কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় আ. লীগ জয়ী

আজাদী ডেস্ক

সোমবার , ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
368

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। একইভাবে তিন পার্বত্য জেলার বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে জাফর আলম, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে আশেকউল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে সাইমুম সরওয়ার কমল ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে শাহীন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বান্দরবানে বীর বাহাদুর, খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রাঙামাটিতে দীপংকর তালুতদার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কক্সবাজার প্রতিনিধি আহমদ গিয়াস জানান, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত জাফর আলম (নৌকা) মোট ভোট পান ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৬ এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ পান ৫৬৬০১ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ ইলিয়াছ (লাঙল) ২৩১ ভোট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রার্থী আলী আজগর (হাতপাখা) ৫২২ ভোট, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম (হাতুড়ি) ৪২৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএমচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বদিউল আলম (সিংহ) ৮৯ ভোট ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাফর আলমের মেয়ে তানিয়া আফরিন জাফর (মটর গাড়ি-কার) ২১৮ ভোট। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত আশেকউল্লাহ রফিক পান ২ লাখ ১৩ হাজার ৯১ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ আপেল প্রতীকে পান ১৮ হাজার ৫৬৭ ভোট এবং বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ পান ১১ হাজার ৭৮৯ ভোট। এছাড়া, গণফ্রন্টের প্রার্থী ড. আনসারুল করিম (মাছ) ২৯৫ ভোট, জাপা প্রার্থী মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ (লাঙল) ৮৭ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আবু ইউসুফ মুহাম্মদ মনজুর আহমদ (মোমবাতি) ১৮৭ ভোট, বিকল্প ধারার প্রার্থী মেজর (অব:) শাহেদ সরওয়ার (কুলা) ৩৭১ ভোট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী জসীম উদ্দিন (হাতপাখা) ১৬৫০ ভোট, এনডিএমের প্রার্থী মো. শহিদুল্লাহ (হারিকেন) ৭১ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান (চেয়ার) ৫২০ ভোট।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাইমুম সরওয়ার কমল (নৌকা) মোট ভোট পান ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮২৫ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের লুৎফুর রহমান কাজল পান ৮৬ হাজার ৭১৮ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির মফিজুর রহমান ২৮৪ ভোট, মোহাম্মদ আমিন (হাতপাখা) পান ১১৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাছন (টেলিভিশন) পান ২৬৩ ভোট।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত শাহীন চৌধুরী (নৌকা) মোট ভোট পান ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৪ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের শাহজাহান চৌধুরী পান ৩৭ হাজার ১৮ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাস্টার এমএ মনজুর (লাঙল) ১৮১ ভোট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ শোয়াইব (হাতপাখা) পান ১৫১২ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী রবিউল হাসান (মিনার) ২১৮ ভোট ও গণঐক্যের প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ (হারিকেন) পান ৬৮ ভোট।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি সমীর মল্লিক জানান, খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে বেসরকারিভাবে নৌকা প্রতীকে নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ১’শ ৫৬ ভোট পান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সিংহ প্রতীক পান ৫৯ হাজার ২’শ ৫৭ এবং ধানের শীষ ৫১ হাজার ২’শ ৬৬ ভোট পান। অন্যদিেক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল জব্বার গাজী ২৯২৫ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ পান ২৩৪০ ভোট।
গতকাল রোববার রাতে জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো.শহিদুল ইসলাম নৌকার প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এর মধ্যে দিয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ৩য় বারের মত জয়ী হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এর আগে ২০০৮ সালে নৌকার প্রার্থী যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং ২০১৪ সালে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়। তবে এবার একাদশ সংদস নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। দলের এই বিজয়কে নৌকা ও শেখ হাসিনার প্রতি পাহাড়ের মানুষের অকৃত্রিম প্রেম হিসেবে আখ্যায়িত করেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। জেলার ১৮৭ টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৫৪ জন ভোটার ভোট দেয় ।
লামা প্রতিনিধি তানফিজুর রহমান জানান, মহাজোট মনোনীত প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ২২৩ ভোট পেয়ে ৬ষ্ঠ বার সংসদ সদস্য পদে জয়লাভ করেছেন। গতকাল রোববার রাতে বেসরকারিভাবেপ্রাপ্ত ফলাফল অনুয়ায়ী নিকটতম প্রতিদন্দ্বী থেকে ৮৪ হাজার ১৭৬ ভোট বেশি পেয়ে তিনি জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি মননীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৪৭ ভোট।
গতকাল রোববার সকালে বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ভোট প্রদান করেন। উল্লেখ্য, বান্দরবান আসনে মোট চারজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং নৌকা প্রতীক, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ধানের শীষ প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম হাত পাখা প্রতীক এবং ইসলামী ঐক্যজাট প্রার্থী মো.বাবুল হোসেন মিনার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সংসদীয় আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৩ জন। তন্মধ্যে মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৯ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৪ জন।
রাঙামাটি প্রতিনিধি বিজয় ধর জানান, রাঙামাটি ২৯৯ নং আসনে ২০৩ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৮০ টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দীপংকর তালুকদার (নৌকা) পেয়েছেন ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৪৪ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (সিংহ) উষাতন তালুকদার পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৪৯৫ ভোট। নৌকা প্রাথী দীপংকর তালুকদার ৬২৩৪৯ ভোটে এগিয়ে আছেন। এদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কা প্রতীকের মণি স্বপন দেওয়ান পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৭ ভোট, লাঙল প্রতীকের অ্যাড মো. পরভেজ তালুকদার (লাঙল) ৪৭০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন (হাতপাখা) ১৫৪৬ভোট, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী জুই চাকমা (কোদাল) ৪৪৫ ভোট। রাঙামাটি রিটার্নিং অফিসার এ কে এম মামুনুর রশীদ এ ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, রাঙামাটিতে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দীপংকর তালুকদার পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মৈত্রী চাকমা পেয়েছেন ৫৬৪২৯ ভোট। অপরদিকে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উষাতন তালুকদার পেয়েছেন ৯৫ হাজার এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দীপংকর তালুকদার পেয়েছেন ৭৭ হাজার ভোট।

x