কর্ণফুলী ইপিজেডে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৩০

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
483

কর্ণফুলী ইপিজেডে শ্রীলংকান কোম্পানির মালিকানাধীন একটি কারখানায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। এক নারী শ্রমিকের দেহ তল্লাশীর সূত্র ধরে সংঘটিত এ ঘটনায় আহত দুই পুলিশ সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য হচ্ছেন- মুবিনুল ও রুবেল। মুবিনুলকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে এবং রুবেলকে ক্যাজুয়ালিটিতে ভর্তি করা হয়। আহত ১৫ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ইপিজেড থানা ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন। বাকী ১৫ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয়রা। আহত অন্যান্যদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে এবং কেউ স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই কারখানায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইপিজেড থানার ওসি নুরুল হুদা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এতে কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার সময় কারখানার বাইরে রাস্তায়ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাজেদ কামাল ও ঘটনার পর ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী এএসআই আপ্যায়ন বড়ুয়া বলেন, সামান্য কারণে ঘটনা হয়েছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে শান্ত রয়েছে কারখানা ও ওই এলাকা। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে মধ্যাহ্ন বিরতির সময় কর্ণফুলি ইপিজেডের ভেতর শ্রীলংকান কোম্পানির মালিকানাধীন কেন্টপার্ক নামক পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিক কারখানা থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে দুটি ব্যাগ দেখে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তল্লাশি শুরু করেন। তাকে কেন দুটি ব্যাগ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে ওই শ্রমিক একটি ব্যাগ তার এবং আরেকটি তার বোনের বলে আনসার সদস্যদের জানান।
এক পর্যায়ে আনসার সদস্যরা তার ব্যাগ তল্লাশি এবং তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করেন ওই মহিলা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে কারখানার ভেতরে স্টাফ ও আনসার সদস্যদের মারধর এবং গাড়ি ও কারখানায় ভাংচুর চালায় বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানায়- সংঘর্ষের কারণে ইপিজেড থেকে কাটগড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নারিকেল তলা এলাকায় দুটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকা ও কারখানাগুলোতে। যানজট লেগে যায় দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার।
পরে শিল্প পুলিশ ও ইপিজেড থানা পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল মারতে থাকে। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।
সন্ধ্যায় পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরেফিন জুয়েল জানান, শ্রীলংকান কোম্পানির পরিচালনাধীন একটি কারখানায় এক নারী শ্রমিক বের হওয়ার সময় সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ‘সমস্যা’ হয়।
ওই নারীকে হেনস্থা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে কারখানার শ্রমিকরা দুপুরের পর বিক্ষোভ শুরু করেন। বিকালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশও শ্রমিকদের মৃদু লাঠিচার্জ করে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরেফিন জুয়েল জানান, এ ঘটনার পর রাতে কর্ণফুলী ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও শিল্প পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা হামিদ জানান, কর্ণফুলী ইপিজেড এর ঘটনায় মুবিনুল ও রুবেল নামে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুবিনুল চোখে আঘাত পেয়েছেন।

x