কক্সবাজারে মাছ ধরা উৎসব

উপকূলে সারি সারি ট্রলারের আসা-যাওয়ায় মুগ্ধ পর্যটক

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

সোমবার , ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
167

কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরে গত কয়েকদিন ধরে যেন মাছ ধরা উৎসব চলছে। সমুদ্র সৈকত থেকে সারি সারি ট্রলারের আসা-যাওয়ার দৃশ্য দেখে এখন তাই মনে হচ্ছে।

৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে টানা ৩ মাস সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে পুরোদমে মাছধরা শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার ৫ সহস্রাধিক মাছধরা ট্রলারের প্রায় এক লাখ জেলে এখন নিয়মিত সাগরে আসা যাওয়া করছে।
জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি সূত্র জানিয়েছে, টানা ৩ মাস সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর পক্ষকাল আগে মাছ ধরা শুরু হলেও গত কয়েকদিন ধরে চলছে পুরোদমে মাছ শিকার। এর ফলে জেলেদের মাঝে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মাছ শিকার বন্ধ থাকায় ৩ মাসাধিককাল ধরে আর্থিক অনটনের শিকার জেলেদের মুখে এখন ফুটেছে হাসি।

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, কক্সবাজার জেলার ছোট-বড় ৫ সহস্রাধিক মাছধরা ট্রলার এখন নিয়মিত সাগরে আসা যাওয়া করছে। এতে কক্সবাজারের লক্ষাধিক জেলে ব্যস্ত সময় পার করছে।

তিনি জানান, মাছধরা বড় নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ জন এবং ছোট নৌকায় ৫ থেকে ১৭ জন জেলে থাকে। আবার কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর ঘাটের ইঞ্জিনবিহীন ককশিটের বোটে থাকে মাত্র ২ জন জেলে। সাধারণত: ইলিশ জালের বোটগুলো গভীর বঙ্গোপসাগরে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরে।

ইলিশ জালের বোটগুলো পক্ষকালের রসদ নিয়ে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো মাত্র একদিনের রসদ নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। বিহিন্দি জালের বোটগুলো উপক‚লীয় সাগরে ‘পাঁচকাড়া’ (পাঁচ প্রকারের) মাছ ধরে। তবে গত কয়েকদিন ধরে উপকূলে ‘পাঁচকাড়া’ মাছ ধরা পড়লেও ইলিশ জালে কাঙ্খিত মাছের দেখা মিলছে না।

কক্সবাজার ফিশারীঘাটস্থ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে কিছু ইলিশ ফিশারীঘাটস্থ জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এলেও তা আশানুরূপ নয়। সোমবার একটি ট্রাকবোঝাই করে মাত্র ৫ মেট্রিক টন ইলিশ কক্সবাজার থেকে ঢাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। একইভাবে আগের দিন রবিবার ৭ টনের মতো এবং শনিবার ১০ টনের মতো ইলিশ গেছে। অথচ ঘোর মৌসুমে প্রতিদিন ২শ’ টনও ইলিশ যায়।’

তবে কক্সবাজার উপকূলের তুলনায় পাথরঘাটা ও মহীপুরের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরেই বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে জানিয়ে জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘এ কারণে কক্সবাজারের বেশিরভাগ ট্রলারই এখন ওই অঞ্চলে মাছ ধরছে এবং জ্বালানি খরচ কমাতে তারা এখন কক্সবাজারের পরিবর্তে নিকটবর্তী ঘাটে মাছ নিয়ে যাচ্ছে।’ কক্সবাজারে ইলিশের বাজারদর ওই এলাকার তুলনায় কম বলেও জানান তিনি।

দরিয়ানগর বড়ছড়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি নজির আলম জানান, বিহিন্দি জালের বোটগুলোতে এখন পোপা, ঘুইজ্জা, অলুয়াসহ আরো কয়েক প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। আর এসব মাছ স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন (টোয়াক বাংলাদেশ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, ‘সাগরে সারি সারি ট্রলারের আসা-যাওয়ার দৃশ্য থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণকারী পর্যটকেরা বিমুগ্ধ হচ্ছে। এছাড়া সামুদ্রিক তাজা মাছের স্বাদ নিতে পেরেও তা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে।’

x