কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান সফল হোক

বুধবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
105

কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনকে আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই। চট্টগ্রামের আপামর মানুষের বহু আকাঙ্ক্ষিত অভিযানের প্রথমদিনে ৪ একর ভূমি দখলমুক্ত হয়েছে বলে আজাদীতে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। অভিযানের প্রথম দিনে বড়সড় কোনো স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি বলে অনেককে হয়তো হতাশ মনে হতে পারে। মনে হতে পারে ছোটখাট স্থাপনার দিকেই নজর ছিল অভিযান দলের। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে বলতে চাই, হতাশ হওয়ার কারণ নেই। অভিযানের শুরুটা যতই আড়ম্বরপূর্ণ ও কৌতূহলোদ্দীপক হোক না কেন, তার মাত্রা ধীরে ধীরে জোরদার হবে বলে আমরা মনে করি।
আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদকারী দল সেখানে পৌঁছানোর আগেই লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি করা অবৈধ স্থাপনার সামনের অংশ নিজেরা ভেঙে দিয়েছেন। গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ফেলা হয় লোহার পিলার। সরিয়ে নেওয়া হয় আসবাবপত্র। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সবুজ রশি দিয়ে স্থাপনার সামান্য আগে নিজেরাই তাদের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কাছ থেকে রশি কেড়ে নেন। এরপর বুলডোজার দিয়ে মূল বিল্ডিংয়ের সামনে পাকা ও লোহা দিয়ে তৈরি মূল ভবনের অতিরিক্ত অংশ ভেঙে দেয়া হয়। এ বিল্ডিংয়ে একটি কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলা হয়েছে। সামনে রয়েছে জেটি। জেটির আশপাশে গড়ে তোলা ছোট স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেয়া হয় নোটিশ পাওয়ার পর। উচ্ছেদ কার্যক্রমের শেষদিকে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স এলাকায় অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। এসময় তিনি নিজে দখলমুক্ত হওয়া স্থানে সতর্কীকরণ নোটিশ সেটে দেন। সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরএস অনুযায়ী যদি সীমানা কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের মূল ভবনের মধ্যে পড়ে, সেই অংশও ভেঙে দেওয়া হবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা রয়েছে দুই হাজার ১৮৭। এসব অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে চট্টগ্রামের প্রধান নদী কর্ণফুলীকে রক্ষা করতে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। কিন্তু দুই বছর পার হলেও উচ্ছেদ হয়নি একটি স্থাপনাও। উল্টো কর্ণফুলীর পাশাপাশি এখন তার শাখা নদীগুলোতেও নতুন করে উঠছে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা। দখল-দূষণে প্রতিনিয়ত রূপ হারাচ্ছে কর্ণফুলী। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সচেতনতার অভাবেই নদীটি এখন বিপর্যস্ত। পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, চট্টগ্রামের প্রধান নদী কর্ণফুলীর দৈর্ঘ্য ১৩১ কিলোমিটার। এ ছাড়া ৮৮ কিলোমিটারের হালদা নদী, ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ইছামতী নদী এবং ২৯৫ কিলোমিটারের সাঙ্গু নদী রয়েছে চট্টগ্রামে। কর্ণফুলীর মতো দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত হয়ে আছে সব নদীই।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ কর্ণফুলী নদীর দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিষয়ে কঠোর মনোভাব নিয়ে অবস্থান করছেন, যা জেলা প্রশাসনের কাজ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পূর্ব পরিস্থিতি দেখতে এসে কর্ণফুলী ঘাটে ভূমিমন্ত্রী বলেছেন, আদালতের রায় আছে, সে অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীকে দখলমুক্ত করা হবে। এখানে প্রভাবশালী বলতে কিছু বুঝি না। সরকারের চেয়ে বড় প্রভাবশালী কেউ নেই।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে অনেকে ফোন করেছেন। অনেক অনুরোধ এসেছে। তবে এসব রাখার কোনো সুযোগ নেই।
২০১৫ সালের পর থেকে স্থাপনা তৈরির কোনো অনুমোদন ছিল না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমোদন না নিয়ে যেসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো অবৈধ। তারপরেও যাদের স্থাপনা ছিল, তাদেরকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এখনো কিছু প্রতিষ্ঠান আবেদন করছে। তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি, অভিযান চলবে। ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারি-বেসরকারি সব স্থাপনা সরানো হবে।
আমরা জেনে আশ্বস্ত হলাম যে, অভিযানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়েছে। সুতরাং কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের কোনো সুযোগ বা আশংকা নেই। কর্ণফুলী নদী শুধু চট্টগ্রামের সম্পদ নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির আধার। এ নদী বাঁচলে চট্টগ্রামের মানুষের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। তাই কর্ণফুলীকে বাঁচাতে দল-মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

x