ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হবে

সাত বিদেশী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলন ।। চট্টগ্রামবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
211

ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপ লাইন স্থাপন কাজে জনগণ ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়োজিত সাত বিদেশী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসী সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ও সহযোগিতার পরিচয় দিয়েছেন। অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করতে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও চট্টগ্রামবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেছেন, আগামী মার্চএপ্রিলের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সিডব্লিউএসআইএসপি প্রকল্প, ২০১৯ সালের মধ্যে জাইকার অর্থায়নে কেডব্লিউএসপি২ ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন এবং ২০২২ সালের মধ্যে বিতরণ পাইপ লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার বেশি ১ দিনও অতিবাহিত হবে না। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটগুলোর অধিকাংশেরই মেরামত কাজ আগামী এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আব্দুল খালেক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন তথ্য জানানো হয় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। চট্টগ্রাম ওয়াসা উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত বিদেশী পরামর্শক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়া বিদেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এনজেএস কনসালটেন্টস কোম্পানি লিমিটেডের মাশাহারু টাগাসুগি, গ্রোন্টমিজের পক্ষে সাইমন ডি হান, কোলন গেহ্মাবাল কর্পোরেশনের জি হুন কিম, কুবোতা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের আকিরা সাইরাই, চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপ লাইন ব্যুরোর জাও জুনবাও, চায়না জিও ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের কিউআই জিয়াওডিং এবং হুবেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের ওয়াং আও। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চায়না পেট্রোলিয়ামের প্রকল্প উপদেষ্টা রাজীব বড়ুয়া বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১০ সাল থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকাণ্ডে উল্লেখিত বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মরত আছে। ২০২২ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। পাইপ লাইন নির্মাণ কাজ অত্যন্ত জটিল এবং কারিগরী একটি বিষয় জানিয়ে রাজীব বড়ুয়া আরও বলেন, চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট প্রশস্ত নয়। এই রাস্তায় সর্বোচ্চ ৪র্৮র্ ব্যাসের পাইপ লাইন স্থাপন করছি এবং কোন কোন রাস্তায় দুই থেকে তিনটি পাইপ লাইন বসাতে গিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ফুট রাস্তা কাটতে হয়েছে। এছাড়া পূর্ববর্তী গ্যাস, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, বিটিসিএল ও মোবাইল ফোন সংস্থার স্থাপিত পাইপ লাইনের কারণে ক্ষেত্র বিশেষে আমাদের প্রতিস্থাপনকৃত পাইপ লাইন সর্বোচ্চ ২০ ফুট মাটির গভীর দিয়ে নিতে হয়েছে। এ কাজ অত্যাধিক ব্যয়বহুল, সময়সাপে এবং কারিগরী। ২৭ ফুটের পাইপ বসাতে ১০০টন মাটি অপসারণ করতে হচ্ছে। জনগণ যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে সেজন্য রাতে কাজ করা হচ্ছে।

চুক্তিতে মাটির নিচ দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ ফুট পাইপ লাইন স্থাপনের কথা উল্লেখ থাকার কারণে এ অতিরিক্ত কাজের জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছে না। তদুপরি চট্টগ্রামবাসীর সহায়তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ কাজ করতে গিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার জনগণ ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে। আমরা পৃথিবীর বড় উন্নয়ন কাজের অংশীদার হিসেবে বিভিন্ন দেশে কাজ করছি। কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষের ধৈর্য্য, আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা আমাদেরকে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসী সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ও সহযোগিতার পরিচয় দিয়েছে বলে আরও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

রাজীব বড়ুয়া লিখিত বক্তব্যে আরও জানিয়েছেন, গত ২০১৭ সালে প্রবল বর্ষণ, ভূমিধস ও অতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বিঘ্নিত হয়েছে। কোন কোন এলাকায় অতি জলাবদ্ধতায় দীর্ঘদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। এরপরও চট্টগ্রামবাসীর সার্বিক সহায়তায় কাজ গতিশীল রাখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন বিদেশী নাগরিকদের উপর সশস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের স্ব স্ব দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সার্বিক অনুরোধ ও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সার্বিক সহযোগিতা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ জনগণের সহায়তায় আমরা নিজ নিজ দেশে ব্যক্তিগতভাবে রিস্ক ভন্ড স্বাক্ষর করে আপনাদের সহযোগিতায় কাজ চলমান রাখতে পেরেছি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কুবাতা কনস্ট্রাকশনের হাসান জহির বলেন, প্রকল্প কাজ করতে গিয়ে সাধারণ জনগণ যাতে দুর্ভোগে না পড়ে সেজন্য দ্রুত কাজ করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় সময় লাগছে। সেখানেও যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে কাজ দ্রুততার মধ্যে সম্পন্ন করতে। জাইকার প্রকল্পটির রাঙ্গুনিয়ায় ৯৫ শতাংশ পাইপ লাইনের কাজ শেষ হয়েছে এবং অন্যটির ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অন্য প্রকল্পের কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এর বেশি ১দিনও অতিবাহিত হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। হাসান জহির আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের বিভিন্ন অংশের মেরামত কাজ ইতোমধ্যে আমরা শুরু করেছি। এপ্রিল মাস পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে যতদ্রশুত সম্ভব রাস্তাঘাটের মেরামত কাজ শেষ করা হবে। অবশিষ্ট কাজ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করা হবে। সংবাদ সম্মেলনের পর এনজেএস কনসালটেন্টস কোম্পানি লিমিটেডের মাশাহারু টাগাসুগি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান কাজের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করেন।

x