কবিতায় আধুনিকতার অনন্য রূপকার সমর সেন

শুক্রবার , ২৩ আগস্ট, ২০১৯ at ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ
14

বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট আধুনিক কবি ও সাংবাদিক সমর সেন। তাঁর সাহিত্য জীবন ছিল স্বল্প সময়ের – মাত্র চোদ্দ বছর। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই যা কিছু তিনি রচনা করেছেন তা সাহিত্য জগতে তুলেছিল ব্যাপক আলোড়ন। সাংবাদিক এবং অনুবাদক হিসেবেও সমর সেন ছিলেন অনন্য। আজ তাঁর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। সমর সেনের জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ই অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে। খ্যাতনামা গবেষক ও পণ্ডিত দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁর পিতামহ। সমর সেনের সাহিত্য মানস গড়ে ওঠার পেছনে পিতামহের বাড়ির সাহিত্য পরিবেশের বিশেষ ভূমিকা ছিল। বাবা অরুণচন্দ্র সেন এবং মা চন্দ্রমুখীর প্রেরণাও কোনো অংশে কম ছিল না। অল্প বয়সেই অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিক ও তাঁদের রচনার সাথে পরিচয় ঘটেছিল সমরের। ইংরেজি সাহিত্যের কৃতী ছাত্র সমর কবিতা লিখতে শুরু করেন ত্রিশের দশকে। কর্মজীবনে পেশা বদলেছেন বেশ কয়েকবার। অধ্যাপনা, আকাশবাণীতে বার্তা-সম্পাদক, তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে অনুবাদক, পত্রিকার সহ-সম্পাদক কিংবা পত্রিকা সম্পাদনা – এ ধরনের সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত থেকেছেন তিনি। কবি জীবনের মতোই সাংবাদিকতাও সমর সেনের জীবনের এক বিশিষ্ট অধ্যায়। ‘নাউ’ ও ‘ফ্রন্টিয়ার’ নামের দুটি ইংরেজি পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : ‘গ্রহণ’, ‘নানাকথা’, ‘খোলা চিঠি’, ‘তিন পুরুষ’, ‘সমর সেনের কবিতা’ প্রভৃতি। ‘বাবু বৃত্তান্ত’ তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। নাগরিক জীবনের চিরায়ত রূপ, মধ্যবিত্তের হতাশা-গ্লানি, স্ব-বিরোধিতা ও চাতুর্য তাঁর কবিতায় বিশেষ ব্যাপ্তি পেয়েছে। ব্যঙ্গপ্রধান অথচ তীক্ষ্ন বক্তব্যধর্মী ভাষায় সমরের কবিতা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। বাড়িতে বাম-ঘেঁষা রাজনীতির চর্চার সূত্রে সমর সেন বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক ছিলেন। তাঁর রচনায় নিজের রাজনৈতিক চেতনার নির্ভীক প্রকাশ ঘটেছে। ১৯৮৭ সালের ২৩শে আগস্ট কবি সমর সেন প্রয়াত হন।

x