কক্সবাজারে দেড় হাজার কোটি টাকা মূল্যের জমি উদ্ধার

শর্ত ভঙ্গের কারণে বিএনপি জোট সরকারের আমলে বরাদ্দকৃত ৫৭টি প্লট বাতিল

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
235
বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে ইজারা দেয়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেল জোনের
এক একর বিশিষ্ট ৫৭টি প্লট উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিলের পর জেলা প্রশাসন প্লটগুলোর সামনে সাইনবোর্ড পুঁতে দিয়ে সরকারের দখলে নিয়েছে।
উদ্ধার সরকারি জমিগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ফিরে পাওয়া জমিগুলো পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসন জানায়, বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ইজারা দেয়া প্রায় ৭১টি প্লটের মধ্যে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ৫৯টি প্লট বাতিলের সুপারিশ করে ২০০৯ সালের জুলাইর দিকে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটি।
এরই প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের এসব প্লট বাতিল ঘোষণা করা হয়। এরপর জমিগুলোতে লাল পতাকা পুঁতে দিয়ে সরকারের দখলে আনা হয়।
পরে এ বাতিলাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন ইজারা গ্রহীতারা। তারপর দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দিলে ফের সুপ্রিম কোর্টের কাছে শরণাপন্ন হন ইজারাগ্রহীতারা। সেখানেও হেরে যাওয়ার পর সর্বশেষ রিভিউতেও ইজারাগ্রহীতারা হেরে যায়।
আদালতের রায় পর্যায়ক্রমে আসায় গত সপ্তাহে সর্বশেষ রায়ের ভিত্তিতে ৫৭টি প্লট সরকারের দখলে এনে সেখানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নামে সাইনবোর্ড পুঁতে দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘নকশা ও প্ল্যান অনুযায়ী নির্মাণ কাজে বিচ্যুতি ও লিজ চুক্তির ১১নং শর্তানুযায়ী নির্ধারিত ৩ বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করায় প্লটগুলো বাতিল করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে সরকার ৫৭টি প্লট ফিরে পেয়েছে। ফিরে পাওয়া এই জমিগুলো সরকার ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।’
উদ্ধার জমির মূল্য বর্তমান মৌজা দাম অনুযায়ী ৫ শত কোটি টাকা হলেও বাজার মূল্য তার তিনগুণ বা প্রায় দেড় হাজার টাকা বলে জানান জেলা প্রশাসক।
তবে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাতিলকৃত প্লটের সামনে জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড লাগানো হলেও আসলে অধিকাংশ প্লটই ইজারাগ্রহীতা ও তাদের লোকজনের দখলে দেখা গেছে। এমনকি বিভিন্ন প্লটে মাটি ভরাটসহ নির্মাণ কার্যক্রমও চলতে দেখা গেছে।
বাতিলকৃত প্লটগুলোর দীর্ঘমেয়াদী ইজারা গ্রহীতারা হলেন অর্ণব রিসোর্ট প্রা. লি.-এর পক্ষে মো. রফিকুল আলম কক্সবাজার, আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ, ঢাকা, কাজী শামসুজ্জামান, ওশান রিসোর্ট পরিচালক, ঢাকা, হোটেল সী-ইন প্রা. লি.-এর পক্ষে নুরুল আবছার, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম, বাবুল কাজী, বনানী, ঢাকা, সাবেক সাংসদ আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, মহেশখালী, বাসের আহমদ খান, ঢাকা, সোলতান মঈন আহমদ, বনানী, ঢাকা, মারমেড সী-রিসোর্ট, কক্সবাজার এর পক্ষে ফিরোজ বখ্ত তোয়াহা, শাহাদাত বখ্ত  ইয়াছিন, মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম, বোরহান উদ্দিন, ভোলা, কাজী মাহমুদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তাজ ট্রেডার্স প্রা. লি. চট্টগ্রাম, মো. ইয়াসিন মাবুদ, চট্টগ্রাম, মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, সৈকত এসোসিয়েটস, রামু, ফোর ষ্টোর এসোসিয়েটস এর পক্ষে মোকতার আহমদ, উখিয়া, কক্সবাজার, ইকরাম চৌধুরী টিপু, চকরিয়া, কক্সবাজার, গিয়াস উদ্দিন আহমদ, চকরিয়া, কক্সবাজার, মফিজ আহাম্মদ ভুঞা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শেফার্ড ওয়াল্ড ট্রেড লি., ঢাকা, এস.এম জাকারিয়া, পরিচালক, মেরিন ইস্পায়ার লি. ঢাকা, ফরিদুর রহমান খান, পরিচালক, ক্লিন কোস্ট রিসোর্টস লি. ঢাকা, আকতার মাহমুদ রানা, পরিচালক, ইকো-লাইফ রিসোর্টস, ঢাকা, শামশুল ইসলাম চৌধুরী, প্রো. হোটেল এন্ড টাওয়ার,  পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম, রিদুয়ান হক, চকরিয়া, কক্সবাজার, আলহাজ্ব এইচ এম আবছার, কক্সবাজার, মাহবুবুল আনাম, পরিচালক, দি এম এন্ড এম লিমিটেড সেনানিবাস, ঢাকা, নুর মোহাম্মদ, পিতা-হাজী নজু মিয়া সওদাগর, ৩২, মাঝিরঘাট, চট্টগ্রাম, আজিজুল হক, চকরিয়া, কক্সবাজার, গ্রেট ওয়েষ্টার্ন হোটেল লিঃ পক্ষে নিজাম উদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা, এনামুল হক, মোহাজের পাড়া, কক্সবাজার, এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কতুবদিয়া, কক্সবাজার, এম কক্সেস প্যালেস লি.-এর পক্ষে আবদুর রহিম, কক্সবাজার, কাজী সলিমুল হক, পরিচালক, গেপ হোন্ডিংস লি., এনায়েতুল বারী, পিতা-শহীদুল বারী, আকতার মাহমুদ রানা, ইকো-লাইফ রিসোর্টস লি. ঢাকা, হোটেল সুন্দরবন, এম. এ জব্বার সোনারগাও, ঢাকা, মোঃ শামসুল আলম, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম, মোহাম্মদ আহসান হাবিব, ১০৯, খান জাহান আলী রোড, খুলনা, হোটেল সী প্যালেস লি.-এর পক্ষে এ এস আলাউদ্দিন, মঈন উদ্দিন আহমদ, দেওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম, মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, শেরে বাংলানগর, ঢাকা, এজাজ আহমদ চৌধুরী, পাচঁলাইশ, চট্টগ্রাম, হাবিব- উন-নবী খান, মগবাজার, ঢাকা, আনোয়ারুল হাকিম দুলাল, চকরিয়া, কক্সবাজার, খন্দকার মাঈনুল আহসান শামীম, ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এন্ড কোং, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, মগবাজার, ঢাকা, এস.পুর প্যারাডাইস, প্রা. লি.-এর পক্ষে এনাব হাবিব উল্লাহ, কক্সবাজার, মকবুল আহমদ, কক্সবাজার, মরহুম শাহীন চৌধুরী, উখিয়া, কক্সবাজার।
x