কাল আজ কাল

রক্তাক্ত আগস্টে সরব  ১/১১ কুশীলবরা

কামরুল হাসান বাদল

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
186

আগস্ট এলেই কেন যেন ঘাতকরা সরব হয়ে ওঠে বাংলাদেশে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাকান্ডে হত্যা করা হয়েছিল জাতির জনককে সপরিবারে। সে সঙ্গে তাঁর ভাগিনা শেখ মনি, তাঁর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত তার শিশু সন্তানসহ অনেককে। শেখ হাসিনা এবং রেহেনা দেশের বাইরে ছিলেন বলে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে বঙ্গবন্ধুর বেঁচে থাকা দুকন্যার অন্যতম শেখ হাসিনাকেও হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল তাও আগস্টে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভেনিউতে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বিএনপি জামায়াত সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। সেদিনও শেখ হাসিনা বেঁচে গিয়েছিলেন অলৌকিকভাবে। ঘাতকরা আগস্ট মাসকে কেন বেছে নেয় বারবার সে কথা বুঝি না। এবারের আগস্টেও তেমন একটি ষড়যন্ত্র দানা বেঁধে উঠতে চেয়েছিল। সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে এবারও ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি। তবে আপাতত ব্যর্থ হলেও এই ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে। থাকবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত।

১৯৭৫ সালের আগস্ট এবং ২০১৮ সালের আগস্ট দুটোর মধ্যে ছোট্ট একটি ‘কোইন্সিডেন্স’ ঘটেছে। দুটো ঘটনার পেছনেই মানুষ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছে। দুটো ঘটনার প্রধান আলোচিতজন একই দেশের রাষ্ট্রদূত আর দুটি ঘটনাই দাওয়াত তথা ঘরোয়া আয়োজনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে। একটি ঘটনা এই আগস্টে সুজন এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাসায় অন্যটি ঘটেছিল ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাকের পল্টনের বাসায়। এবার বদিউল আলমের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাকের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন আমেরিকার তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জন বুস্টার। দুটি দাওয়াতেই দু রাষ্ট্রদূত গিয়েছিলেন অত্যন্ত গোপনে।

সেদিন বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে কী ঘটেছিল এবং এবারের আগস্ট ষড়যন্ত্রটি কেমন ছিল তা একটু আলোচনা করা যাক।

২৯ জুলাই রোববার দুপুরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা রেডিসন ব্লু হোটেলের পাশ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল। তাদের মধ্যে অনেকে বাসের জন্য ফুটপাতে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়েছিল। এমন সময় সেখানে জাবালে নুর পরিবহনের একটি বাস এসে থামে। সে বাসে ওঠার চেষ্টা করে অনেক শিক্ষার্থী। ঠিক একই সময়ে একই পরিবহনের আরেকটি বাস অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে ফুটপাতের গাছসহ তার ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দিয়ে ফুটপাতের দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় সেই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে। একই ঘটনায় আরও ১৩ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। সহপাঠীদের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি শাজাহান খানকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি সম্প্রতি ভারতে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তার সঙ্গে উক্ত দুর্ঘটনার তুলনা করেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময় মন্ত্রীর হাসি এবং ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রাজধানীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। এই আন্দোলন দ্রুতই দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে।

গণপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নৈরাজ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে দেশের কোটি কোটি ভুক্তভোগী জনগণের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের ওই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন চলাকালে একদিকে সক্রিয় হয়ে ওঠে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং অন্যদিকে সুশীল বলে পরিচিত, তৃতীয় ধারা সৃষ্টিকারী বলে দাবিদার কিন্তু ১/১১ এর সেই পুরনো কুশীলবরা বিএনপিজামায়াতসহ দক্ষিণপন্থি দলগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে এই আন্দোলনে ঢুকে পড়ে। তাদের মতো একই আচরণ করে দেশের বামপন্থি রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো। আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি টেলিফোন সংলাপ ফাঁস হয়ে যায়। সেখানে তিনি তাঁর পরিচিত এক তরুণকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন ঢাকায় তাদের দলের ছেলেদের জড়ো করে আন্দোলনে ঢুকে পড়তে। সে সময় তিনি একাজে ফেসবুক ব্যবহারের পরামর্শও দিচ্ছিলেন। ঢাকাচট্টগ্রামের রাজপথে তখন হাজার হাজার শিশু শিক্ষার্থী। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন দেশের শান্তিকামী মানুষ উৎকন্ঠায় দিন অতিবাহিত করছে তখন বিএনপিজামায়াতশিবির ও বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে নানা প্রকার গুজব সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তোলে। সংঘাতময় করে তোলে। বিএনপি জামায়াত এবং আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি শিশু আন্দোনকারীদের কাঁধে বন্দুক রেখে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা শিকারের অপচেষ্টায় মেতে ওঠে। তৈরি হতে থাকে নানা প্রকার গুজব, ষড়যন্ত্র। এই আগস্টেই তারা আরেকটি রক্তাক্ত অধ্যায় সৃষ্টি করার মরণখেলায় মেতে ওঠে। সক্রিয় হয়ে ওঠেন তৃতীয় ধারার প্রবক্তা ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, আসিফ নজরুল, ডা. জাফরুল্লাহ এবং সুজনের ড. বদিউল আলম মজুমদার। এমনকি কীভাবে সরকারের পতন হবে, তারপর ক্ষমতায় কারা যাবেন এবং তারেক রহমান কোনদিন এবং কীভাবে দেশে ফিরবেন তারও একটি নীলনক্সা তৈরি করে ফেলে ওরা।

আন্দোলনকারীদের নয় দফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, উক্ত কলেজকে বাস প্রদান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে গতি প্রতিবন্ধক তৈরিসহ প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, আইন পাসের প্রতিশ্রুতি, আন্দোলনকারীদের প্রতি সদয় আচরণ করার ঘোষণা কোনো কিছু দিয়েও আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরানো যাচ্ছিল না। তার কারণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যেতে চাইলেও তাদের সে উপায় তখন ছিল না। কারণ আন্দোলনের নেতৃত্ব ততক্ষণে জামায়াত বিএনপি ক্যাডারদের হাতে চলে গেছে। তারা পরিকল্পনা করেছিল শিশুদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাস্তায় রেখে লাগাতার অবরোধ করে ঢাকাকে অচল করে ১/১১ মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি করা। তার লক্ষে তারা নানা প্রকার গুজব রটিয়ে দেয় এবং আওয়ামী লীগের অফিস আক্রমণের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গ সংগঠনের দ্বন্দ্বতো হয়নি। তাদের আন্দোলনটি সরকারবিরোধী নয়। সরকার পতনের আন্দোলনও নয়। তবে কেন তারা সেদিন আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণের জন্য গিয়েছিল। সে পরিস্থিতি কারা কেমন করে তৈরি করেছিল। যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন তারা খেয়াল করলে দেখবেন, আন্দোলন চলাকালীন অসংখ্য সত্যমিথ্যা ভুয়াবানোয়াট ছবি, লিঙ্ক, পোস্টের সাথে ম্যাসেঞ্জারে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার দুদিন আগে থেকে পাঠানো সে বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘আগামী রবিবার মন্ত্রী এমপিরা ১০০০১৫০০ বস্তির ছেলেকে রাস্তায় নামাবে। যাদের কাজ হবে মেয়েদেরকে যৌন নির্যাতন করা, গাড়ি ভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া। আর এই ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশ সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ চালাবে। ফলাফল ছাত্রদের ওপর সাধারণ মানুষ ক্ষেপবে। অনুগ্রহপূর্বক নিউজটি ম্যাসেজের মাধ্যমে শেয়ার করবেন। কোনো প্রকার পোস্ট দিবেন না। সূত্রএকজন সাংবাদিক এবং এক মন্ত্রীর খুব কাছের মানুষ একজন।’ হুবহু তুলে দিলাম।

এমন একটি বার্তা পাঠানোর দুদিন পর আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণের একটি ক্ষেত্র তৈরি করে ষড়যন্ত্রকারীরা। জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করতে এবং পার্টি অফিস আক্রমণ করতে গুজব ছড়ানো হয় যে, পার্টি অফিসে আন্দোলনকারী নারীকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, কারো চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। চারজনকে খুন করা হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বার্তা যারা পেয়েছিলেন তাদের অনেকেই ঘটনার সাথে তা মিলিয়ে যাওয়ায় বিশ্বাস করেন। একই সাথে উত্তরায় শ্যুটিংরত মডেল ও অভিনেত্রী নওশাবা ভিডিও লাইফে এসে একই ধরনের বক্তব্য দেন। যা দেখে অর্থাৎ তার অভিনয় দেখে মনে হতে পারে যে, সেসব ঘটনা তার সামনেই ঘটছে। একই সময়ে প্রকাশ্যে সড়কে মুখ ঢাকা অবস্থায় আরেকটি তরুণী কেঁদে কেঁদে একই ধরনের অভিযোগ করে। ফলে ওই স্থানে সমবেত শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ করে। ষড়যন্ত্রকারীরা এখানে ক্ষণিকের জন্য সফল হলেও পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে যায় নি। শিক্ষার্থী ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের কয়েকজন আহত হলেও নেতারা শিক্ষার্থীদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, পার্টি অফিসে তেমন কিছু ঘটেনি। পরে শিক্ষার্থীরা পার্টি অফিস ঘুরে এসে সাংবাদিকদের জানায়, তারা গুজবের কারণে বিভ্রান্ত হয়েছিল।

মূল কথা, শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে বিএনপিজামায়াত বারবারই এমন একটি সুযোগ খুঁজছিল, যার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় এনে রাজধানীকে অচল করে দেবে। কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে তাদের এমন একটি নীল নকশা ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারে নি তারা। ফলে এবারের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে আরেকটি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছিল তারা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যগুলো মেলালে পাঠকদের সুবিধা হবে বুঝতে। কোনভাবেই হতাহতের ঘটনা ঘটাতে পারলে এই আন্দোলনকে দীর্ঘ করা হতো। তাদের টার্গেট ছিল ৪ আগস্ট শনিবার কয়েক হাজার ক্যাডারকে রাস্তায় নামানো। এ কারণে ধানমন্ডি দুই নম্বর সড়কে সংঘাত সৃষ্টি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের অফিসই ছিল তাদের মূল টার্গেট। শিক্ষার্থীদের আড়ালে ওই অফিসে নাশকতা চালিয়ে পরিস্থিতির অবনতি করা হতো। লাখ লাখ মানুষকে ঢাকার রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানানো হতো। একটি অসমর্থিত সূত্র জানায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ১৫ আগস্ট তারেক জিয়া দেশে ফিরে আসতেন। সূত্র এমনও জানিয়েছে, এভাবে সরকার পতন হলে কাকে অস্থায়ী সরকারের প্রধান করা হবে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্তির শর্তে কীভাবে বিএনপি সে অস্থায়ী সরকারকে সহযোগিতা দেবে তার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছিল। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এ ধরনের অনেক প্রমাণও আছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

সুজন ব্যক্তি বদিউল আলম মজুমদার তাঁর বাসায় যে কাউকে নেমতন্ন করতে পারেন। তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। বিদেশি দূতাবাসে ও কাউকে তিনি নেমতন্ন করতেই পারেন তাতেও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে এই দাওয়াতকে ঘিরে কিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

প্রথমত দেশে যখন শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলন চলছে। সড়কে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছে তখনতিনি কীভাবে এত নির্ভার থেকে দাওয়াতটাওয়াত খাওয়ার মতো অবসর পেলেন।

সেখানে আর বাইরের কেউ নন, সেই চিহ্নিত ব্যক্তিরাই শুধু দাওয়াত পেলেন যারা ১/১১’র মতো ঘটনার কুশীলব এবং এখনো তেমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চান। সেখানে একটি মাত্র দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত থাকলে যে দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাজই হলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে কোন ইস্যুকে সমর্থন দেওয়া। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতগণ সাধারণত অফিসের বাইরে গেলে তা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। সেদিন আমেরিকার রাষ্ট্রদূত বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে গিয়েছিলেন অনেকটা গোপনে। পুলিশকে না জানিয়ে। মজুমদারের বাসায় গোপন বৈঠক হচ্ছে এমন সংবাদ প্রচার হয়ে পড়লে বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকে বিক্ষুব্ধ মানুষ।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে স্কট করে রাষ্ট্রদূতকে তার ঠিকানায় পৌঁছে দেন। অবশ্য বার্নিকাট পরদিন এজন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিন্তু আগে কেন পুলিশকে অবহিত করেন নি সে বিষয়ে কিছু বলেন নি।

বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে বর্তমান রাষ্ট্রদূতের দাওয়াত খাওয়ার খবর শুনে ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাকের বাড়িতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বুস্টারের দাওয়াত খাওয়ার কথা মনে পড়ে।

হয়ত এটি কোইন্সিডেন্সও হতে পারে!

x