কালো মহিষের ভালো কদর

এম নুরুল ইসলাম, আনোয়ারা

মঙ্গলবার , ২১ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
405

কোনোটির নাম যুবরাজ, কোনোটি লাট বাহাদুর, কোনোটির নাম আবার কালা পাহাড়। গতকাল সোমবার আনোয়ারা তৈলারদ্বীপ সরকারহাটে এরকম নানা বিচিত্র নামে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন মহিষের বিক্রেতারা। বাজারের যে অংশে মহিষ তোলা হয় সেদিকে ক্রেতার সংখ্যাও বেশি দেখা গেছে।

ক্রেতাবিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইসলামী শরিয়ত মতে সুন্দর পশুই কোরবানি দেওয়া উত্তম। সে বিবেচনায় এতদিন গরু আর ছাগলই ছিল কোরবানির প্রধান পশু। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তালিকায় উঠে এসেছে মহিষও। আর চলতি বছর দক্ষিণ চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে গরু আর মহিষের চাহিদা প্রায় সমান সমান বলা চলে।

কেন বাড়ছে মহিষের জনপ্রিয়তা? ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহিষের মাংসে কোলস্টেরল, এলার্জি ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কম এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে মফস্বলের মানুষের মধ্যে। তাছাড়া গরুর তুলনায় মহিষের মাংসের দাম মণপ্রতি অন্তত ৩ হাজার টাকা কম। এই হিসাবে হাটে ৩ মন মাংসের গরুর দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা হলেও একই সাইজের মহিষ মিলছে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে।

চট্টগ্রামে মহিষের সবচেয়ে বড় বাজার ধরা হয় আনোয়ারা সরকার হাট। গতকাল সোমবার ছিল কোরবানের আগে এই হাটের সর্বশেষ হাটের দিন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটে অন্তত ৫ হাজার মহিষ ছিল। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা দামের মহিষও দেখা গেছে। কথা বলে জানা যায়, ১০ থেকে ১১ মণ ওজনের মহিষ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৮ থেকে সাড়ে ৯ মণ ওজনের মহিষ দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৬ থেকে সাড়ে ৭ মণ ওজনের মহিষ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে।

মহিষের অন্যতম বড় বাজার কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরের মইজ্জারটেকের হাটেও মহিষের বিক্রি ছিল চোখে পড়ার মত।

সরকার হাটের মহিষের ব্যাপারী নুর মোহাম্মদ বলেন, মহিষগুলো কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা হয়েছে। তবে কিছু ভারতীয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, দেশি মহিষের তুলনায় কুষ্টিয়া অঞ্চল ও ভারতীয় মহিষ আকারে বড়। দামও কম। দেশি মহিষে ৫ থেকে সাড়ে ৫ মণের বেশি মাংস হয় না। কুষ্টিয়া অঞ্চলের মহিষে সে তুলনায় দ্বিগুণ মাংস হয়। তিনি বলেন, এ বছর হাটে ২৫০টি মহিষ এনেছি। সোমবার (গতকাল) পর্যন্ত ২১১টি বিক্রি হয়ে গেছে।

মহিষের বিক্রি এখানে এত বেশি কেন জানতে চাইলে স্থানীয় জালাল সওদাগর বলেন, শুধু কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নয় এখানে সারা বছর মহিষ বিক্রি করা হয়। চট্টগ্রাম এলাকায় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি হওয়ায় কোরবানির সময় গরিব মানুষকে বেশি মাংস বিলির কথা বিবেচনায় নিয়ে অনেকে মহিষ কোরবানি করেন। মহিষ গরুর তুলানায় দামে সস্তা, পাশাপাশি মাংসও বেশি।

মহিষের বেচাবিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে সরকারহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য এস এম আলমগীর চৌধুরী বলেন, সরকার হাটে মহিষের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। পুরো চট্টগ্রামের মধ্যে এবার সরকার হাটেই সর্বোচ্চ সংখ্যক মহিষ উঠেছে। চট্টগ্রাম শহর ছাড়াও পটিয়া, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালী থেকে ক্রেতারা এসে মহিষ কিনে নিয়ে গেছেন।

মহিষের মাংসে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভাগ্যধন বড়ুয়া বলেন, গরুর মাংসের চাইতে মহিষের মাংসে সব ধরনের ঝুঁকি কম। মহিষের মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয় না, মাথা ঘুরে না, শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতাও দেখা দেয় না। এমনকি ডায়াবেটিস রোগীরাও মহিষের মাংস খেতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, মহিষকে গরুর মতো কোনো দানাদার বা কৃত্রিম খাবার খাওয়ানো হয় না। এটি পালিত হয় ন্যাচারাল খাবারে। ফলে মহিষের শরীরে কোনো চর্বি জমে না বলে বয়স্করাও এটি খেতে পারেন।

x