কাউন্সিলরসহ প্রধান দুই আসামির জামিন

মহিউদ্দিন সোহেল হত্যাকাণ্ড

সবুর শুভ

মঙ্গলবার , ৯ এপ্রিল, ২০১৯ at ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
419

আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামির জামিন হল হাইকোর্টে। তাদের একজন ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদ ও ওসমান খান। এর মধ্যে ওসমান খান ঘটনার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন। কাউন্সিলর রয়েছেন কারাগারের বাইরে।
চট্টগ্রাম আদালত থেকে পাওয়া তথ্য মতে, মামলার ২৭ এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে সাবের আহম্মেদকে হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের এবং ওসমান খানকে এক বছরের জন্য জামিন দেয়া হয়। হাইকোর্টের এ জামিন আদেশ চট্টগ্রাম আদালতে এসেছে গতকাল। ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ওসমান খানসহ মোট ২০ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এ মামলায়। মামলার তদন্ত চলছে।
মামলার এজাহারে থাকা ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ জানুয়ারি রাতে ডবলমুরিং থানায় দায়ের করা মামলায় ১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। নিহত সোহেলের ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশিরের দায়ের করা মামলার এজাহারে অজ্ঞাত হিসেবে আরো ১০০/১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলর পাহাড়তলি রেলওয়ে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক সাবের আহম্মেদকে।
ঘটনার পরদিন ১০ জানুয়ারি আসামি ওসমান খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্য আসামিরা হচ্ছেন, রাসেল খান, শওকত খান রাজু, শরীফ খান, সৈয়দ, রাসেল মির্জা, জুয়েল মির্জা, আজাদ, লিটন লোহানী, দিদার প্রকাশ টেডি দিদার, নুর মোহাম্মদ, মামুন, বাবু, মঞ্জুর আলম, আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ মহসিন, নুর নবী, মনা, মনার বাপ, ফকিরা ভান্ডারি, পারভেজ, গুইল্লা মিয়া, আলী ভান্ডারি, মোবারক, স্বপন ও রশিদ মাঝি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদের নির্দেশে আসামি ওসমান খানের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে মহিউদ্দিন সোহেল হত্যাকান্ড ঘটনো হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা নিয়ে মহিউদ্দিন সোহেলের সাথে কাউন্সিলর সাবের ও ওসমান খানের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ধারালো কিরিচ, দা, লোহার রড, লাঠি ও ছোরা দিয়ে সোহেলের ওপর হামলা চালানো হয়। এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩/ ১৪৭/ ১৪৮/ ৩২৩/ ৩০৭/ ৩২৬/ ৩০২/ ৩৮০/ ৪২৭/ ৪৩৬/ ৫০৬/ ১১৪/ ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মহিউদ্দিন সোহেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ব্যাপারটি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনিটরিং করছে। ঘটনার পর এটাকে গণপিটুনি হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সোহেলের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে প্রশ্ন উত্থাপন করে বলা হয়, মহিউদ্দিন সোহেল যদি গণপিটুনিতেই মারা যাবেন তাহলে তার শরীরে ২৬টি ছুরির আঘাত কেন?
চট্টগ্রাম আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদ জামিন পেয়েছেন গত ১ এপ্রিল। তার জামিনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৮ এপ্রিল। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবের আহম্মেদকে বিচারিক আদালতে হাজির হতে হবে। একইভাবে ওসমান খান জামিন পেয়েছেন গত ২৮ মার্চ। তিনি এক বছরের জন্য জামিন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সিএমপির সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই আসামির জামিনের কাগজপত্র চট্টগ্রাম আদালতে এসেছে। এর মধ্যে কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদ কারাগারের বাইরে থাকলেও ভেতরে রয়েছে আসামি ওসমান খান। দুই আসামির জামিনের ব্যাপারে মামলার বাদী শাকিরুল ইসলাম শিশির বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় প্রধান আসামিরা জামিন পেয়েছে বলে শুনলাম। আইন আদালতের ব্যাপারে কোন বক্তব্য নেই। প্রধান আসামিরা জামিনে থাকলে তদন্ত প্রভাবিত হবে কিনা সেটাই প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত: গত ৭ জানুয়ারি সকালে ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলী বাজারে মহিউদ্দিন সোহেলের উপর হামলা হয়। এতে সোহেল মারা যান। মহিউদ্দিন সোহেল চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিরও নেতা ছিলেন।

x