৯ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
198

কোমর ব্যথা রোগ বললে আমি বলব এটি আসলে ভঙ্গি (পোর্চার) রোগ। বিগত কয়েক বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গবেষণা থেকে বলছি, আমাদের দেশে কি পরিমাণ মানুষ কোমর ব্যথা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন তার কোন পরিসংখ্যাণ দিয়ে বলা যাবে না। প্রায়ই মানুষই বলেন কোমর ব্যথা কেন করছে, কিন্তু আমি বলব- আগে আপনি কি ভঙ্গিতে দিনযাপন করছেন সেদিকে লক্ষ্য করুন তবেই বুঝতে পারবেন কেন হচ্ছে কোমর ব্যথা। আমার মনে হচ্ছে দেশে যতোগুলো পরিবার আছে প্রতিটা পরিবারেই কোমর ব্যথার রোগী আছে, পুরুষের তুলনায় মহিলারাই সবচেয়ে বেশি। এর কিছু সংখ্যক মানুষ প্রকাশ করেন আর কিছু সংখ্যক প্রকাশ করেন না একেবারে। যখন ব্যথার মাত্রা বাড়ে তখন ব্যথার ওষুধ খেয়ে কিছুদিন ভাল লাগলেও আবার ব্যথার শুরু হয়। তবে বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা চিকিৎসা নেওয়ার পরও তেমন কোনো ফল হয় না। আমরা যদি সামান্য একটু সচেতন হয় (উঠা-বসা, শোয়া, চলাফেরা সঠিক ভঙ্গিতে করতে পারি) তবে এই সম্যসা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি চিরদিনের জন্য। তবে কোমর ব্যথার অনেকগুলো কারণ রয়েছে, এর মধ্যে মেকানিক্যাল সমস্যা। মেকানিক্যাল সমস্যা বলতে মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদণ্ডের নির্দিষ্ট বক্রতার অবস্থানকে বুঝায়।
আমাদের মেরুদণ্ডের গঠণ কেমন : আমাদের মেরুদণ্ডের গঠণ এমনভাবে গঠিত এ কারণে আমরা সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে আনা-নেয়া করাতে পারি। মেরুদণ্ডে শক্ত হাড় ছাড়াও হাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে নরম হাড় (ইন্টারভারটেব্রার্ল ডিক্স/নরম জেলির মতো) থাকে, যা গাড়ির স্প্রিং বা শক অ্যাবজারবারের মতো কাজ করে। সাধারণত আরও অনেক কারণ ছাড়াও একটানা বসে থাকার কারণে ডিস্কের স্থানচ্যুতি (প্রোলাপস) হয়ে সংলগ্ন মেরুরুজ্জু (স্পাইনাল কর্ড) বা স্নায়ুমূলের (নার্ভ রুট) উপর চাপ পড়ে। বর্তমানে আমাদের দেশে এই ধরনের কোমর ব্যথা মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রথম অবস্থায় ব্যথা কোমরে থাকলেও পরবর্তীতে ব্যথা নিচের দিকে (নিতম্বে), উরুতে (হেস্ট্রিং), কাপস্‌ তারপর পায়ের পাতা এবং আঙ্গুলে নামতে থাকে।
কোমর ব্যথার জন্য কি কি কারন দায়ী / কারা কোমর ব্যথায় বেশি ভুগেন
১. টেইলার, ওর্য়াকার, ব্যবসায়ী, অফিস কর্মচারী, কম্পিউটার টাইপিস্ট, ঝাড়ুদার, ওজন বহন করেন (ফেরিওয়ালা), যারা লম্বা সময় নিয়ে ডেঙে বসে কাজ করেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে যারা নিচে বসে গৃহস্থালী কাজ করেন (বর্তমানে মহিলাদের কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে এই ভঙ্গিটি দায়ী)।
২. যারা লম্বা সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কাজ করেন বা সামনে ঝুঁকে থাকেন, যেমন- সেলস ম্যান, মার্কেটিং জব হোল্ডার, নার্স।
৩. যারা প্যান্টের পেছনে মানি ব্যাগ ব্যবহার করেন, হাই হিল জুতা পড়েন, ঘুমানোর ভঙ্গি, নরম বিছানা বা বেশি নরম বা বেশি শক্ত বালিশ ব্যবহার করেন।
৪. যারা নিয়মিত মোটর সাইকেল বা সাইকেল চালান।
৫. ভারী বস্তু তোলার কাজে যারা দিন অতিবাহিত করেন।
৬. পিচ্ছিল খেয়ে পড়ে গেলে।
৭. নিয়মিত গাড়ি চালালে এবং ঝাঁকুনি হয় এরুপ যানবাহনে (যথা-রিক্সা) চড়েন। বাস ভ্রমণের সময় পেছনের সিটে বসতে অভ্যস্থ।
৮. সাধারণত কুঁজো হয়ে হাঁটলে বা বসলে।
৯. অতিরিক্ত শারীরিক ওজন বা ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশি হলে।
১০. গর্ভকালীন বা সন্তান প্রসবের পরবর্তী দিনগুলোতে।
১১. মেরুদণ্ডে টিউমার থাকলে।
১২. জিমে ভুল ব্যায়াম বা ভারী ওয়েট বহন করার কারনে।
১৩. হার্নিয়েটেড ডিস্ক, দুই হাড়ের মাঝখানে ডিস্ক স্লিপ করলে।
১৪. এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস।
১৫. কোমরের মাংসপেশি দুর্বলতা বা সমস্যা হলে।
৬. মেরুদণ্ডের দুই হাড়ের মধ্যে চাপ খেলে।

- Advertistment -