কাস্টমসের রাসায়নিক নমুনার গুদামে আগুন

ভাগ্যক্রমে বড় বিপদ থেকে রক্ষা

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
73

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নমুনা শাখার সংরক্ষিত রাসায়নিক নমুনার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কাস্টমসের নমুনা শাখার সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ নমুনা শাখার একটি কক্ষ থেকে ধোঁয়া বেরুতে থাকে। কক্ষটিতে রয়েছে মিথানল, এসিটন, পারঅক্সাইড এবং গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা ধরনের দাহ্য পদার্থ। এসময় নমুনা শাখা, পরীক্ষাগারসহ আশপাশের সবাই আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে যান। আগুনের শিখা সেভাবে দেখা না গেলেও ফায়ার সার্ভিস এসে আশপাশে পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনেকেই এসময় বলতে থাকেন ভাগ্যক্রমে বড় বিপদ থেকে রক্ষা হয়েছে। ইতোমধ্যেই নমুনা শাখা থেকে অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ অপসারণ শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস রাসায়নিক পরীক্ষাগারের ইনচার্জ আবদুল হান্নান দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় রাসায়নিক নমুনার গুদামে আগুন কিংবা বিস্ফোরণের ঝুঁকির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কারণ রাসায়নিক গুদামে এমন অনেক ভয়ঙ্কর দাহ্য পদার্থ আছে, যেগুলো কক্ষের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে একটু বেশি হলেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে। নমুনার গুদামে গত ১০ বছরের পুরনো রাসায়নিক দাহ্য পদার্থও আছে। অনেকগুলো আবার প্লাস্টিকের ব্যাগ কিংবা পাত্রে রাখা। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকায় অনেক রাসায়নিক গলে গিয়ে আরেকটি রাসায়নিকের সাথে মিশে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব রাসায়নিক সরানো না হলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
নমুনা শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ভয়াবহ বিপদ থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। কারণ নমুনা শাখার কোনো আলাদা ভবন না থাকায় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের পাশে নমুনা সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এছাড়া নমুনা শাখার উপরে রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ব্যাকআপ সার্ভার কন্ট্রোল রুম। অন্যদিকে নিচতলায় রয়েছে সোনালি ব্যাংক কাস্টম হাউস শাখা এবং কাস্টমসের রপ্তানি শাখার অফিস। সর্বশেষ ২০০৮ সালের শেষের দিকে একবার কাস্টমসে নমুনা শাখার অপ্রয়োজনীয় নমুনা ধ্বংস করা হয়। তবে এরপর থেকে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাস্টমে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কেউ এই বিষয়ে নজর দেননি। ফলে নমুনা জমতে জমতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বন্দর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন, রাসায়নিকের সংমিশ্রন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আমরা যখন পৌঁছি তখন চারিদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিলো। পরে পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরিত্যক্ত রাসায়নিক থেকে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা এসব রাসায়নিকের নমুনা ইতোমধ্যে সরানোর কাজ শুরু করেছি। ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি।

x