কার্ল মার্কস : শ্রেণিহীন সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা এক মহাপ্রাণ

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
102

কার্ল মার্কস – জার্মান দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা। মার্কস প্রণীত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মতবাদ সারা বিশ্বে ‘মার্কসবাদ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আজ মহামতি কার্ল মার্কসের ১৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৮১৮ সালের ৫ই মে জার্মানির ট্রিয়ের-এ কার্ল মার্কসের জন্ম। বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৮৪১ সালে দর্শনে পি-এইচ.ডি ডিগ্রি নেন তিনি। পেশাগত জীবনের শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে। প্রথম জীবনে মার্কসের চিন্তাধারায় হেগেলের প্রভাব লক্ষ করা যায়। পরবর্তীসময়ে তিনি বিপ্লবী গণতন্ত্রের বদলে সর্বহারার সাম্যবাদ এবং বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেন। ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সাথে পরিচয়ের পর দু জনের ধ্যান ধারণা ও দর্শন চিন্তায় অদ্ভুত মিল তাঁদেরকে আজীবনকালের সুহৃদে পরিণত করে। যৌথভাবে তাঁরা ১৮৪৮ সালে ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’ প্রচার করেন। এঙ্গেলসের সাথে যৌথভাবে তিনি অর্থনীতি, ইতিহাস, দর্শন – এক কথায় রাষ্ট্রব্যবস্থার যে-সব তত্ত্ব প্রচার করেন তার ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠে কমিউনিস্ট আন্দোলন। সে বছর জার্মানির বিপ্লবে অগ্রগণ্য অংশগ্রহণের জন্য মার্কসকে জার্মানি থেকে বহিস্কার করা হয়। তিনি চলে আসেন লন্ডনে এবং এরপর থেকে লন্ডনেই স্থায়ী হন। নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও মার্কস একের পর এক গ্রন্থ রচনা করে গেছেন, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কাজ করেছেন সর্বহারা শ্রেণির জন্যে। তাঁর স্বপ্ন ছিল বুর্জোয়া রাষ্ট্রযন্ত্রের অনিবার্য ধ্বংস এবং সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা। মার্কস রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ‘পুঁজি’। এটি চার খণ্ডে রচিত। এই গ্রন্থে অর্থনীতি, সমাজ পরিবর্তনের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি এবং ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যার বিশ্লেষণ করেছেন মার্কস। তিনি চেয়েছিলেন শ্রেণিহীন সমাজ ব্যবস্থা এবং এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থনীতি, যেখানে সব মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। ১৮৮৩ সালের ১৪ই মার্চ মার্কস প্রয়াত হন।

x