কুতুপালং বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
28

কুতুপালং শরণার্থী শিবির এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির। এর আগে ১ নম্বর অবস্থানে ছিল কেনিয়ার দাবাব শরণার্থী শিবির। সাড়ে ছয় হাজার একর পাহাড়, টিলা ও সংরক্ষিত বনভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ মেগা শিবিরে প্রায় নয় লাখ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর বসবাস।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আনত্মর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রেপটিমের এক র‌্যাংকিংয়ে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কঙবাজারের কুতুপালং শিবিরে বর্তমানে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৭৭৮ শরণার্থী অবস্থান করছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের মুসলিম জনগোষ্ঠী। রাখাইনে কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও দেশটির সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের উগ্র সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে সেনাবাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ শুরু করলে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
তালিকায় ২য় অবস্থানে রাখা হয়েছে উগান্ডার বিডি শরণার্থী শিবিরকে। এ শিবিরে অবস্থান করছে দক্ষিণ সুদানের গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা ২ লাখ ৮৫ হাজার শরণার্থী। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ওই গৃহযুদ্ধ এখনো চলছে। ৩ নম্বরে রয়েছে কেনিয়ার দাবাব শরণার্থী শিবির। ২ লাখ ৩৫ হাজার শরণার্থী ধারণ করছে শিবিরটি। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে তারা পালিয়ে এসেছেন এখানে। কেনিয়ার কাকুমা এবং তানজানিয়ার নায়ারুগুসুতে রয়েছে ৪র্থ ও ৫ম অবস্থানে। ফিলিসিত্মনের গাজায় ১৯৪৮ সালে চালু হওয়া জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরটি সবচেয়ে পুরনো। আকারের দিক থেকে এটি বিশ্বে ৬ষ্ঠ। এছাড়া আশির দশকে আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধের সময় চালু হওয়া পাকিস্তানের পানিয়ান শরণার্থী শিবিরটি এখনো সচল। তালিকার ১১ নম্বরে থাকা শিবিরটিতে রয়েছে ৬২ হাজার শরণার্থী।
কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমানত্ম সংলগ্ন উখিয়ার কুতুপালংয়ের বিশ্বের এ বৃহদায়তনের মেগা উদ্বাস্তু শিবিরের একাংশে ১৯৯২ সাল থেকে অবস্থান করছে ৩১ হাজারের মতো নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী। এরপর ২০০৮, ২০১০, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে বিচ্ছিন্নভাবে রাখাইন থেকে এখানে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় আরো ৬০ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর আসা প্রায় সাত লক্ষ চলিস্নশ হাজার রোহিঙ্গার অধিকাংশেরই বসবাস কুতুপালং মেগা উদ্বাস্তু শিবিরে।

- Advertistment -