কবে হবে স্বপ্নের সেতু

লিচুবাগান ফেরিঘাট

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই

শুক্রবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
114

লিচুবাগান এলাকায় ফেরিঘাটে কর্ণফুলী নদীতে কবে হবে স্বপ্নের সেতু? কবে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় অসংখ্য মানুষ। কিন্তু উত্তর কারো জানা নেই। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই ফেরি দিয়ে চলাচল করে। ফেরি পার হওয়ার সময় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, রাজস্থলী এবং কাপ্তাই উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগের জন্য প্রধান মাধ্যম হলো লিচুবাগান ফেরিঘাট। সারা পথ নিরাপদে আসতে পারলেও লিচুবাগান ফেরিঘাটের কাছে এলেই সবাইকে থমকে যেতে হয়। ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে অনেক জরুরি কাজেও সহজে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সর্বস্তরের জনগণ।
কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীতে অবস্থিত রাঙামাটি জেলার একমাত্র পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। এই গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেন জানান, লিচুবাগনে কর্ণফুলী নদীর উপর সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
তিনি বলেন, গবেষণার কাজে জরুরি প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ফেরির কারণে তাদের সহজ যাতায়াত সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে লিচুাবাগান ফেরিঘাট। এই ফেরিঘাটে যদি একটি সেতু থাকত তাহলে মানুষ উপকৃত হতো।
চন্দ্রঘোনা থানার ওসি আশরাফ আহমেদ জানান, চন্দ্রঘোনা থানায় মোটামুটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। কিন্তু লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু না থাকায় অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে নিরাপত্তা টহল দেওয়া সম্ভব হয় না। লিচুবাগান ফেরিঘাটে অবিলম্বে একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানান।
কাপ্তাই উপজেলার ২ নং রাইখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক জানান, রাঙামাটি বান্দরবান সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে সাধারণ যানবান চলাচলের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর গাড়ি নিয়মিত চলাচল করে। রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট রয়েছে। সেনা সদস্যদের প্রতিদিন একাধিকবার রাজস্থলী সেনা ইউনিটে যাতায়াত করতে দেখা যায়। কিন্তু লিচুবাগান ফেরিঘাটের কাছে আসার পর অন্য সবার মতো তাদেরও থমকে যেতে হয়। এখানে একটি সেতু থাকলে মানুষ উপকৃত হতো।
বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে যাত্রীবাহী দাইয়ান পরিবহনের চালক রুস্তম আলী জানান, লিচুবাগান ফেরিঘাটের কারণে প্রতি ট্রিপে কমপক্ষে ৩০ মিনিট সময় নষ্ট করতে হয়। আবার ভারী বৃষ্টি হলে ফেরির পন্টুন পানিতে ডুবে যায়। তখন অনেক সময় দিনের পর দিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সাংগ্রাইয়ের পরিচালক রুবী চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। বলতে গেলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো নদীতে আর ফেরি চলাচল করবে না। এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারের সেতু বিভাগ কাজ করছে। কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ লিচুবাগান ফেরিঘাটে এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

x