কেউ কিনছেন তলই, খারাং কেউ দা-বটিতে শান

শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
51

একদিন পরেই ঈদুল আজহা। ওইদিন সামর্থবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন। কোরবানিতে পশু কেনার পাশাপাশি কিনতে হয় কোরবানির পশুর মাংস প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে পশু খাদ্যের পাশাপাশি সংগ্রহ করছেন তলই, ছেঁদি, খারাং কিংবা লাই। নতুন দা বটি ছুরির সাথে পুরোনো দা বটিতেও শান দিয়ে নিচ্ছেন কোরবানিদাতা পরিবারগুলো। কোরবানি দাতাদের এসব চাহিদা মেটাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমী এসব পণ্য। অন্যদিকে কোরবানির দিন পর্যন্ত পশু পালনের জন্য গোখাদ্য হিসেবে প্রয়োজন পড়ে শুকনো খড়ের। হঠাৎ চাহিদা তৈরি হওয়ায় নগরে খড়ের দামও অত্যধিক। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গ্রামাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে নগরে এনে খড় বিক্রি করছে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যে।
নগরীর বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা গেছে, জনবহুল এলাকাগুলোতে বসেছে কোরবানির মৌসুমী এসব পণ্যের পসরা। তবে কোরবানির ১০/১৫ দিন আগে থেকেই দা, বটি, ছুরি, চাপাতি শান দেয়ার কাজ সেরেছেন কোরবানিদাতারা। অনেকে আবার নতুন করে এসব ধারালো সরঞ্জাম কিনছেন। কোরবানি এলে এসব পণ্যের চাহিদার কারণে দামও বেড়ে যায় কয়েকগুণ হারে। নগরীর কাজীর দেউরি মোড়ে দেখা গেছে, মোড়ের চারিদিকে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ছেঁদি (কাঠের গুঁড়ি), খারাং কিংবা লাই (এক প্রকার টুকরি), তলই বিক্রি করছেন। একই চিত্র বহদ্দারহাট, ষোলশহর রেলগেইট, নাসিরাবাদ ২নং গেইট, ওয়াসা মোড়, বহদ্দারহাট, সদরঘাট, কদমতলী, সল্টগোলা, বন্দরটিলা, অলংকার, একে খান, বারিক বিল্ডিং, চকবাজার এলাকাতেও। গোখাদ্য হিসেবে খড়ের ব্যবসাও চলছে সমান তালে। নগরীর চকবাজার এলাকা থেকে শুকনো খড় কিনছেন বাকলিয়া এলাকার আকমল হোসাইন। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে বিবিরহাট থেকে গরু কিনেছি। রাতে ভুষি খাওয়ালেও খড় খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। শহরে ভুষি পাওয়া গেলেও খড় পাওয়া যায় না। তাই চকবাজার থেকে খড় কিনতে এসেছি। কোরবানির সুযোগে দাম অনেক বেশি নিচ্ছেন এসব পণ্যের ব্যবসায়ীরা। তিনি জানান, ছোট্ট এক আঁটি খড় নিয়েছেন একশ’ টাকায়।
ওয়াসা মোড়ের জসিম নামের এক মৌসুমী ব্যবসায়ী জানান, তিনি গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। প্রতিবছর কোরবানিতে খড়, কাঠের গুঁড়ি, তলইয়ের ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, দুইজন লোক দুইদিন কষ্ট করি। কিছু লাভতো করতে হয়। আগে অল্প মানুষে এসব ব্যবসা করতেন। এখন ব্যবসায়ী বেড়ে গেছে। তাই অল্প লাভেই বিক্রি করতে হয়।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছুরি, বটি ও চাপাতি ১২০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে গাছের গুঁড়ি (ছেঁদি) ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, লাই ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, তলই ১৫০ টাকা থেকে ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

x