কর্ণফুলীতে থামছে না পোনা নিধন

সোহেল মারমা

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ
166

কর্ণফুলীতে নদীতে অবাধে চলছে পোনা নিধন। একটি চিংড়ির মাছের পোনা ধরতে গিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে ৭৫ থেকে ১শ প্রজাতির মাছের পোনা। নিষেধাজ্ঞার পরও নদী থেকে পোনা আহরণ করা হচ্ছে। এসব পোনা কিনছে একটি সিন্ডিকেট। পোনাগুলো চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাইরে। মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, পোনা শিকারিদের বিরুদ্ধে প্রায় সময় অভিযান চলে। এছাড়া সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদেরও ধরার চেষ্টা চলছে।
অবশ্য সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে পোনা আহরণ, মজুদ ও পরিবহন হলেও এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো তৎপরতা নেই। মাঝেমধ্যে অভিযানে ধরা পড়লেও পোনা শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি চিংড়ি পোনা আহরণের সময় ৭৫-১০০ প্রজাতির মাছের পোনা নষ্ট হয়। এ কারণে সরকার প্রাকৃতিক উৎস থেকে চিংড়ি পোনা আহরণ ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘুরে দেখা গেছে, নদীপাড়ের ক্ষেতচর অংশে প্রায় একশ লোক লাইন ধরে নদী থেকে পোনা আহরণ করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ কাজে সম্পৃক্ত। প্রত্যেকের হাতে একটি করে জাল রয়েছে। জাল দিয়ে এক মাথা থেকে আরেক মাথা টেনে পোনা আহরণ করছেন। জাল টানার পর বড় পাত্রে চিংড়ি পোনা সংরক্ষণ করেন তারা। চিংড়ি পোনা নিয়ে বাকি পোনাগুলো ফেলে দেন। অন্যান্য মাছের পোনা সংগ্রহকারীর সংখ্যা খুবই কম।
শাহাদাত নামে পোনা শিকারিদের একজন দৈনিক আজাদীকে বলেন, যখন ভাটা হয়, তখন তারা পোনা শিকারের জন্য নদীতে নামেন। একবেলায় ২-৩শ থেকে শুরু করে এক হাজারের মতো গলদা চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করতে পারেন। তিনি জানান, প্রতিটি পোনা এক টাকা করে স্থানীয় সওদাগর জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করেন তারা।
আরো কয়েকজন পোনা শিকারি জানান, পোনা শিকারের মাধ্যমে তারা প্রতিদিন ৪-৫শ টাকা আয় করেন। পোনা বেশি থাকলে হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। নদীতে পোনা বেশি পড়লে লোকজনও বেশি হয়। বর্তমানে খুব বেশি পোনা নদীতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তারা। পোনা শিকারিদের বেশিরভাগই যুবক ও মধ্যবয়সী। কয়েজন কিশোর ও নারীও পোনা আহরণে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয়দের অনেকেই পোনা আহরণের সাথে যুক্ত। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদী থেকে সংগ্রহকৃত এসব পোনা কিনেন স্থানীয় সওদাগর জাহাঙ্গীর। তার কাছ থেকে কিনে নেন একদল ব্যাপারী। পরে তাদের কাছ থেকে চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। চট্টগ্রাম শহরে পোনা কেনার একটি বড় চক্র আছে। অবৈধভাবে এসব পোনা সংগ্রহ. মজুদ ও পরিবহন কাজে সহযোগিতায় এক শ্রেণির মৎস্য কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ আছে।
জানা গেছে, কর্ণফুলী সেতুর পাশাপাশি নগরীর অলংকার মোড়েও অবৈধভাবে পোনা মজুদ করা হয়। পরে সেখান থেকে সুবিধামতো সময়ে লাখ লাখ টাকার পোনা ছোট ছোট ড্রামে করে চট্টগ্রামের বাইরে পাঠানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দূরপাল্লার বাস ও মিনি ট্রাকে করে এসব পোনা বাইরে পাচার হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এসব পোনাবাহী গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৯ মে লালখান বাজার সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে প্রায় ১ কোটি পিস চিংড়ি পোনা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। ৪টি মিনি ট্রাকে ১২৪টি ড্রামে এসব পোনা পাচার হচ্ছিল।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীকে নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তর প্রায় সময় অভিযান চালায়। এসময় পোনা শিকারিদের জরিমানা করা হয়। তিনি জানান, পোনা ব্যবসায় একটি সিন্ডিকেট আছে। সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের ধরতে কাজ করছে মৎস্য অধিদপ্তর।

x