কীভাবে ব্যবসা শুরু করবেন?

শাব্বির আহমেদ তামীম

সোমবার , ৮ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:৩২ অপরাহ্ণ
728

সবাই চান ব্যবসা শুরু করতে কিন্তু নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে বেশ কিছু জিনিস করতে হবে যা আপনার ব্যবসায়িক সফলতাকে বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ।
(১) মার্কেট রিসার্চ : বাংলাদেশে আমরা নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করার আগে কোনো মার্কেট রিসার্চ সাধারণত করতে চাই না কিন্তু যে ব্যবসা করবেন তার সম্পর্কে একটু বাজার যাচাই করলে ব্যবসায় আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেশি থাকবে আর প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে আপনার একটা ভালো ধারণা থাকবে।
(২) ব্যবসার পরিকল্পনা : সুন্দর একটি ব্যবসার পরিকল্পনা আপনার দরকার নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করার আগে। ইন্টারনেট থেকে পছন্দমতো ব্যবসার পরিকল্পনা দেখে সাজিয়ে নিন আপনার পরিকল্পনা আর এগিয়ে থাকুন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে।
(৩) মূলধন যোগাড় : ব্যবসার মূল উপকরণ মূলধন। মূলধন কীভাবে যোগাড় করবেন সেই সম্পর্কে আগে থেকেই আপনার চিন্তাভাবনা করে রাখতে হবে। আপনি নিজে মূলধন দেবেন নাকি আরো অংশীদার নিয়ে টাকা যোগাড় করবেন সেই পরিকল্পনা রাখতে হবে। ব্যবসার শুরুতে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। ফান্ডের জন্য এখন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে মূলধন যোগাড় করার সুযোগও আছে। তাই আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করে রাখতে হবে।
(৪) ঠিকানা: ব্যবসা শুরু করলে অবশ্যই আপনার অফিস দরকার হবে। কোথায় কত বড় আকারের অফিস নেবেন, কতজন বসবেন এসব বিবেচনা করে আপনার অফিস ঠিকানা নির্ধারণ করতে হবে। এখন শেয়ারিংয়ে অনেক কম খরচে অফিস নেয়া যায়। এছাড়া শুরুতে খরচ কমানোর জন্য কোওয়ার্কিং অফিসও ব্যবহার করতে পারেন।
(৫) আকার নির্ধারণ : আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানাধীন, অংশীদারি বা লিমিটেড হবে সেই বিষয়ে আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে। এখন অনেকে আবার সামাজিক কিংবা অলাভজনক ব্যবসাও করে থাকেন।
(৬) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম : ব্যবসা শুরু করার আগে আপনার পণ্যের/সেবার সাথে মিলিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুন্দর নাম নির্ধারণ করতে হবে। এর জন্য ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে পারেন।
(৭) রেজিস্ট্রেশন : ব্যবসা যদি ব্যক্তি মালিকানাধীন হয় তবে আপনাকে সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। আর যদি লিমিটেড বা অংশীদারি হয় তবে জয়েন্ট স্টক থেকে ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। আর বিদেশী অংশীদারিত্ব থাকলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে।
(৮) আয়কর ও লিগ্যাল ডকুমেন্টেশন : ব্যবসা শুরু করার সময় ব্যক্তি বা প্রত্যেক অংশীদারের আয়কর রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আর যদি আপনি আমদানি ও রপ্তানিকারক হন তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আপনাকে আমদানি-রপ্তানির সনদপত্র ও চেম্বার সনদপত্র গ্রহণ করতে হবে।
(৯) ব্যাংক একাউন্ট : ব্যবসা শুরুর সময় অবশ্যই আপনার ব্যাংক একাউন্ট করতে হবে। ব্যবসার সমুদয় অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। ব্যাংক লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ব্যাংক ঋণ দেয়া হয়। তাই ব্যাংক একাউন্ট খুব জরুরি।
(১০) লোগো নির্ধারণ : লোগো আপনার ব্যবসার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। লোগো দেখে ব্যবসার ধরন বুঝা যায়। তাই আপনার পণ্যের বা সেবার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুন্দর লোগো নির্বাচন করুন। এজন্য অভিজ্ঞ ডিজাইনারের সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন।

লেখক: বিনিয়োগ বিশ্লেষক, satamim79@gmail.com

x