কন্টেনারে ইলেক্ট্রনিক তালা লাগানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চান ব্যবসায়ীরা

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চেম্বার সভাপতির চিঠি

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১১ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
158

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কন্টেনারে ইলেক্ট্রনিক তালা লাগানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চান ব্যবসায়ীরা । এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য গতকাল চট্টগ্রাম চেম্বার থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডিমুখী এবং আইসিডি থেকে বন্দরমুখী সব কন্টেনারে এই ইলেক্ট্রনিক তালা লাগানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে ব্যবসায়ীদের বাড়তি অর্থের যোগান দিতে হবে। যা ভোক্তাদের উপরই পড়বে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে ১৬টি বেসরকারি আইসিডি গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রামের এসব আইসিডিতে হাজার হাজার কন্টেনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে। চলতি বছর আইসিডিগুলোতে হ্যান্ডলিংকৃত কন্টেনারের পরিমাণ দশ লাখ টিইইউএস ছাড়িয়ে যাবে। এই বিপুল সংখ্যক কন্টেনারে ইলেক্ট্রনিক তালা লাগানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে একটি এসআরও জারি করা হয়েছে। প্রতি তালা চব্বিশ ঘন্টা ব্যবহারের জন্য তাদেরকে ছয়শ’ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘন্টার জন্য পঞ্চাশ টাকা করে চার্জ পরিশোধ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন যে আড়াই থেকে তিন হাজার কন্টেনার বের হয়, আবার যে পরিমান কন্টেনার ১৬টি আইসিডি থেকে বন্দরে আসে সবগুলোতে এই তালা লাগাতে হাজার হাজার মিনিট সময় দরকার। যা এক বিশাল কর্মযজ্ঞে পরিণত হবে। এতে সময়মতো কন্টেনারে তালা লাগানো এবং সময়মতো কন্টেনার গন্তব্যে পৌঁছানো একটি কঠিন ব্যাপারে পরিণত হবে বলেও বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।

বেশ কয়েকমাস আগে এই ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয় এবং আলীফ এন্টারপ্রাইজ নামের বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠানকে তালা লাগানোর জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। এই ব্যাপারে সম্প্রতি আবারো একটি এসআরও জারি করা হয়েছে। এই এসআরও বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরিত এক পত্রে গতকাল অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট। পত্রে চেম্বার প্রেসিডেন্ট বলেন, আমদানিরপ্তানি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে এ অঞ্চলে প্রাইভেট আইসিডি বা অফডক স্থাপন করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (কাস্টমস) কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকৃত বা রপ্তানিতব্য পণ্য চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত আইসিডি বা অফডকে পরিবহনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক সীল ও লক সেবা বিধিমালা২০১৮, এস.আর.ও নং১৯৮আইন/২০১৮/৩০/কাস্টমস, তারিখঃ ২৬/০৬/২০১৮ ইং একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। উক্ত বিধিমালার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর হতে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত প্রাইভেট আইসিডিসমূহে আমদানিকৃত বা রপ্তানিতব্য পণ্য পরিবহনে ইলেকট্রনিক সীল ও লক সেবা প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়। এ বিধিমালার অধীনে প্রতি কন্টেনারে ইলেকট্রনিক সীল ও লক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘন্টার পরবর্তী প্রতি ঘন্টার জন্য, প্রতি কাভার্ডভ্যান বা ট্রাক ৬০০/-(ছয়শত) টাকা এবং ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘন্টার পরবর্তী প্রতি ঘন্টার জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা হারে ফিস নির্ধারন করা হয়।

চেম্বার সভাপতি তালা লাগানোর এই কার্যক্রমের বিরোধীতা করে বলেন, আইসিডিসমূহে কন্টেনার পরিবহন শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর ও প্রাইভেট আইসিডিসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে কোন ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি। কন্টেনার স্থানান্তরকালে মধ্যবর্তী স্থানে কোন শুল্ক বা কর ফাঁকির প্রচেষ্টাও পরিলক্ষিত হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর ও প্রাইভেট আইসিডিসমূহের মধ্যে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক কন্টেনার স্থানান্তরিত হয়। উল্লেখিত লক সেবা চালু হলে বন্দরের কার্যক্রমে অহেতুক সময়ক্ষেপন হবে এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাবে যা প্রকারান্তরে ভোক্তাসাধারণের উপরেই বর্তাবে। তাই দেশের ব্যবসাবাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে উল্লেখিত বিধিমালাটি বাতিলের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নির্দেশনা প্রদানের জন্য ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে চেম্বার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে অনুরোধ জানিয়েছেন।

সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনও এই তালা লাগানোর ব্যাপারটি অহেতুক বলে উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে। যার যোগান কার্যত দেশের ভোক্তা শ্রেনীকেই দিতে হবে। কন্টেনার এমনিতেই তালাবদ্ধ থাকে। এর উপর শুধু শুধু এই তালা চাবি লাগিয়ে শত কোটি টাকা খরচ করানোর কোন মানে হয়না বলেও সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন।

x