কবুতরসহ দেশি-বিদেশি পাখি পালনে আগ্রহ বাড়ছে কিশোর-যুবাদের

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ২৪ জুন, ২০১৯ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
96

সখের পোষা পাখি কবুতর নিয়ে আছে অনেক রূপকথা। সেকালের অনেক গল্প কাহিনীতে প্রকাশ রয়েছে কবুতরকে দূত হিসাবে ব্যবহারের ঘটনা। এই পোষা পাখিটি মানুষের কাছে শান্তির প্রতীক। যেকোনো অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন হয় এই পাখিটি উড়ানোর মাধ্যমে। স্বাস্থ্য সচেতন লোকজনের মতে কবুতরের বাচ্চার মাংস অত্যন্ত পুষ্টিকর। একারণে অনেকেই খাদ্য তালিকায় রাখেন এই জিনিষটি। বিশেষ করে প্রসূতিদের দেয়া হয় রান্না করা কবুতরের বাচ্চার মাংস। আবার কোনো কোনো অভিজাত বিয়ে ও বিভিন্ন ধরনের ভোজের আয়োজনেও খাদ্যে ম্যানুতে থাকে ফ্রাই করা কবুতর। গৃহপালিত এই পাখি পালনে রয়েছে এক শ্রেণির কিশোরদের বিশেষ জোক। বাড়ির ছাদে অথবা কান্নিচে কাঠের ঘর করে এই কবুতর পালন করে থাকে। বহুমুখী ব্যবহারের কারণে ইদানীং দেশের বিভিন্নস্থানে জমে উঠেছে অন্যান্য পোষা পাখির সাথে কবুতরের ব্যবসা। এই পাখি ব্যবসায়ী তাদের দোকানে অন্যান্য দেশি-বিদেশি পাখির সাথে রাখছেন নানা শ্রেণির কবুতর। জাত ভেদে প্রতি জোড়া কবুতরের দাম রয়েছে সর্বনিম্ন চার’শ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কবুতর পালনের পাখি গবেষক ও কৃষিবিদদের মতে কবুতর লাভবান ব্যবসা। এই পাখি পালন করতে বেশি জায়গা লাগে না, আবার অল্প সময়ে বাচ্চা পাওয়া যায়। ব্যবসা হিসাবে কবুতর পালন অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। শুধু সামান্য নজরদারি আর সতর্ক হলেই কবুতর পালন করে বেকারত্ব দূর করা যায়। এই সাথে বাণিজ্যিকভাবে খামারও করা যায়। সাধারণত কবুতর প্রতি মাসে দুটি করে বাচ্চা দেয়। বাচ্চার বয়স ২১ দিন হলেই বিক্রির উপযোগী হয়। জানা যায়, পৃথিবীতে ৬০০ জাতের কবুতর আছে। আমাদের দেশে ‘জালালি কবুতর সহ অন্যান্য দেশি জাতের কবুতর পালন বেশি দেখা যায়। ইদানীং বিদেশি উন্নত জাতের কবুতর পালনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষিবিদদের মতে মাংসের জন্য পালন করা কবুতরের জাতের মধ্যে রয়েছে হোয়াইট কিং, টেক্সেনা, সিলভার কিং, হামকাচ্চা, কাউরা, হোমার, গোলা, ডাউকা, লক্ষ্যা ও পক্কা জাতের কবুতর।
সখের বশে যারা কবুতর পালন করে তাদের কবুতরের জাত হচ্ছে সিরাজী, ময়ুরপঙ্খী, লাহোরি, ফ্যানটেইল, জেকোভিন, মুকি, গিরিবাজ, টেম্পালার, লোটন ইত্যাদি। এরমধ্যে গিরিবাজ কবুতর উড়ন্ত অবস্থায় ডিগবাজি খেয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। কবুতরের প্রিয় খাবার হচ্ছে জোয়ার, ভুট্টা, ধান, চাল, কলাই, কাউন, মটর, খেসারি, সরিষা, গম ইত্যাদি।
পশু পাখি চিকিৎসকদের মতে কবুতরের রোগব্যাধি তেমন হয় না। তবে যেসব রোগ হয় সেগুলোর মধ্যে বসন্ত, কলেরা, রক্ত আমাশয় যাকে বলা হয়ে থাকে ককসিডিওসিস, আরও আক্রমণ করতে পারে কৃমি।
কবুতরের বসন্ত রোগে পালকবিহীন স্থানে ফোস্কা পড়ে। গলার ভেতর ঘা হয়, খেতে পারে না। রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত কবুতরের গুটিতে টিংচার আয়োডিন বা স্যাভলন লাগানো যেতে পারে। কবুতরের বয়স যখন চার সপ্তাহ তখন পিজিয়ন পঙ টিকা বুকে ও পায়ের পালক তুলে সিরিঞ্জ দিয়ে দিলে বসন্ত রোগ হয় না।
কলেরা রোগ হলে অস্বাভাবিকভাবে কবুতরের দেহের তাপমাত্রা বাড়ে। শ্বাসকষ্ট হয়, পিপাসা বাড়ে, সবুজ বা হলুদ রঙের ঘন ঘন পায়খানা হতে পারে, কবুতরের ওজন কমে যায়। শেষে কবুতর হঠাৎই মারা যায়। কলেরা রোগে আক্রান্ত কবুতরকে রোগ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে টেরাসাইসিন ক্যাপসুল বা ইনজেকশন বা কসুমিঙ প্লাস দেয়া যেতে পারে।
অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ কবুতর পালন ও ব্যবসা এখন বেছে নিয়েছে রাউজানের অনেক কিশোর যুবক। তারা ঘরে কবুতর পালনের পাশাপাশি বাজারে প্রদর্শনী বিক্রি কেন্দ্র খুলেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারে দেশি বিদেশি পাখি বিক্রির দোকান রয়েছে। এসব দোকানের প্রদর্শনীতে বেশি রয়েছে দেশি বিদেশি কবুতর। দক্ষিণ রাউজানের নোয়াপাড়া পথেরহাটের আমির মার্কেটের কবুতরসহ নানা জাতের পাখি ব্যবসা করছেন মোহাম্মদ মুমিন নামের এক যুবক। তিনি জানান তার ঘরে কবুতর পালন করার পাশাপাশি পাখির দোকান খুলে ভাল ব্যবসা হচ্ছে। তার দোকানে দেখা গেছে দেশি বিদেশি সব শ্রেণির পাখি বিক্রির জন্য রেখেছেন। রয়েছে এসব পাখির পছন্দের পুষ্টিকর খাবারও। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মুমিনের মত আরো অনেকের পাখির দোকান আছে।

x