কক্সবাজারে উদ্বোধনের অপেক্ষায় পুলিশের ৫২ সিসি ক্যামেরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
13

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের নিরাপত্তায় শহরের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে ৫২টি সিসি ক্যামেরা। কক্সবাজার পৌরসভা ও হোটেল মালিকদের অনুদানে জেলা পুলিশ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের একটি প্রকল্প গত কয়েক মাস আগে গ্রহণ করে জেলা পুলিশ। এরপর প্রকল্পটির জন্য বেসরকারি অনুদান সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এ প্রকল্পের আওতায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ শহরতলীর লিংকরোড পর্যন্ত এলাকায় দেড় শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে হোটেল মালিকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে অনুদান পাওয়া গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার অনুদানে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নির্মিত হয়েছে সিসিটিভির কন্ট্রোল রুম। এ কন্ট্রোল রুমে বসে ফুটেজ পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে প্রাথমিকভাবে শহরের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৫২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার)

তিনি জানান, ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সিসিক্যামেরাগুলো চালু রাখা হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (০৩ আগস্ট) বেলা ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সিসি ক্যামেরাগুলো উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হঠাৎ করে কক্সবাজার সফর বাতিল করেন।শহরের যেসব স্থানে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে, তা হলকেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পুলিশ বঙ ও সিএনজি পাম্প, কক্সবাজার কারাগারের সামনের রাস্তা, স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তা, মোহাজের পাড়া মোড়, সদর হাসপাতালের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের মোড়, জেলা শিক্ষা অফিসের সামনের রাস্তা, গোলদিঘীর পাড়ের দক্ষিণ মোড়, অগগমেধা ক্যাং (বৌদ্ধ মন্দির) সড়ক, বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের উত্তর মোড়, বড় বাজার সামনে মোড়, ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প মোড়, লালদিঘীর পূর্বপাড় মসজিদের সামনে, পৌরসভার সামনে, প্রধান সড়কের বিমানবন্দর সড়ক মোড়, বিমানবন্দর গেট, ঝাউতলা সায়মন রোডের মাথায়, হলিডের মোড়ের যাত্রী ছাউনির সামনে, পিটিআই স্কুলের সামনের মোড়ে (পিডিবির সামনে), আরআরআরসি অফিসের সামনে, লাবণীর মোড়ের যাত্রী ছাউনি, কল্লোল মোড়, অভিসার হোটেল মোড়, সি ইন পয়েন্ট ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স, হোটেল কক্স টুডে সড়কের দক্ষিণ মাথায়, সুগন্ধা পয়েন্ট ট্রাফিক পুলিশ বক্স, কলাতলী বীচ মোড়, কলাতলী মোড়, হোটেল সি প্যালেসের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত, লং বিচের পাশে (মোহাম্মদীয়া হোটেল সামনের পশ্চিম পাশ), নিরিবিলি অর্কিডের এটিএম বুথের পাশে), সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে (কটেজ জোনের পাশে) জাম্বুর মোড়, গোলচত্বর মোড়ের দক্ষিণ পাশে (ইউএনএইচসিআর’র পেছনের রাস্তা), পাসপোর্ট অফিসের সামনে, সার্কিট হাউস গেট, পুলিশ সুপার বাসভবনের সামনের মোড় ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র আফরাজুল হক টুটুল বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের মনিটর, টেলিভিশন, ক্যাবলতারসহ অন্যান্য খরচ দিয়েছে কক্সবাজার হোটেলমোটেল মালিকসহ ব্যাংক বীমা কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ীরা।

তিনি আশা করেন, সিসিটিভি’র কারণে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অপরাধী অপরাধের অন্ধকার পথ ছেড়ে দেবে। পুলিশ সুপার ড. একে. এম ইকবাল হোসাইন বলেন, অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের পাকড়াও এবং প্রকৃত অপরাধীকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো এখন থেকে কক্সবাজারে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার হবে।

x