করেছিনু আশা

সত্যব্রত বড়ুয়া

শুক্রবার , ৪ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:১১ পূর্বাহ্ণ
30

রবি ঠাকুর বলেছেন, ‘ধন নয় মান নয় করেছিনু আশা- কিছু ভালোবাসা’ কিন্তু আমি ধন, মান দুটোই চাই। চাই অফুরন্ত ভালোবাসা। তিনি (কবি রবীন্দ্রনাথ) এও বলেছেন তাঁর আশা ছোট্ট একটি বাসা। আমার আশা সেকালের রাজাদের মতো একটি বিরাট রাজ প্রাসাদ। বাদশাহ্‌্‌ সাদ্দাদ চেয়েছিলেন এই পৃথিবীতে একটি বেহেস্ত তৈরি করতে। সেখানে তিনি বেহেস্তি সুখে থাকবেন। আমিও বেহেস্তি সুখ চাই। রবি ঠাকুর তাঁর ‘পদ্মা বোটে’ চড়ে পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়াতেন। আমার থাকবে আমেরিকার সে সময়ের ফার্স্ট লেডি জেকুলিন কেনেডির স্বামী ওনেসিসের প্রমোদ তরীর চেয়েও একটি বড় প্রমোদ তরী। সেই তরীতে চড়ে আমি প্রশান্ত মহাসাগরে ঘুরে বেড়াবো। চার্ব্বাক মুনি বলেছিলেন, “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ” অর্থাৎ যতোদিন বাঁচ সুখে বাঁচ, ঋণ করে হলেও ঘি খাও। মোদ্দা কথা জীবনকে ভোগ করো। আমি চার্ব্বাক পন্থী। জীবনকে তাই ভোগ করতে চাই। আমি ব্যাংক থেকে বিরাট অংকের টাকা ঋণ নিয়ে জীবনকে ভোগ করবো। হবো ঋণ খেলাপী। ব্যাংক ঋণ খেলাপীদের কাছ থেকে কখনো টাকা আদায় করতে পারেনা। এরা ঋণের টাকায় আমৃত্যু জীবনকে ভোগ করে। মহান দার্শনিকদের মধ্যে কেউ কেউ বলে থাকেন জীবনের পরম সত্য হলো দুঃখ। আমি মনে করি পরম সত্য বলে কিছু নেই। অমাবস্যা থাকলে যেমন পূর্ণিমা থাকে তেমনি দুঃখ থাকলে সুখও থাকবে। মহাজন ব্যক্তিরা অহরহই উচ্চারণ করেন ‘সত্যের জয় মিথ্যার পরাজয়’ কথাটি। বাস্তবে দেখি টাকার জোরে মিথ্যার জয় হয়ে যায়। টাকা দিলে যে ‘বাঘের দুধও পাওয়া যায়’ এটা আমি এখন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছি। আমার টাকা নেই তাই আমি ভেজাল দুধও কিনতে পরিনা। টাকা নেই বলে আপনি আপনার জটিল ব্যাধির চিকিৎসা করাবার জন্যে সিঙ্গাপুরে যেতে পারবেন না। যাদের টাকা আছে তারা সর্দি কাশি হলেও সিঙ্গাপুরে উড়াল দেয়। টাকাওয়ালা মানুষরা তাদের সত্যি কারের আয় ফাঁকি দিয়ে আয়কর দেন। ফাঁকি দেওয়ার কৌশলটা বাৎলে দেন আয়কর উকিলরা। এরা নিবন্ধনকৃত উকিল। কৌশল বাৎলে দেওয়ার আইনগত অধিকার তাই তাদের রয়েছে। আপনার কালো টাকা থাকলে সে টাকা সাদা করাবার সুযোগ ব্যাংকে আছে। কোমরের জোর না থাকলে আপনি যেমন সচল থাকতে পারবেন না তেমনি টাকার জোরেই আপনি জীবনকে সচল রাখতে পারবেন। টাকার জোর না থাকলে আপনি আপনার মামলায় হেরে যাবেন। টাকার জোরে ধুরন্ধর ব্যারিস্টার ধরে আসামি পক্ষ মামলায় জিতে যাবে। চাকুরী হতে অবসর গ্রহণ করবার পর আমি ভেবেছিলাম গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে গ্রামের উন্নয়নের জন্যে জীবনকে উৎসর্গ করবো। আমার বাসনা জেগেছিলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার। মনে করেছিলাম নির্বাচনে দাঁড়াবো। পরিচিত জনরা বললো আপনি ভদ্র মানুষ তাই নির্বাচনে হেরে যাবেন। গ্রাম উন্নয়নের কথা বললে তারা বললো, আপনি ‘ভিলেজ পলিটিঙ’ বুঝেননা তাই গ্রামের মানুষ আপনার সেবা-গ্রহণ করবেনা। আমি তাদের বললাম, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুছ হাটহাজারীর জোবরা গ্রাম থেকেই তাঁর কাজ শুরু করেছিলেন। তারা শুধু একটু মুখ টিপে হাসলো। আমাকে বললো ঘরে চুপ চাপ বসে থেকে লেখালেখি করতে। আমার প্রিয়জন ‘আলোকিত মানুষ’ হওয়ার প্রবক্তা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন বড় স্বপ্ন দেখতে। আমিও স্বপ্ন দেখছি। সেদিন স্বপ্নে দেখলাম আমি দামি গাড়ি হাঁকাচ্ছি। প্রবাদে ‘ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা’র কথা রয়েছে। আমি এমন গরিব নই যে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে স্বপ্ন দেখবো। আমার ভালো লেপ রয়েছে। সেই লেপের তলায় আমি ‘কুকুর কুণ্ডলি’ হয়ে শুয়ে সুখে স্বপ্ন দেখছি।

x