করবী চৌধুরী (মায়ের দেয়া শিক্ষা)

বুধবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ
58

‘বাজলো তোমার আলোর বেণু, মাতলো যে ভুবন …’ শুরু হলো দেবীপক্ষ। ভোর থেকেই আগমনী গানের সুরে সুরে মনেও লেগেছে এক অনির্বচনীয় আনন্দের দোলা। পাশাপাশি শংকাও। যখনই ভাবি, আর কয়েকদিন পরে সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হবে উচ্চস্বরে মাইকের শব্দের সাথে শ্লীল-অশ্লীল গান আর আরতির নামে কানফাটা ঢাকের আওয়াজ, তখন বিরক্তি এবং ভয় দুটোতেই মন ছেয়ে যায়। এত উচ্চলয়ের শব্দে কত অসুবিধা হতে পারে প্রতিবেশীদের! অনেক পরিবারে অসুস্থ সদস্য কিংবা পরীক্ষার্থী থাকে তাদের কাছে তো আনন্দের এই উদ্ভট প্রকাশ মাধ্যমটাকে নিরানন্দসম মনে হতে পারে। কিন্ত কে শোনে কার কথা! হিন্দি সিনেমার গানের তালে তালে আকণ্ঠ মদে চুর হয়ে থাকা কিছু তরুণের লম্ফঝম্ফের নাম যদি হয় আরতি তাহলে এদের রুচিবোধ নিয়ে কিই বা আর বলার থাকে? প্রতিবাদ করলেও বিপদ! আমি শুধু ভেবে পাইনা আনন্দের কোন সংজ্ঞায় পড়ে এসব? কিছু বারোয়ারী পূজামন্ডপে আয়োজকদের পছন্দের রাজনৈতিক বড়নেতা, ছোটনেতা, পাতিনেতা এসবের আগমন উপলক্ষে পক্ষ-বিপক্ষের সাংগোপাংগো দের চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ির মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শনের যে মহড়া চলে তাতেতো স্বয়ং মহিষাসুরেরও লজ্জা পাওয়ার কথা! এই কলুষিত পরিবেশে কি মায়ের আরাধনা চলে? শৈশব থেকেই জেনে এসেছি, ধর্মকে ধারণ করতে হয়। অতি প্রদর্শনে ধর্মের গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা উভয়ই বিনষ্ট হয়। আমার মা বলতেন, ঈশ্বর বন্দনা করতে হয় মনে, বনে, কোণে। মায়ের দেয়া সেই শিক্ষা প্রোথিত হয়ে আছে অন্তরে। মেনে চলছি এখনও, মেনে চলবো আমৃত্যু। শুভ মহালয়া।

x