কোথাও মাটির স্তূপ কোথাও ময়লা আবর্জনা, ভরাট চাক্তাই খালে পানি চলাচলে বাধা

দেখে এলেন সিডিএ চেয়ারম্যান সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যদের নিয়ে

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ
1042

জলাবদ্ধতায় চাক্তাই খাল বেষ্টিত বৃহত্তর বাকলিয়ার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। গত দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওই অঞ্চলের লাখো মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, চাক্তাই খালের প্রতি দীর্ঘ অবহেলার কারণে আজ হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এত বছর পরেও চাক্তাই খালের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করা, খালে গৃহস্থালী ময়লা আবর্জনা ফেলা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তবে এরমধ্যে আশার কথা হলোইতোমধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। গতকাল সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা জর্জরিত পাঁচটি এলাকা পরিদর্শন করেন। সেগুলো হলো বাকলিয়া এলাকার মিয়া বাপের মসজিদ, খলিফাপট্টি, মাস্টারপুল, ধুনীরপুল ও বাদুরতলা। সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেনেন্ট কর্ণেল মো. রেজা গতকাল দুপুরে প্রথমে মিয়া বাপের মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা দেখতে পান চাক্তাই খালের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের মাঠি স্তুপ করে রাখা হয়েছে। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে এসব মাঠি খালে পড়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এই অংশের চাক্তাই খাল ভরে আছে কচুরিপানা, ডাস্টবিনের আবর্জনা ও নানান আগাছায়। স্থানীয় বাসিন্দা আমির আলী সিডিএ চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গত ১০ বছর ধরে এই খালটি এই রকম অবহেলায় পড়ে আছে। শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটেই পার হওয়া যায়। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঠেকাতে মাঝে মধ্যে সড়ক উঁচুকরণের কাজ ছাড়া কিছুই হয়নি। খাল পরিস্কার করলে অন্তত রাস্তায় পানি জমতো না।

এসময় সিডিএ চেয়ারম্যান তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে আর আতঙ্কে থাকতে হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা প্রকল্পের দেখভাল করছেন। আশা করি তিন বছরের মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে। তবে সেই জন্য এলাকাবাসীকেও সচেতন হতে হবে। কারণ এলাকাবাসীকেও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। কারণ তাদের মধ্যে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। তাই আমরা তাদেরকেও সতর্ক করছি। এদিকে খলিফাপট্টি ও মাস্টারপুলে দেখা গেছে, চাক্তাই খালের অভ্যন্তরেরর এক তৃতীয়াংশ জুড়ে প্রায় দুইশত ফুট দৈর্ঘ্যের মাঠির রাস্তা তৈরি করেছে সিটি কর্পোরেশন। স্থানীয়রা জানান, গত এক বছর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন খাল খনন করতে স্কেভেটর নামানোর জন্য মাঠির এই রাস্তা তৈরি করে। পরবর্তীতে খাল খনন বন্ধ হয়ে গেলেও রয়েই যায় সেই রাস্তাটি। এতে খালের পানি চলাচল চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে জলাবদ্ধতায় খলিফাপট্টি ও মাস্টারপুলের বাসিন্দারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ছেন। এসময় কয়েকজন এলাকাবাসী সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে হাতজোড় করে জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি চান। সিডিএ চেয়ারম্যানও তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া ধুনীরপুল ও বাদুরতলা এলকায় গিয়ে দেখা যায়, চাক্তাই খালের ওপর সেতু নির্মাণের ফলে খালের পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ধুনীরপুল এলকায় সেতু তৈরির জন্য চাক্তাই খালের দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ব্রিজের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঐ অংশের কাজ শেষ হলেও এখনো সেই বাঁধ কেটে ফেলা হয়নি। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবহিত করেন। এসময় আজ (গতকাল) রাতের মধ্যে সেই বাঁধটি কেটে ফেলবেন বলে সেনা কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী।

এছাড়া ধুনীরপুলের মতো একই চিত্র দেখা গেছে বাদুরতলা এলাকায়। সেখানেও নির্মাণাধীন সেতুর কারণে খালের পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হতে দেখা যায়। তবে এসময় উপস্থিত ঠিকাদার জানান, উর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে আপাতত ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাদুরতলার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আকরাম হোসেন বলেন, গত দুইদিনের বৃষ্টিপাতে যে পরিমান পানি উঠেছে, তা আমি গত ২০ বছরেও দেখিনি। আমার কথা হচ্ছে, ব্রিজের কাজ শুকনো মৌসুমে না করে বর্ষায় কেন হচ্ছে। এরফলে জনগণকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

x