কর্ণফুলী রক্ষায় সাম্পান মাঝিদের বৈঠা বর্জন ও মানববন্ধন

রবিবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৮ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
40

কর্ণফুলীকে জাতীয় নদী ঘোষণা ও হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী দখলমুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত মানবন্ধন সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কর্ণফুলীকে দখল ও দুষণমুক্ত করার পাশাপাশি জাতীয় নদী ঘোষণার বিকল্প নেই। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ কর্ণফুলীতে স্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। কর্ণফুলী দেশের একমাত্র নদী যেটির জাতীয় নদী হওয়ার সকল বৈশিষ্ট আছে। বক্তারা আরো বলেন, এই নদীর তীরে বাঙ্গালি ছাড়াও ১২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বৈচিত্রময় জীবন সংস্কৃতি বহমান। পর্যটন শিল্পেও কর্ণফুলীর অবদান কক্সবাজারের পরে। রাঙামাটি ও কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলীর কারণেই প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম হয়। এইসব গুরুত্ব বিবেচনায় কর্ণফুলী বাংলাদেশের জাতীয় নদীর দাবিদার। একই বৈশিষ্ট্য থাকায় ভারত গঙ্গাকে এবং পাকিস্তান সিন্ধুকে জাতীয় নদী ঘোষণা করেছে।
গতকাল শনিবার ২৭ অক্টোবর সকাল ১১টায় কর্ণফুলীর তীরে ঐতিহ্যবাহী সদরঘাটে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন যৌথভাবে এই মানব বন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। কর্ণফুলীর সাম্পান মাঝিরা একঘন্টা বৈঠা বর্জন করে মানবন্ধনে যোগ দেন। এই সময় শত শত যাত্রী ঘাটে উপস্থিত থেকে মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধন পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী গবেষক ও বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিচ আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, আমাদের নতুন সময়ের ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ কামাল পারভেজ, কর্ণফুলী ফিশিং জাহাজ যাত্রী পারাপার সাম্পান মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান, কর্ণফুলী ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক ফরিদ আহম্মদ, উপদেষ্টা জিন্নাত আলী লেদু প্রমুখ।
অধ্যাপক ইদ্রিচ আলী বলেন, কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের জাতীয় নদী করার বিকল্প নেই। প্রশাসনের উদাসীনতায় কর্ণফুলী আজকে নিজের স্বকীয়তা হারাচ্ছে। আমরা অচিরেই কর্ণফুলীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে জাতীয় নদী ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
কাজী আবুল মনসুর বলেন, আজকে শত শত সাম্পান মাঝি নিজেদের জীবিকা ত্যাগ করে এই মানববন্ধনে সমবেত হয়েছে নিজেদের ঐতিহ্য কর্ণফুলী রক্ষা করতে। কর্ণফুলীকে যথাযথ সংরক্ষণ করতে জাতীয় নদী ঘোষণার বিকল্প নেই।
আলীউর রহমান বলেন, পদ্মা মেঘনা যমুনাকে বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী বলা হয়। কিন্তু এই তিনটি নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের বাইরে। কিন্তু কর্ণফুলী একামাত্র নদী যার গতিপ্রবাহ বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ। ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় উৎপত্তি পানি প্রবাহকে স্থানীয় ভাবে খাল বা ছরা বলা হয়। রাঙামাটির বরকলের ধুমধম্ম্যাতে কর্ণফুলী নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। উপরোক্ত কারণে কর্ণফুলী বাংলাদেশের জাতীয় নদীর একমাত্র দাবিদার।
এস এম পেয়ার আলী বলেন, কর্ণফুলীর শাখা ইছানগর খাল অবৈধ দখলের শিকার। আমরা এই সমাবেশ থেকে ইছানগর খাল উদ্ধার ও খনন করার দাবি জানাচ্ছি। কর্ণফুলী ফিশিং জাহাজ যাত্রী পারাপার সাম্পান মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান, ফিশিং জাহাজে সার্ভিস প্রদানকারী সাম্পান মাঝিদের উত্তাপিত ছয়টি দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x