কক্সবাজারে ডজনখানেক জুয়ার আড্ডায় কোটি টাকার লেনদেন!

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:৩২ অপরাহ্ণ
134

কক্সবাজারে বিভিন্ন ক্লাবের নামে গড়ে ওঠা অসংখ্য জুয়ার আড্ডায় প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

এসব জুয়ার আড্ডার পেছনে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাসহ খোদ প্রশাসনের  কিছু লোক জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ গত সপ্তাহে এক যুবলীগ নেতা, এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও অপর এক জাতীয় পার্টি নেতার জুয়ার আড্ডায় অভিযান চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন জানিয়েছেন, কক্সবাজারে জুয়ার আড্ডা থাকলেও কোনো ক্যাসিনো (জুয়ার মেশিন) নেই। তবে অভিযুক্ত কয়েকটি জুয়ার আড্ডায় গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে কিছু পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে জেলা পুলিশের কয়েকটি দল শহরের লালদীঘি পাড়স্থ এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার জুয়ার আড্ডায়, শহরের হলিডে মোড়স্থ এক যুবলীগ নেতার জুয়ার আড্ডায় এবং শহরের ঝাউতলাস্থ এক জাতীয় পার্টি নেতার জুয়ার আড্ডায় নিষ্ফল অভিযান চালায়। এছাড়া শহরের আর কোনো জুয়ার আড্ডায় অভিযান চালানোর খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ দাবি করেছে, অভিযানের খবর পেয়ে কক্সবাজারের জুয়াড়িরা গা ঢাকা দিয়েছে। এছাড়া শহরের অন্যান্য জুয়ার আড্ডাগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে কক্সবাজারের কোনো ক্যাসিনোবাজকে ধরতে না পারা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা সমালোচনা। খোদ জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা রাশেদুল ইসলাম এ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘কক্সবাজারে সব ফেরেশতাদের বাস!’

জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মীও এনিয়ে একের পর এক স্ট্যাটাস দেন। তারা সরকারি দলের বিভিন্ন পদ থেকে ক্যাসিনোবাজ, ইয়াবাবাজসহ বিভিন্ন অপরাধীকে বের করে দেয়ার দাবি জানান।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের লালদীঘির দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত একটি রাজনৈতিক দলের সাবেক অফিস, লালদীঘি পূর্বপাড়ে অবস্থিত জাপা-বিএনপি নেতার হোটেল, লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত একটি হোটেল, দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত জাসদ নেতার এক হোটেল, শহরের হলিডে মোড়স্থ যুবলীগ নেতার হোটেল, ওই সড়কের দুটি ক্লাব, শহরের হোটেল-মোটেল জোনে অবস্থিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার হোটেল, শহরের বাজারঘাটা এলাকার ২টি হোটেল এবং শহরের কলাতলী ও সাগরপাড়ের বেশ কয়েকটি তারকা হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আড্ডা চলছিল বলে জানান কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

তবে পুলিশী অভিযানের পর কয়েকটি ক্লাবে আর গভীর রাত পর্যন্ত জুয়ার আড্ডা চলে না এবং কয়েকটি আড্ডা এখন ভ্রাম্যমাণ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।

জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, ‘এসব জুয়ার আড্ডায় বহু মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অনেক কোটিপতি ব্যবসায়ী সব সম্পদ হারিয়ে নিজ স্ত্রীকে পর্যন্ত জুয়ায় তুলেছে। বেশিরভাগ জুয়াড়ির সংসার ভেঙ্গেছে অথবা সংসারে চরম অশান্তি চলছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি বুঝতে পেরে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন যা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে।’

স্থানীয় বাহারছড়ার যুবনেতা ও শহর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘বহু নেতা জুয়াড়ি। নানা ক্লাবের নামে জুয়া ও মাদকের আড্ডা চালিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা আয় করে তারা। আবার অনেকেই জুয়ার টেবিলে উচ্চ সুদে ধারকর্জও দেয়।’ এ নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠিত মানুষও পথে বসে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

x