কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরস্কার জিতল ইস্ট ডেল্টার শিক্ষার্থীরা

জলাবদ্ধতা নিরসনে আইডিয়া উপস্থাপন

বুধবার , ৮ আগস্ট, ২০১৮ at ১০:০৫ অপরাহ্ণ
82

টানা প্রবল বর্ষণে বাড়ির আশপাশে ময়লা আবর্জনা জমে পানি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের। বিশেষ করে প্লাস্টিকের সামগ্রী আটকে গেলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)-এর তিন মেধাবী শিক্ষার্থী জলাবদ্ধতা নিরসনে চমৎকার আইডিয়া দিয়ে জিতে নিয়েছেন সোশ্যাল বিজনেস ক্রিয়েশনের পুরস্কার।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কানাডার বিখ্যাত এইচইসি মন্ট্রিল ইউনিভার্সিটি।

বিভিন্ন পর্বে সারাদেশ থেকে ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। পরে ফাইনালে ৭টি থেকে ৩টি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেখানে চট্টগ্রামের ইডিইউ রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন নাহিয়ান ইসলাম, রিমেন ও জাহিদ হাসান। এ ৩ জন কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সোশ্যাল বিজনেস কমপিটিশনে বাংলাদেশ থেকে (আঞ্চলিক পর্যায়ে) লড়াই করার সুযোগ পাবেন। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

এদিকে ইডিইউ’র শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যে গর্বিত প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান বিজয়ী দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন একটি প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে পুরস্কার জিতে নেয়া চট্টগ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। পড়ালেখার বাইরে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় আমাদের ছেলেমেয়েদের অর্জন প্রমাণ করে শুধু পুরো চট্টগ্রামেই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও আমরা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছি।’

বিজয়ী দলের সদস্যরা জানান, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সোশ্যাল বিজনেস নিয়ে নানা ধরনের আইডিয়া আহ্বান করে কানাডার এইচইসি মন্ট্রিল ইউনিভার্সিটি।
ইডিইউ’র মেধাবীরা গ্রুপ পর্বে ভালো করার পর জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে চমৎকার আইডিয়া দিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় রানার্স আপের পুরস্কার জিতে নেন।

বিজয়ী দলের একজন নাহিয়ান ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রকৃতিবান্ধব যন্ত্র তৈরির কথা বলেছি যেটি বর্ষাতে প্লাস্টিকের বোতল, ময়লা আবর্জনাসহ পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারীদের আটকে দেবে।’

আরেক সদস্য রিমেন বলেন, ‘যন্ত্রটি রাস্তার ধারে যেখানে পানি জমে বা চলাচল করে সেখানে মাটি খুঁড়ে অন্তত দুই ফুট ভিতরে কিছু অংশে স্থাপন করতে হবে। যেসব সামগ্রী পানি চলাচলে বাধার সৃষ্টি করবে সেগুলো একসময় যন্ত্রটির জালে আটকা পড়ে যাবে।’

বিজয়ী দলের ভীষণ হাসিখুশি আরেক সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, ‘আটকে যাওয়া সব প্লাস্টিকের সামগ্রী আবার পুনর্ব্যবহার করার উপযোগী করা যাবে। এতে সোশ্যাল বিজনেসের স্বার্থও সংরক্ষিত হবে। তৈরি হবে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও।’

x