কর্ণফুলীতে গরুর বাজারের দখলে খাল

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি নিষ্কাশন

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ৮ মার্চ, ২০১৯ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
218

কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকার একটি খাল গরুর বাজার সহ বিভিন্ন জনের দখলে চলে গেছে। ফলে কর্ণফুলীতে ৪ লেন সড়কে নির্মিত ড্রেনের পানি নিস্কাশন বর্তমানে বাধার সম্মুখীন। কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেকস্থ পশ্চিম পাশের খালটি গরুর বাজারের উচ্ছিষ্ট আর কাঁদামাটি দিয়ে ভরাট করে তাতে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। খড়খুটো এবং কাদা মাটিতে খালের পাড় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে খাল দখল করে একটি কারখানাসহ বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ কারণে খাল ভরাট হয়ে মইজ্জ্যারটেক থেকে দক্ষিণ দিকে জোয়ারের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল দখল হয়ে যাওয়ার ফলে বোরো চাষাবাদ করতে বিপাকে পড়েছে শত শত কৃষক। এ সড়কের সাথে সংযোগ দেয়া হয়েছে নির্মাণাধিন ৪ লেন সড়কের পাশে নির্মিত ড্রেন। কিন্তু আসন্ন বর্ষায় ড্রেনের পানি খাল দিয়ে নিস্কাশনে বাধাগ্রস্ত হবে। চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ মউজ্জ্যারটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্রমান্বয়ে খালের ভরাট চলছে। তারা জানান, খাল একটু একটু করে ভরাটের পর এর উপর ঘর তৈরি করা হয়। এভাবে এখন পুরো খাল কতিপয় ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। নির্মাণাধীন ৪ লেন সড়কের উভয় পাশে তৈরি করা ড্রেনের পানি নিস্কাশন ওই খালের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসন্ন বর্ষায় ড্রেনের পানি খাল দিয়ে নিস্কাশন হবে না। ফলে মহাসড়কে পানি জমে থাকলে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া বাঁধের দক্ষিণে বিভিন্ন কলকারখানার পানি বর্তমানে খাল দখলের কারণে আটকে থাকায় দূষিত হয়ে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। উপজেলার ব্যস্ততম স্থানে এ ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এখনো নির্বকার।
চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমদ জানান, খালে গরুর বাজারের দখলসহ নানা বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। এবার লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনে আবেদন করা হবে। ওই খাল ভরাট হওয়ার কারণে চরপাথরঘাটা, শিকলবাহা ও চরলক্ষ্যার লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মইজ্জ্যারটেক মোড়ের উত্তর পশ্চিম পাশে একটি কারখানা খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করছে। এ অবস্থায় খালের জমি উদ্ধার করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, আর এস খতিয়ান মোতাবেক ওই খালসহ উপজেলার সবগুলো খাল উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হবে। সেই ক্ষেত্রে ভূমিমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ আছে সব ধরনের খাল দখলমুক্ত করার। কর্ণফুলী উপজেলার জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন- আর এস খতিয়ান মোতাবেক সবগুলো খাল উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামশুল আলম তিবরিজ জানান- অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে খালকে দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

x