কুর্দি মিলিশিয়ারা ছাড়লে মানবিজে তুরস্কের কোনো কাজ নেই: এরদোয়ান

সোমবার , ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
52

কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনী চলে গেলে সিরিয়ার মানবিজ শহরে তুরস্কের আর কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান। খবর বিডিনিউজের। গত শুক্রবার সিরিয়ার সেনাবাহিনী মানবিজে প্রবেশ করার কথা জানানোর কয়েক ঘন্টা পর তিনি এ মন্তব্য করেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। কুর্দি ওয়াইপিজি মিলিশিয়াদের হটিয়ে দিতে মানবিজে আক্রমণ চালানোর হুমকি দিয়েছিল তুরস্ক, ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে তারা। তুরস্কের হুমকির মুখে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা কুর্দি মিলিশিয়ারা সেখান থেকে চলে গিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ সিরীয় সেনাবাহিনীর হাতে ছেড়ে দেয়।
এরপর শুক্রবার এরদোয়ান ইঙ্গিত দেন, মানবিজে অভিযান চালানোর বিষয়ে তুরস্কের কোনো তাড়া নেই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের এরদোয়ান বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে, সিরিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি এখনও আমাদের সমর্থন আছে। এগুলো সিরিয়ার এলাকা। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ওই এলাকা ত্যাগ করলে, সেখানে আমাদের করার আর কিছু থাকে না। তিনি আরও বলেন, এটা শুধু মানবিজ নিয়ে নয়, ওই অঞ্চলের সব সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।
তুরস্কের হামলার হুমকি থেকে মানবিজকে রক্ষায় দামেস্ককে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ওয়াইপিজি। এরপর শুক্রবার সকালে সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তারা মানবিজ শহরে প্রবেশ করেছে। মানবিজে তুরস্কের সেনাদের নতুন করে হামলার আশংকার মধ্যেই সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নেয় সিরীয় বাহিনী, কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এসব মন্তব্যে সে আশংকা অনেকটাই দূর হল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াইপিজি কুর্দিদেরকে সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সেনা ফেরানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করার পরই যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি যোদ্ধারা মানবিজ ছাড়ে। ট্রাম্প গত সপ্তাহে সিরিয়া থেকে ২ হাজার মার্কিন সেনা ফেরানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) পরাজিত হয়েছে যুক্তিতে তিনি সেনা ফেরানোর এ সিদ্ধান্ত জানান। কিন্তু মার্কিন সেনা সরে গেলে আবার সিরিয়ায় আইএস এর উত্থান ঘটার আশঙ্কায় অনেকেই সেখানে সেনা রাখার পক্ষপাতি। আইএস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা কুর্দিরা ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসাবেই প্রত্যক্ষ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারিয়ে এ কুর্দিরা এখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও সিরিয়ার সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মেনে নিচ্ছে।

x