কেন বাড়ছে মশলার দাম

ক্রেতারা বলছেন সিন্ডিকেটের কারসাজি ।। বিক্রেতাদের দাবি পণ্য খালাসে বিলম্ব

জাহেদুল কবির

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
161

কোরবানি ঈদের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে মশলার দাম। কোরবানিতে মশলার অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। মূলত সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা মাংস রান্নার অত্যাবশকীয় উপাদান এলাচ, জিরা, দারচিনি, লবঙ্গ ও গোল মরিচের দাম বৃদ্ধি করছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্দর থেকে পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে বাজারে সরবাহ কমে গেছে। এছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে মশলার বাজার কিছুটা বাড়তি রয়েছে।

গতকাল চাক্তাইখাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রায় সব মশলার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। আড়তদাররা বলছেন, বাজারে মশলার সরবরাহ সংকট রয়েছে। অন্যদিকে আমদানিকারকদের দাবি সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরে ধর্মঘটের কারণে বন্দরে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়েছে। শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে পারেন নি। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। বর্তমানে পাইকারী পর্যায়ে কেজি প্রতি এলাচ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ টাকা, দারুচিনি ২৪০ টাকা, লবঙ্গ ৯০০ টাকা ও জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩২৫ টাকায়। তবে খুচরা বিক্রেতারা জানান, দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩৫০ টাকা, গোল মরিচ ৭০০ টাকা, লবঙ্গ এক হাজার ২৮০ টাকা ও এলাচ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহে ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে এসব মশলার দাম বেড়েছে কেজিতে ৭০ টাকা থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। কাজির দেউরি বাজারের খুচরা বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, আমদানিকারকদের কাছ থেকে আমাদের বেশি দামে মশলা কিনতে হয়। তাই পণ্যের দাম বেশি। আমরা সীমিত মুনাফায় ব্যবসা করি।

খাতুনগঞ্জের কয়েকজন আড়তদার জানান, আমাদের দেশে প্রায় সব ধরনের মসলা আমদানি করতে হয়। স্বাভাবিকভাবে কোরবানির সময় মশলার চাহিদা বেড়ে যায়। তাই অনেক সময় বাজারে মশলার সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। এছাড়া চাহিদার তুলনায় আমাদের আমদানিকারক কিন্তু বাড়ে না। দেশে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী মশলা আমদানি করেন। তাই মশলার বাজার অনেক সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাক্তাইখাতুনগঞ্জ সাধারণ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার দরের অনুপাতে মশলার বাজার বাড়েনি। তাছাড়া মশলার আমদানি খরচ আমাদের প্রতিবেশি যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তারমধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরের সমস্যার কারণে আমদানিকারকদের জরিমানা দিতে হচ্ছে। সেই জরিমানার অংকটাও পণ্যের আমদানি খরচের সাথে যুক্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে মশলা আমদানিতে শুল্ক দিতে হয় প্রায় ৬১ শতাংশ। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তানে এটি ২০ শতাংশের বেশি নয়। ফলে ভারতের আমদানিকৃত মশলা চোরাইপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বীকার করে খাতুনগঞ্জের মশলা আমদানিকারক আবু মোহাম্মদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, মশলার বাজার এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল আছে। বাজারে তেমন ক্রেতা নেই। এ বছর মশলার দর বাড়বে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খাতুন ট্রেড এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, আমাদের দেশে মশলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক হওয়ার কারণে প্রায় মশলা চোরাইপথে আসে। ফলে মশলার দাম কখনো স্থিতিশীল থাকে না। মশলার বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় চোরাকারবারীদের হাতে। তারা বিভিন্ন উপলক্ষ আসলে দাম বাড়ায়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও মশলার দাম বাড়তি আছে। এছাড়া কৃষিজাত পণ্যের আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) নিতে হচ্ছে ঢাকা থেকে। এতে আমদানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লেও সেটি বর্তমান ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে মানানসই নয়। কারণ বন্দরের জেটির সংখ্যা আরো বেশি বাড়ানোর দরকার।

x