কেন বারবার অবহেলিত চট্টগ্রাম

মনজুড়ানো আবৃত্তি অনুষ্ঠান

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ২৯ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
47

আগস্ট শেষ হয়নি, তাই এখনো চলছে শোকদিবসের অনুষ্ঠান। যার বেশিরভাগই পুনপ্রচার করা হচ্ছে। এমনই একটা অনুষ্ঠান কবিতায় শুনি হৃদয়ের ধ্বনি।
গত ২১ আগস্ট পুনপ্রচারিত অনুষ্ঠানটিতে শুধু বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতাই নয়, আবৃত্তি করা হয়েছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের কবিতাও। সবকটি কবিতা শ্রুতিমধুর না হলেও বেশ কয়েকটি আবৃত্তি মনজুড়ানো। অনুষ্ঠানে আয়েশা হক শিমু আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’, রাশেদ হাসান আবৃত্তি করেন সৈয়দ শামসুল হকের ‘মুজিব! মুজিব!’, শ্রাবণী দাশ গুপ্তা আবৃত্তি করেন রফিক আজাদের ‘এই সিঁড়ি’, শুভাশীষ শুভ আবৃত্তি করেন মহাদেব সাহার ‘ শেখ মুজিব আমার নতুন কবিতা’, দিলরুবা খানম আবৃত্তি করেন শামসুর রাহমানের ‘অভিশাপ দিচ্ছি’, কঙ্কন দাশ ও বিশ্বজিৎ পাল আবৃত্তি করেন ‘সেই কালরাত্রির কাহিনি’, মুজাহিদুল ইসলাম আবৃত্তি করেন মহাদেব সাহার ‘কফিন কাহিনি’ এবং মিলি চৌধুরী আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণের ‘রাজদণ্ড’। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অজান্তা দাশ, প্রযোজনা করেছেন সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নী।
গংবাদ নিয়ে বিটিভির বদনাম, দুর্নাম সেই আশির দশক থেকে। শুধু সরকারের গুণগান ছাড়া অন্য কোনো সংবাদ না থাকায় যার কারণে এই টেলিভিশনকে নানা সময়ে নানা নামে অভিহিত করেছেন দর্শকরা। পওে বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচারে এলে দেশের মানুষ বিটিভির সংবাদ ও বিটিভি দেখা একপ্রকার ছেড়েই দেন। বিরক্তিটা কোন পর্যায়ে পৌঁছলে মানুষ কোনো কিছু থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় সটো সহজেই অনুমেয়। বিটিভি চট্টগ্রামও সে পথ থেকে চুল পরিমাণ বিচ্যুত হয়নি। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল রাষ্ট্রের পরিচালকদেও খবর প্রকাশ করবেন এটাই স্বাভাবিক। সরকারি চ্যানেল হিসেবে মাননীয় মন্ত্রী-এমপিদেও সংবাদ প্রকাশ-প্রচার করতে হবে- এটার কোনো বিকল্প অপশন হয়তো নেই কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশাটাই সৃজনশীলতার। সাংবাদিক তার সৃজনশীলতা দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় কওে নেবেন এটাই তার গুণ। সেই গুণ যখন কেউ প্রকাশ করতে পারেন না, এটা একান্তই তার দুর্বলতা। বিটিভি চট্টগ্রামে প্রতিদিন স্ক্রলে সংবাদের শিরোনাম প্রচার করা হয়। রাত ৯টায় প্রচার করা হয় আলাদা শিরোনামও। কিন্তু সেসব শিরোনামে চট্টগ্রাম এতটাই গৌণ যে, খালি চোখে সেটা দেখাই যায় না। দেখে মনে হতে পারে, চট্টগ্রামে সংবাদ হওয়ার মতো কোনো ঘটনাই ঘটে না। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টা শিরোনামের মধ্যে চট্টগ্রামের খবর থাকে কালেভদ্রে। উপরের লোগোতে চট্টগ্রাম শব্দটা লেখা না থাকলে চ্যানেল চট্টগ্রামের না ঢাকার তা বোঝার কোনো উপায় নেই। বিটিভি চট্টগ্রাম চ্যানেলটি চট্টগ্রামের বাইরে দেখা যায় না। আবার চট্টগ্রামে দেশের অন্যান্য সব চ্যানেল দেখা যায়। জাতীয় সংবাদেও সব খবচর সেখান থেকেই পাওয়া যায়। এরপরও সেই একই খবর যখন বিটিভি চট্টগ্রামে প্রচার করা হয় তখন চ্যানেলটির সংবাদ বিভাগের চরম দুর্বলতাই ফুটে ওঠে। একটি রাষ্ট্রীয় চ্যানেলের এমন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এত দুর্বল এটা ভাবাই কষ্টকর। আবার অন্যভাবে এ কথাও অনেক দর্শক বলেন, চ্যানেলের শীর্ষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লোক না থাকায় তাদেও মধ্যে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী একটা ভাব কাজ করে। সে কারণেই হয়তো বারবার নানাভাবে চট্টগ্রামকে বঞ্চিত করার একটা মনোভাব তাদেও মধ্যে কাজ করে। তবে লোকমুখের সেসব অভিযোগ আমরা তুলে ধরতে চাই না। আমরা আশা করবো, শুধু সংবাদ বা শিরোনাম নয়, সবক্ষেত্রেই চট্টগ্রাম প্রাাধান্য পাবে চট্টগ্রামবাসীর চ্যানেলে।

x