কবিতাগুচ্ছ

সাঈদুল আরেফীন

শুক্রবার , ৫ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
24

ছুটছি অহর্নিশ

অহর্নিশ ছুটছি আমি তুমি সে
কোথায়, ঠিকানা কোথায়? গন্তব্যহীন যাত্রা
ম্রিয়মাণ সময়ের স্রোত শুধু বয়ে যায় নিরন্তর
স্বপ্নানুভবের পাল তুলে কখনো ডিঙি নৌকোয়, কখনোবা
পাল তোলা জাহাজে ছুটছি অবিরত। নিষ্ঠুর অপরিপক্ক
পরিকল্পনার ফানুশ উড়ছেই উড়ছে, কবির মন দেয়াল
ভেঙে যায় পূর্ণিমার স্রোতে। মহাকাল, কালের অতল গহ্বর
ঘুম ভাঙায় প্রখর রোদাপ্লুত কোন এক বিকেলে,
তবুও আমি তুমি সে
ছুটছি। ছুটছি। ছুটছি। কেবলই ছুটছি
ধূসর কোন পোড়ো বাড়ির সামনে আবছা আলোয়
ভাসাই খেয়াতরী তোমার। না আমার। না স্বপ্নলোকের
দেয়াল খুঁজছি। শুধু খুঁজছি। থমকে থমকে পা পিছলে
হয়তো পেয়ে যাবো সেই ঠিকানা
লাল সিরামিক ইটে গড়া ফেলে আসা সকাল,
সেই স্বপ্নানুভবের ছোট গল্প আমাকে, তোমাকে
তাকে ফিরিয়ে দেবে ধুসর সময়ের গতিপথে আবারো
গন্তব্যহীন যাত্রা পথ।

বিবর্ণ বৈশাখ নও

নক্ষত্র তিথির হিসেব বলেও কথা আছে,
আছে পালাবদলের রেখা, চলে গেছে দিন
চলে গেছে রাত্রি কতো। অমাবস্যা পূর্ণিমা পেরিয়ে
আজো টিকে আছে অনুভব, ভালোবাসার রঙ,
কবিতার শহরে দীপ্তিময় হয়ে ছোটে উৎসবালোয়
ফানুশ ওড়ানো আকাশের দুপুর চিকচিকে রোদ্দুর ;

হাজার বছর কেটে গেছে , কেটে গেছে কতো গোধূলি বেলা
শহর কলকাতা,ঢাকা বলি এপার বাংলা- ওপার বাংলা
রক্ত ক্ষণিকা দেহের ভেতর বয়ে দেয় গঙ্গা-যমুনার সেই
অবেলা কথন। মঙ্গল শোভাযাত্রায় কেউ বা খোঁজে জাতপাত
কিম্বা ইলিশের অহঙ্কার ও,
তুমি বৈশাখ বিবর্ণ নও, আছো শিরা উপশিরায়
জনতার বঙ্গাব্দরুপে। ধূপছায়া বিকেল পেরুনো অন্য
আলোর আকাশে ভেসেছো তুমি
দেদীপ্যমান লাল শাদা রঙিন অবয়বে মাটি আর
মানুষে লোকজ ঊৎসবে ঐতিহ্যে কেবলই
বাংলায়।
ঘাসফুল কবিতার মিছিল

ঘাসফুল, কবিতার মিছিল পায়ে পায়ে
এসে নিঃশ্বাস ফেলেছে,
অমৃতের বাণী মানচিত্রের ভেতর
লুটোপুটি খেয়েছে সবুজাভ নুরলদীনের
সারাজীবন, জলেশ্বরী কী অপূর্ব উন্মাদনায়
ভর করেছে অস্থির প্রজাপতিরা;
ঝাঁকে ঝাঁকে ডানা মেলেছে,
হৃৎ কলমের টানে-কী সুস্বাদু স্বাগত ভাষণ
ভাষার অক্ষাংশ জুড়ে তুমিই কবি
হাজার বছরের উজান টানে যে বৈঠা টেনেছো
আধকোশা নদীর অবয়বে। মৃত্তিকার ঘন অন্ধকার
তোমাকে ছোঁবে না হে কবি!
‘পরাণের গহীন ভেতর’ বাইরে তুমি
ছড়িয়ে দিয়েছে “নিষিদ্ধ লোবান’ দ্যাশ মৃত্তিকায়,
সময়ের ফেরে আলোড়িত সাহসী উচ্চারণ দেখলো
মুজিবীয় বাংলাদেশ, ‘জাগো বাহে কুণঠে সবায়’,
দ্যাশেও নয় তুমি অবারিত কবি বিশ্বজয়েও

চর্যাপদের শহরে

হঠাৎ পৌঁছে যাই অজানা অচেনা পাহাড়ের কোলে,
ঝর্ণার সাথে কথা বলতে থমকে দাঁড়াই, অদ্ভুত সুন্দর
ছবি যেনো কথা বলছে। আর পেছন ফিরে দেখছে,
মনের ফ্রেমে অযুত সব কল্পনার ফানুশ উড়িয়ে আনছে।
ছবিটা প্রাগৈতিহাসিক শহরের, পৌরানিক সভ্যতা
ছুঁয়ে আছে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে,
হাত বাড়ালেই ইতিহাস কথা কয়, চর্যাপদ আদদোহা ও
গীতিকবিতা পড়ছেন ছায়াহীন প্রাণহীণ মানব মানবী
কানে বাজছে সুর ইতিহাসের। শূণ্যতার গানে একাকার
হয়ে যাচ্ছি বারবার। মনের ভেতরটা ছারখার করছিলো
বাংলার উৎসমুখে। হাজার বছর পেরিয়ে গেছে ,
ভাটার টান ধরেনি। আলো আলোয় জাগছে সবই,
সম্পর্কের অন্ধকার কেড়ে নিয়ে নিঃশ্বাস ফেলছে
জীবনের কবিতার । শব্দের অলংকারে ভাসছে
রাজদরবার। সভ্যতা জেগে রয় অগণন
সময়ের পথ ধরে ।

x