কেয়া তালুকদার (নতুন প্রজন্মের সামাজিক বিকাশ)

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
22

এ যুগের ছেলে মেয়েরা নিজেরাই নিজের একটা জগৎ সৃষ্টি করে নিয়েছে। বাবা-মা, ভাই-বোনদের সাথে নিজেদের কথাগুলো শেয়ার করতে চায়না, গল্প করতে চায় না। তাদের সাথে ঘুরতে চায় না, কানে একটা হেড ফোন দিয়ে গান শোনা আর মোবাইলে ফেসবুকিং নিয়ে অবসরে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। ঘরের বাইরে শুধু স্কুল, কলেজ, কোচিং নিয়ে পড়াশুনার এক তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মা- বাবারাও এই নেশায় এতটাই ছুটছে যে তাদের সামাজিক বিকাশের দিকটাকে ভুলতে বসেছে। বড়দের দেখা হলে সালাম দেয়া, বাড়িতে মেহমান আসলে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করা, অসুস্থ পরিবারজনের সেবা করা, বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করা, গুরুজনদের সম্মান দিয়ে কথা বলা, প্রতিবেশীর বিপদে এগিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তারা যান্ত্রিকতার রোষানলে নিজেদেরকেও যন্ত্র মানব-মানবী করে গড়ে তুলছে। এর ফলে তারা খুব সহজেই অজানা কোনো বিপদের সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে, যার ফলাফল গুলো পরিবারগুলোকেই বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজের জীবনকে নষ্ট করছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। মা-বাবার সম্পর্ককে সন্তানের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করা, সন্তান কি করছে, কার সাথে মিশছে সে দিকে খেয়াল রাখা। তাদের সাথে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া। তাদের আবদার গুলোর দিকে খেয়াল রাখা, সাংস্কৃতিক কাজে অংশগ্রহণ, পাঠ্য বইয়ের বাইরে ভালো বই পড়ার অভ্যাস গঠন, পারিবারিক বন্ধনগুলোকে দৃঢ় করা, তাদের আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা দেয়া। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে ধাবিত করতে প্রতিটি পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

x