কোমর ব্যথার সহজ সমাধান

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ৯ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
433

কোমর ব্যথা খুবই যন্ত্রণাদায়ক ভঙ্গি (প্রোর্চার/গবেষণা মতে) রোগের নাম। কোমর ব্যথার অনেকগুলো কারন থাকে তারমধ্যে দেশে যত কোমর ব্যথার রোগী আছে তার মধ্যে ৯৫ ভাগ মেকানিক্যাল/নিয়ম বহিভূত লাইফ স্টাইলের (ভঙ্গির) জন্য হয়ে থাকে। যদি আমরা লক্ষ্য করি আমাদের উঠা,বসা-শোয়া, কাজ-কর্ম, দিন যাপন সব অনিয়ম। সকাল থেকে শুরু করে শোয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজ-কর্মে সঠিক ভঙ্গিতে করছি না। যারা কোমর ব্যথা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন তাঁরা প্রথমে নিজে নিজে ভাবুন পূর্বে কোন পেশায় ছিলেন বা কি কি ভঙ্গিতে কাজ করেছিলেন, এখনও করছেন, কোনো দুর্ঘটনা, ভারী বস্তু তোলা বা অন্য কোন কাজে -যার জন্য আপনার কোমর ব্যথার উৎপত্তি। আজ আমি বিস্তারিত অলোচনা না করে সরাসরি কিভাবে ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাবেন সেদিকে দৃষ্টি দিব। সোজা কথায় আপনার লাইফ স্টাইলের পরির্তন করুন, না হয় যতো বড় ডাক্তারী পরামর্শ, চিকিৎসা এবং ঔষধ সেবন করুন না কেন তাতে কোনো লাভ হবে না। ব্যথা আপনার কোমর থেকে নিচের দিকে নামতে হবে এবং দিন দিন আপনি অকেজো হয়ে পড়বেন। কারন এই ব্যথার উৎপত্তি আসলে বেড প্রর্চার (খারাপ ভঙ্গি/ ফিজিক্যাল) কারনেই হয়েছে তাই এটিকে শারীরিক চিকিৎসার/সঠিক ভঙ্গিতে এনে সারাতে হবে।
কোমর ব্যথার সহজ সমাধান :
এ ধরনের পদ্ধতি যে কোন কোমর ব্যথার রোগী চিকিৎসা/প্রয়োগ করতে পারবেন। এতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তবে সঠিক নিয়মে করতে হবে। কোমর ব্যথা যদি প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তবে সারবে আর বেশি হলে সময় নিয়ে সারবে। যদি এধরনের চিকিৎসা নেওয়ার পর ব্যথা না কমে তাহলে ফিজিওথেরাপিষ্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
১। প্রথমে ব্যথা শুরু হওয়ার পর ব্যথা স্থানে নারকেল তৈল মাসিল করে গরম সেঁক দিবেন। সেঁক আপনি প্রতিদিন ৩ বার দিতে পারেন, সময় অবশ্যই ১০ মিনিটের বেশি নই, ৫ মিনিট করে ২ বারে দিতে পারেন বা টানা দিতে পারেন তবে সেঁক দেবার সময় শরীর যেমন দকল সহ্য করতে পারে তেমন গরম দিতে হবে , হিটিং পেডে বাড়ানো কমানো সুইচ থাকে। বেশি গরম অনুভূত হলে কম সময় করে দিবেন। গরম সেঁক বসে না দিয়ে চিত হয়ে শুয়ে দিলে ভালো কাজ করবে। সেঁক দেবার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন উপকরণ বাজারে পাওয়া যায়, কিছু আছে প্লাস্টিকের পেড পানি গরম করে তার ভেতরে ঢেলে তারপর সেঁক দিতে পারেন, কেউ কেউ গরম পানির মধ্যে তোয়ালে ভিজিয়ে তারপর ব্যথা স্থানে লাগানো যেতে পারে। এছাড়া বর্তমানে আধুনিক ড্রাই হিটিং পেড ও ওয়াটার হিটিং পেড (ইলেকট্রিক চালিত) কিনতে পাওয়া যায়, এটি যখন-তখন গরম হিট দিতে পারবেন। ইলেকট্রিক হিটিং পেডে সবচেয়ে ভাল দিক হলো এটি সহজে বহণযোগ্য ও হিট দিতে খুবই সহজ। এটিতে ১,২,৩ পর্যন্ত বাড়ানো – কমানো বা বন্ধ করা যায়। এটি সবচেয়ে ভাল দিকে হলো এটি ধীরে ধীরে গরম বাড়ে তাই শরীরের জন্য ভাল। আর পানি গরম করে হিট দিলে প্রথমে গরম বেশি থাকে।
২। কিছুদিনের জন্য বিশ্রামে (কমপক্ষে ৭- ২১ দিন) থাকতে হবে, বিশ্রাম নিতে না পারলে কোমরের মুভমেন্ট যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩। আপনি পূর্বে যে পেশার কাজটি করতেন তেমন ভঙ্গি পরিবর্তন ও সর্তকতা অবলম্বন করুন।
৪। প্রতিদিনের দিনযাপনে কোমরে বেল্ট (লাম্বার করসেট) ব্যবহার করবেন। বাজারে দু’ধরনের বেল্ট পাওয়া যায় (পেছনের অংশ) একটি সোজা আরেকটি বাঁকা বেল্ট, নরম টাইপের বেল্ট না কিনে শক্ত টাইপের নিতে হবে। কোমর ব্যথাই অবশ্যই সোজাটি না নিয়ে বাঁকা বেল্ট ব্যবহার করবেন। আর কোমরে বেল্ট পরার সময় আঁটসাঁট করে লাগাতে হবে, লুজ করে লাগানো যাবে না। কোমরে বেল্ট বাধার সময় যাতে কোমরের সঠিক স্থানে (লাম্বার কর্ডে/কোমরে নিচে বাঁকা অংশে) বাঁধতে হবে। ব্যথা চলাকালীন সময় পর্যন্ত ব্যবহার করবেন কিন্তু এটি সারাজীবন কোমরে ব্যবহার করা যাবে না। গোসল এবং গুমের সময় বেল্ট খুলে রাখবেন।
৫। ব্যথার মাত্রা বেশি হলে গরম ও ঠান্ডা সেঁকের (গরম সেঁক দিনে ২ বার ও ঠান্ডা সেঁক দিনে ১ বার) পাশাপশি মাসেল রিলাঙজেন ও ব্যথানাশক ট্যাবলেট, গ্যাসের/গ্যাষ্টিক ঔষধসহ খাবেন। এছাড়া যাঁদের ডায়াবেটিস বেশি তাঁরা ব্যথা কমাতে চাইলে ডায়াবেটিস
৬। ব্যথা কিছুটা কমে আসলে বেক এক্সট্রেনশনের ব্যায়াম সমূহ করবেন।
# কোবরা পোঁজ- উঁপুড় হয়ে শুয়ে দু’হাতের ওপর ভর দিয়ে আস্তে আস্তে শরীরের ঊধ্বাংশ কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত যতটুকু সম্ভব উপরের দিকে উঠাতে হবে। প্রতিবারে ১০ সেকেন্ড স্থির থাকুন, এভাবে ১০ বার করে ৩ সেট করুন।
# লেগ এক্সটেনশন- উপুড় হয়ে শুয়ে পেছনের দিকে হাঁটু না ভেঙ্গে যতটুকু সম্ভব পেছনে উঠাবেন। এভাবে প্রতিবারে প্রতি পায়ে ১০ সেকেন্ড স্থির রেখে ১০ বার করে করুন। প্রতিবারে ৩ সেট শেষ করে দু’পা উঠানোর চেষ্টা করুন,না হলে অন্যকারও সাহায্য নিতে পারেন।
# ব্রীজ পোঁজ- চিত হয়ে শুয়ে পা দু’টো নিতম্বের কাছে এনে ও হাতদ্বয় নিতম্বের পাশে রেখে শুধুমাত্র নিতম্ব ও পেট উপরের দিকে ১০ সেকেন্ড স্থির রাখুন। মনে রাখবেন এসময় পা, হাত ও মাথা মেঝে স্পর্শ করে থাকবে। এভাবে প্রতিবারে ৪ সেট করে করুন।
# স্ট্রেন্ডিং বেক এক্সটেনশন- সোজা দাঁড়িয়ে দু’হাত কোমরের পেছনে রেখে শরীরের ঊর্ধ্বাংশ আপনার পেছনে হেলিয়ে দিতে হবে। এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর আবার একইভাবে কয়েকবার করুন।
৭। কোমরের ব্যথা চলাকালীন সামনের দিকে ঝুঁকে কোন কাজ বা নিচে বসে কাজ করা যাবে না। গুম থেকে উঠার সময় হাতের ওপর ভর দিয়ে উঠতে হবে। শক্ত বিছানায় শোবেন ও কাঠের চেয়ারে বসবেন। চেয়ারে বসলে কোমরের পেছনে সার্পোট রাখতে হবে এখন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
৮। কোমর ব্যথা শুধুমাত্র চলাকালীন সময় নামাজ চেয়ারে বসে ইশারায় পড়ুন, লো কমেড ব্যবহার না করে হাই কমেড ব্যবহার করবেন।
৯। যাঁরা লম্বা সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকার কাজ করেন বা সামনে ঝুঁকে থাকেন তাঁরা কাজে পরিবর্তন আনুন।
১০। যারা নিয়মিত মোটর সাইকেল বা সাইকেল চালান তারা চালানো বন্ধ রাখুন। এবং যারা নিয়মিত গাড়ী চালান বা ঝাঁকুনি হয় এমন যানবাহনে (যথা-রিক্সা) চড়েন, সেসব বাহনে চড়া বন্ধ রাখতে হবে।

x