কাজের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করতে চাই : নওফেল

শিক্ষা ব্যবস্থায় ডাইভার্সিটি আনা প্রয়োজন : এম এ মালেক

আজাদী অনলাইন

শনিবার , ২০ এপ্রিল, ২০১৯ at ৩:২৭ অপরাহ্ণ
218

 

শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে ভাষণ-স্লোগান নয়, কাজের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শনিবার (২০ এপ্রিল) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী আয়োজিত ‘শিক্ষায় চট্টগ্রাম : একগুচ্ছ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।

ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন,  মিডিয়ার সামনে এসে `সব সমস্যার সমাধান করে দেবো’ বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই।-বাংলানিউজ

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা খাতসহ প্রতিটি সেক্টরে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। তবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু সমস্যাও রয়েছে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী, আমাদের যে রাজনীতির ধারা- সেখানে আমরা ভাষণ আর স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকি। তবে নাগরিকের সমস্যা সমাধানের জন্য ভাষণ-স্লোগান নয়, নীতি নির্ধারনী আলোচনা প্রয়োজন। দৈনিক আজাদী ‘পলিসি ডিসকাশনের’ আয়োজন করে সে কাজটিই করেছে।

নওফেল বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে শিক্ষার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলতে পারি- আমরা এখনও পিছিয়ে আছে। অনেকে চট্টগ্রাম বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ করেছেন। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, বিনোয়োগ ও সরকারি খরচ বাড়িয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রচুর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে শিক্ষার মান যার হাতে- সেই শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পরিবর্তন না আসলে সামগ্রিক শিক্ষার মানে এটি কোনো কাজে আসবে না।

চ্যালেঞ্জ আছে, সফলতাও আছে

নওফেল বলেন, আমাদের অনেক কিছুর অভাব আছে। এরপরেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। প্রবৃদ্ধি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। শিক্ষা খাতে যথেষ্ট বিনিয়োগের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এর থেকে আউটপুটটা আমরা পাচ্ছি। শিক্ষা খাতে আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে। তবে সফলতাও কম নয়।

তিনি বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন গত ১০ বছরে শিক্ষার মান কমেছে। তবে আমরা এটি সত্য মনে করি না। শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য- দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, সেটাতে হয়তো আমাদের শতভাগ সফলতা নেই। তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছি। শিক্ষার মান কম হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এভাবে হতো না। আমরা কল্পনা করিনি বাংলাদেশ আজকে এ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এতো শিক্ষার্থী এনরোলমেন্টে থাকবে। ড্রপ আউট রেইট কমবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আগে কারিগরি শিক্ষায় ১ শতাংশের কম শিক্ষার্থী ছিলো। এখন ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আরও হবে। উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। সারাদেশের ১১০টি উপজেলায় ১টি করে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন- প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর।

মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না

নওফেল বলেন, চট্টগ্রামে সরকারি স্কুলের অপ্রতুলতা রয়েছে। এ কারণে এখানে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেটি দেশের আর কোথাও নেই। সরকার এখানে বিনিয়োগ করছে। চসিকের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চট্টগ্রামে আরও কিছু সরকারি স্কুল করা যায় কি না চেষ্টা করবো। এটি আমাদের ইমার্জেন্সি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু কিছু সমস্যার ইমিডিয়েট সমাধান করা সম্ভব না। প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি করা হবে।

‘ঠুনকো প্রতিশ্রুতি, মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। কাজ করতে চাই। প্রতিষ্ঠা করতে চাই, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দেবে সেটার বাস্তবায়ন হবেই’ যোগ করেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ডাইভার্সিটি আনা প্রয়োজন

আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, একটি দেশ, একটি জাতি এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ডাইভার্সিটি আনা প্রয়োজন। টেকনিক্যাল খাতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নগরে জায়গার অপ্রতুলতা রয়েছে। তবে ভারতের দার্জিলিংয়ের আদলে আমাদের পাহাড়েও কিন্তু আবাসিক স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগেও এটি করা যায়। এতে শহরের উপর চাপ কিছুটা কমবে।

বৈঠকে চট্টগ্রামে সরকারি স্কুল-কলেজের অপ্রতুলতা, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা, গ্রামে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক বদলির নীতিমালা সংশোধন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের জনবল সংকটসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের শিক্ষা খাতের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা। স্বাগত বক্তব্য দেন আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেক।

সাংবাদিক রতন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম, মাউশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, মাউশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ পরিচালক আজিজ উদ্দিন, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জালাল উদ্দিন, শিক্ষক নেতা আবু তাহের, অঞ্চল চৌধুরী প্রমুখ।

x