কুলগাঁওয়ে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে অর্থ ছাড়

শীঘ্রই ভূমি অধিগ্রহণ

মোরশেদ তালুকদার

বুধবার , ২৬ জুন, ২০১৯ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ
292

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পসহ অনুদান খাতে ১৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে একশ ত্রিশ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা অনুদান খাতে দেয়া হচ্ছে। গতকাল এ অর্থ ছাড় করা হয়।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে গৃহীত প্রকল্পটি গত বছরের অক্টোবর মাসে ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। প্রকল্পটির আওতায় ৭৫৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় নগরীর ৯৮৩টি সড়কের উন্নয়ন করা হবে। যার দৈর্ঘ্য ৩৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এছাড়া এপ্রোচ রোড উন্নয়নসহ ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকায় নির্মাণ করা হবে ৩৭টি ব্রিজ ও কালভার্ট। প্রকল্পের আওতায় কুলগাঁওয়ে নির্মাণ করা হবে একটি বাস-ট্রাক টার্মিনাল।
প্রকল্পটির আওতায় অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে আমরা জানিয়েছি। এটার কাজ চলছে।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় সড়ক সংস্কারে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি লটের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আরো ৩০টি লটের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা। দীর্ঘদিন ধরেই নগরীতে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের দাবি ছিল বিভিন্ন মহলের। বন্দর থাকায় চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার ছোট-বড় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি আসা-যাওয়া করে। এর সঙ্গে আছে তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজারসহ আন্তঃজেলার যানবাহন। টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হতো। এমন পরিস্থিতিতে চসিক মেয়র ট্রাক টার্মিনালের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় বায়েজিদের অক্সিজেন এলাকার কুলগাঁওয়ে এ বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গায়। এ জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া জমির উন্নয়ন বাবদ ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, বাস-ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ম্যাচিং ফান্ডের শর্ত ছাড়াই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। এতে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। প্রকল্পের ডিপিপিতে জিওবি ফান্ডে ৯৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং ২৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা চসিকের নিজস্ব ফান্ড থেকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সিটি মেয়রের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি জিরো ম্যাচিং ফান্ডে করে দেন। ফলে এ প্রকল্পে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার। এছাড়া এর আগে একনেকে অনুমোদিত চসিকের সবচেয়ে বড় আকারের প্রকল্প ছিল ৭১৬ কোটি টাকায়।

x