কাজের মাধ্যমে ঋণ শোধ করার চেষ্টা করব

গণসংবর্ধনায় পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর

বান্দরবান প্রতিনিধি

শনিবার , ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
409

আমাকে নির্বাচিত করার জন্য আমি আমার বান্দরবানবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী। এই ঋণ আমি বিগত দিনের মতো কাজের মাধ্যমেই শোধ করার চেষ্টা করবো। গতকাল শুক্রবার বান্দরবান শহরের রাজারমাঠে এক নাগরিক সংবর্ধনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি একথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বীর বাহাদুর আরো বলেন, বান্দরবানবাসীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে টানা ৬ বার মনোনয়ন দিয়েছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ। নেত্রীর প্রতি বান্দরবানবাসীর শ্রদ্ধা আছে বলেই আমাকে বারবার বিপুল ভোটে তারা নির্বাচিত করেছেন এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী আমাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।
বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানে আসেন। এসময় চট্টগ্রামের কেরানীহাট থেকে বান্দরবানে আসার পথে স্থানীয়রা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেন পাহাড়ের এই জনপ্রিয় নেতাকে।
জেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, বীর বাহাদুরকে বরণ করতে পথে পথে ৭টি তোরণ নির্মাণ করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে স্থানীয়রা দাঁড়িয়ে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেন। এসময় অনেকে মন্ত্রীকে পরিয়ে দেন ফুলের মালা। বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে গতকাল জেলা শহরের রাজার মাঠে বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি সংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হন। এসময় রাজার মাঠে লাল গালিচার পাশাপাশি ফুল ছিটিয়ে তাকে বরণ করে নেন নেতাকর্মীরা। জেলার ৭টি উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শফিকুর রহমান, কাজল কান্তি দাশ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী, পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মংক্যচিং চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম চৌধুরী, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ক্যশৈঅং মার্মা, জেলা পরিষদের সদস্য ক্যসাপ্রু, লক্ষীপদ দাশ, মোজাম্মেল হক বাহাদুর, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অমল দাশ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, তিন পার্বত্য জেলার (বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি) মধ্যে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খাগড়াছড়ির সাংসদ কল্পরঞ্জন চাকমাকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। এরপর থেকে পার্বত্য জেলার সবাই ছিলেন উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে। এই প্রথম গত ৭ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে বীর বাহাদুর উশৈসিংকে এমপিকে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পূর্ণমন্ত্রী করা হয়।

x