ওসিসহ ৬ পুলিশ ও ৩ সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

সোহেল মারমা

মঙ্গলবার , ২৬ মার্চ, ২০১৯ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
793

নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় এক ব্যক্তিকে আটকের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ত্রিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পাঁচলাইশ থানার ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য ও তিন সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুদককে (দুর্নীতি দমন কমিশন) দায়িত্ব দিয়েছেন।
গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. আকবর হোসেন মৃধার আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন পতেঙ্গার বাসিন্দা নুরুল আবছার নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওই এলাকার বদিউল আলমের ছেলে। পুলিশ বলছে, মাদক মামলার আসামী ওই ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলাটি দায়ের করেছে। জানা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝিতে তিনি পুলিশের হাতে আটক হন। এর নয় মাস পরে এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে পাঁচলাইশ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আবুল কাশেম ভূঁইয়া, পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণয় প্রকাশ, উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) আবদুল মোমিন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তরুণ কান্তি শর্মা, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুজ্জামান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিহির কান্তি। এছাড়া ইলিয়াছ, জসিম ও নুরুল হুদা নামে আরও তিনজনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারা স্থানীয়দের কাছে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। প্রসঙ্গত, তাকে আটকের সময় পতেঙ্গা থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বর্তমান পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁশুলি (পিপি) মো.ফখরুদ্দিন চৌধুরী গতকাল আজাদীকে বলেন, ‘নুরুল আবছার নামে একজন মাদক মামলার আসামী পাঁচলাইশ ওসিসহ ৬ জন পুলিশ সদস্য ও আরও তিন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত এই ঘটনাটি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দুদককে দায়িত্ব দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালককে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে এ অভিযোগটি তদন্তের জন্য নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।’
রাষ্ট্রপক্ষের এ কৌঁশুলী আরও বলেন, ‘মামলার এজাহারে নুরুল আবছার দাবি করেন, ২০১৮ সালের ১ জুন বিকেলে নগরীর পতেঙ্গা কাটগড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা তাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরদিন তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী অপবাদ দিয়ে আটক রাখা হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ১৫ লাখ টাকা পুলিশের হাতে তুলে দেন। অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকা না দেওয়ার তাকে বিদেশি মদ উদ্ধারের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছিল। পরে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে নুরুল আবছার পাঁচলাইশ ওসিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।’ আবছার নিজেকে শিপ ইয়ার্ড ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন বলে জানান পিপি ফখরুদ্দিন চৌধুরী।
এ ব্যাপারে পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া আজাদীকে বলেন, পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন মাদক ব্যবসায়ী নরুল আবছার। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। নয় মাস আগে তাকে ৪০ বোতল বিদেশী মদসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন আমি পতেঙ্গা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। তাকে মদসহ গ্রেফতারের ঘটনায় পুলিশ মহানগর দায়রা জজ আদালতে চার্জশিটও দাখিল করে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘এখন শুনেছি, সে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকেসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমি অফিসিয়ালভাবে কিছু জানি না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আবছার নগরীর ৪১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল আবছার এলাকায় মৎস্য দপ্তরের তালিকাভুক্ত একজন নৌকার মাঝি হিসেবে পরিচিত। পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল কান্তি বড়ুয়া আজাদীকে বলেন, নুরুল আবছারের নামে পতেঙ্গা থানায় একটি মাদকের মামলা রয়েছে। ওই মামলার চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে।’ সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানান ওসি উৎপল কান্তি বড়ুয়া।

x