কুলদীপ-রোহিতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দারুন জয় ভারতের

শনিবার , ১৪ জুলাই, ২০১৮ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ
30

ট্রেন্ট ব্রিজে ফিরে এল যেন দিন দশেক আগের ওল্ড ট্র্যাফোর্ড। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পড়ল প্রথম টিটোয়েন্টির ছায়া। আবারও কুলদীপ যাদবের জাদুকরী বোলিংয়ে মিইয়ে গেল ইংল্যান্ডের বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইন আপ। রান তাড়ায় এবারও অপরাজিত সেঞ্চুরি করলেন ভারতের একজন। বদলে গেল স্রেফ ব্যাটসম্যানটি। টিটোয়েন্টিতে ছিলেন লোকেশ রাহুল, এবার রোহিত শর্মা। ম্যাচের ফলও ঠিক একই। টিটোয়েন্টির মতোই ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে ভারত শুরু করল ওয়ানডে সিরিজ। এগিয়ে গেল তিন ম্যাচের সিরিজে। যে ট্রেন্ট ব্রিজে কদিন আগেই ৪৮১ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড, আগের রেকর্ড ৪৪৪ রান করেছিল যে মাঠে, সেখানেই এবার তারা আটকে গেল ২৬৮ রানে। ইংলিশ ব্যাটিং খাবি খেল কেবল একজনের বোলিংয়েই। ১০ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ। বাঁহাতি স্পিনে ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা বোলিং। রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কাছে পাত্তাই পায়নি ইংলিশ বোলিং। জিতেছে তারা ৪০.১ ওভারেই। ১১৪ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন রোহিত।

যদিও প্রথমে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডকে যথারীতি ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। ১০ ওভারে দলকে এনে দেন ৭১ রান। একাদশ ওভারে কুলদীপ বল হাতে নিতেই পাল্টে যায় চিত্র। নিজের প্রথম তিন ওভারেই তুলে নেন তিন উইকেট। প্রথমটি ছিল উপহার। রিভার্স সুইপে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৫ বলে ৩৮ রান করা রয়। পরের দু্‌ই উইকেট দারুণ দুটি ডেলিভারিতে। রয়ের মতো ঠিক ৩৫ বলে ৩৮ রান করেই বেয়ারস্টো আউট গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে। স্পিনে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা জো রুটও আটকা কুলদীপের স্পিন মায়াজালে । সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই আরেক রিস্ট স্পিনারের আঘাত। ওয়েন মর্গ্যানকে ফেরান যুজবেন্দ্র চেহেল। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জস বাটলার অবশ্য খেলেছেন স্বচ্ছন্দে। জুটিতে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন বেন স্টোকস।

যদিও সহজাত আগ্রাসী স্টোকস এদিন ছিলেন নিজের ছায়া। স্ট্রাইক বদলাতেই ধুঁকছিলেন। প্রথম বাউন্ডারি মারেন ৩৭তম বলে, তার আগের ৩৬ বলে রান ছিল ৮। তবে বাটলার ও স্টোকসের জুটি উদ্ধার করে ইংল্যান্ডকে। ৯৩ রানের এই জুটিও ভেঙেছেন কুলদীপ। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আউট করেন ৫১ বলে ৫৩ রান করা বাটলারকে। ফিফটি করতে স্টোকসের লেগে যায় ১০২ বল। তাকে ফিরিয়েই কুলদীপ স্বাদ পান ওয়ানডেতে প্রথম ৫ উইকেটের। পয়েন্টে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন সিদ্ধার্থ কৌল। ওই ওভারেই ডেভিড উইলিকে ফিরিয়ে পান ষষ্ঠ উইকেট। শেষ দিকে মইন আলির ২৩ বলে ২৪ ও আদিল রশিদের ১৬ বলে ২২ রানে ইংল্যান্ড যেতে পারে ২৬৮ পর্যন্ত। ভারতের মূল বোলারদের সবাই ছিলেন খরুচে, কেবল কুলদীপের জবাব পায়নি ইংলিশরা।

রান উৎসবের মাঠে ওই স্কোর নিয়ে লড়াইও করতে পারেনি ইংলিশরা। ২৭ বলে ৪০ রান করে ঝড়ের শুরু করেছিলেন শিখর ধাওয়ান। দ্বিতীয় উইকেটে ১৬৭ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান রোহিত ও বিরাট কোহলি। রান তাড়ায় বরাবরই দুর্দান্ত এই দুই ব্যাটসম্যানের সামনে ইংলিশ বোলারদের মনে হয়েছে অসহায়। ৫৪ বলে ফিফটি করেন রোহিত, ৫৫ বলে কোহলি। থিতু হওয়ার পর ঝড় তোলার ধারবাহিকতা ধরে রেখে রোহিত সেঞ্চুরি করে ফেলেন ৮২ বলেই। এটি তার ১৮তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি । সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল কোহলিরও। কিন্তু ৮২ বলে ৭৫ করে আউট হয়েছে বিরল ভাবে। ৭ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হয়েছেন স্টাম্পড। আদিল রশিদের ডেলিভারিটি ছিল দারুণ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৩৭১ ইনিংসে মাত্র তৃতীয়বার স্টাম্পড হলেন কোহলি। ২০১০ সালের এশিয়া কাপে হয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে। লোকেশ রাহুলকে নিয়ে বকি পথটুকু পাড়ি দিয়েছেন রোহিত। ১৫ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ১১৪ বলে ১৩৭ রানে। এর পরও এদিন রোহিত পার্শ্বনায়ক, কুলদীপের বোলিং ছিল এতটাই অসাধারণ। ম্যাচের সেরা এই চায়নাম্যান বোলারই।

x