কথা রাখছে না সিডিএ : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
1400

সিডিএর মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে খাল-নালা সংস্কারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রথম বছর ৪০ কোটি, দ্বিতীয় বছর ৩৫ কোটি এবং তৃতীয় বছর ২৫ কোটি টাকা সিটি কর্পোরেশনকে দেয়ার কথা। কিন্তু তা দেয়া হচ্ছে না। গতকাল বুধবার দুপুরে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সিভিল সোসাইটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র। জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের আওতায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকালকের সভায় শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা, যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বর্ষা ঘনিয়ে আসায় জলাবদ্ধতার শংকা থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ খাতে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর তা ব্যবস্থাপনার জন্যও বাজেট পরিকল্পনা থাকতে হবে। যেমন খাল খননের পর তা প্রত্যেক বছর মাটি উত্তোলন বা সংস্কার করতে হয়। স্লুইস গেটগুলো বন্ধ রাখলে খালগুলোতে সিলট্রেশন হবে। তাই প্রতি বছর মেনটেইনেন্স করতে হবে। বাসযোগ্য নগরী গড়তে প্রত্যেককে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর মাঝে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা আনয়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, শহরে নানা ধরনের গাড়ি চলাচল করে। অথচ কোন পার্কিং ব্যবস্থা নেই। এটা আধুনিক নগরীর পর্যায়ে পড়ে না। অথচ তিলোত্তমা নগরী এবং প্রচ্যের রাণী হিসেবে অভিষিক্ত করেছি চট্টগ্রামকে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে কত ধরনের যানবাহন চলাচল করে তার আকার-আকৃতি-প্রকৃতি নির্ণয় করতে হবে। সেইসব যানবাহনের পার্কিং ব্যবস্থার জন্য সেবা সংস্থাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন অতীব জরুরি। এক্ষেত্রে চসিক, সিডিএ এবং ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয় ছাড়া যানবাহনের শৃঙ্খলা আনায়ন অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চসিকের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল প্রকল্প যেহেতু সিডিএ বাস্তবায়ন করছে তাই চসিকের কাজ করার কোন সুযোগ নাই। যদি জলাবদ্ধতা নিরসন সংক্রান্ত কোন কাজে চসিক সম্পৃক্ত হয় তাহলে ওভারলেপিং হতে পারে। চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্প থেকে মেনটেইনেন্স খাতে সিটি কর্পোরেশনকে ১০০ কোটি টাকা টাকা দেয়ার প্রস্তাব ছিল। এজন্য কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।
সভায় চসিক সচিব মোহাম্মদ আবু শাহেদ চৌধুরী, কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল, সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, শফিউল আলম, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, আইইবি’র কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী এমএ রশিদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, প্রকৌশলী মো. হারুন, সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, এডিসি মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী, সিডিএ এর টাউন প্ল্যানার স্থপতি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বারের পরিচালক রেখা আলম, সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস বক্তব্য রাখেন।

x