কক্সবাজারে লবণ বোর্ড গঠনসহ নানা দাবি

মহেশখালীতে লবণ চাষি সংগ্রাম পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

মহেশখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
12

লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, মিল মালিকের কারসাজিতে ওজনে বেশি নেওয়া বন্ধ, মিল মালিক কর্তৃক বিক্রেতাদের কাছ থেকে অন্যায্য খরচ আদায়, কক্সবাজারে স্থায়ী লবণ বোর্ড গঠন ও ১৯৯৬-৯৭ সালে সরকার কর্তৃক মাঠ পর্যায় থেকে ন্যায্যমূল্যে লবণ কেনার জন্য চাষিদের দেওয়া একর প্রতি ৫ হাজার টাকা ঋণ মওকুপসহ লবণ চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে মহেশখালীতে সংবাদ সম্মেলন হয়। গত ৯ জানুয়ারি মহেশখালী প্রেসক্লাবে মহেশখালী লবণ চাষি সংগ্রাম পরিষদ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী মিল মালিক কর্তৃক সিন্ডিকেট করে লবণের পরিমাপে বেশি নেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে সাড়ে ৩৭ কেজিতে এক মণ হলেও মিল মালিকরা এখন তাদের ইচ্ছা মাফিক মণপ্রতি ওজনে ৪৫ কেজি নিয়ে নিচ্ছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে চাষিরা ওজনে হয়রানির শিকার হচ্ছে।
বক্তারা সাড়ে ৩৭ কেজিতে মণ নির্ধারণ করে ওজনে কারচুপি বন্ধের দাবি জানান। তারা বলেন, বাজার থেকে প্রতি কেজি লবণ আমরা ক্রয় করছি ৩০/৪০ টাকা। কিন্ত আমরা এক কেজি লবণের দাম ৫ টাকাও পাচ্ছি না। অথচ বর্তমান সরকার লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দিলেও মিল মালিক সিন্ডিকেটের কারণে তার সুফল পাচ্ছি না। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে লবণের মুল্য দুইশ টাকার কম। চাষিদের দাবি, প্রতি কেজি লবণ ১০ টাকা করে মূল্য নির্ধারণপূর্বক মনপ্রতি (সাড়ে ৩৭ কেজি) ৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হোক। তাছাড়া মিল মালিকের ক্রয়কৃত লবণের ধোলাই খরচের অজুহাত দেখিয়ে বিক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া যাবতীয় খরচ মিল মালিকের নিকট থেকে বহন করার ব্যবস্থা করা হোক।
লিখিত বক্তব্যে চাষিরা অভিযোগ করে, সরকার এ পর্যন্ত লবণকে শিল্প পণ্য বা কৃষিপণ্য কোনোটিতেই স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে গেলে বলে এটি শিল্প নয়, আবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে গেলে বলে এটি কৃষি পণ্য নয়। তাই অবিলম্বে লবণকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কক্সবাজারে স্থায়ী লবণ বোর্ড গঠন করে লবণ চাষিদের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে কঙবাজারে নবনির্বাচিত চার সাংসদ, জেলা প্রশাসক, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের দেওয়া একর প্রতি ৫ হাজার টাকা মওকুফ করে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড়মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, সাবেক সভাপতি এম ফোরকান, মো. কামাল কোং, দলিল মিয়া, লবণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে মহসিন আনোয়ার, নেচার উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, এনামুল হক, জাফর আলম, সুকুমার কান্তি দে, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইসলাম, সালমান, আব্দুল্লাহ আল নিশান, সিরাজুল ইসলাম, আশরাফ জামাল ও আব্দুল্লাহ আল নোমান সুমন।

x