কক্সবাজারের হোটেলগুলোয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই

স্থানীয় প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে

রবিবার , ২৮ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
47

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের থাকার জন্য সেখানে গড়ে উঠেছে চার শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট। কোন রকম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই বছরের পর বছর কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান। মাত্র দুই একটিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও বাকিগুলোতে তা নেই। জানা গেছে, পর্যটন নগরী হওয়ায় কক্সবাজারের হোটেলগুলোয় বছর জুড়ে প্রায় ২০ লাখ পর্যটক অবস্থান করে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম এবং সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা সরকারি ছুটির সময় কোন হোটেলই কক্ষ ফাঁকা থাকে না। অথচ এত বিপুল সংখ্যক পর্যটকের অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপই নেই কক্সবাজারের হোটেল মালিকদের। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বার বার তাগাদা দেওয়া হলেও হোটেল মালিকরা কোন তোয়াক্কা করছেন না। এজন্য প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তদারকির অভাবকেই দুষছেন হোটেল মালিকদের কেউ কেউ। তবে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কিছুটা হলেও টনক নড়ছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের। পত্রিকান্তরে সম্প্রতি এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
দেশের সবখানেই ব্যবসায়িক ও আবাসিক ভবনগুলোয় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। স্বাভাবিকভাবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের চিত্রও ভিন্ন হতে পারে না। পর্যটন নগরীতে বেড়াতে যাওয়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের থাকার জন্য গড়ে ওঠা চার শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট কোন ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। মাত্র দু’একটিতে যৎসামান্য অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও বাকিগুলোয় সেটুকুনও নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েই এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয়তা কাম্য। লক্ষ্যণীয়, দেশে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা রয়েছে। কিন্তু তা যথাযথভাবে পরিপালন করছেন না অধিকাংশ হোটেল মালিক। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কারা ও অর্থদণ্ডসহ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তির বিধানও রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও এ আইন প্রয়োগের নিয়ম আছে। অথচ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সীমাবদ্ধতাসহ নানা কারণে এ আইনের প্রয়োগ নেই। নামমাত্র অনুমোদন নিয়ে বা না নিয়েই গড়ে তুলেছে হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অনিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারণে নিয়ম না মানা মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে বছর জুড়ে প্রায় ২০ লাখ পর্যটক অবস্থান করে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম এবং সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির সময় কোন হোটেলই ফাঁকা থাকে না। অথচ এই পর্যটন নগরীর হোটেল মালিকদের এত বিপুল সংখ্যক পর্যটকের অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপই নেই। দেশে যেভাবে একের পর এক অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটছে, তাতে কক্সবাজারের হোটেলগুলোর নাজুক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যটকদের আতঙ্কের কারণ হবে। আর, এটা হলে হোটেল ব্যবসা ও পর্যটনে স্বাভাবিকভাবেই ধস নামবে। কাজেই হোটেল মালিকদের নিজেদের ব্যবসার স্বার্থেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা জরুরি।
পরিতাপের বিষয় হল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ চলছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বার বার তাগাদা দেওয়া হলেও হোটেল কর্র্তৃপক্ষ মোটেই তোয়াক্কা করছে না। অন্যদিকে হোটেল মালিকদের কেউ কেউ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন। এভাবে পারস্পরিক দোষারোপ চলতে দেওয়া যায় না তবে আশার কথা হলো, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কিছুটা হলেও টনক নাড়ছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের। কক্সবাজারের হোটেল- মোটেল জোনের বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমেছেন। এ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রথমে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে হোটেল মালিকদের। এই সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যারা নেবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করি, প্রশাসনের সচেষ্টতায় কক্সবাজারের সব হোটেলের কাঙ্ক্ষিত অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

x