ওষুধ যখন রোগ বাড়ায়

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ৬ জুলাই, ২০১৯ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
197

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে জরুরি ওষুধ। কিন্তু মানুষের জন্য ওষুধ না ওষুধের জন্য মানুষ- এই প্রশ্নই আজ গুরুতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ওষুধ নিয়ে মানুষ সচেতন নয়, অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর ওষুধের অপব্যবহার হচ্ছে অহরহ। ওষুধের অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়ায় বিপন্ন হচ্ছে অগণিত মানুষ। শুধুমাত্র ইংল্যান্ডে প্রতিদিন ৩ জন মানুষের মৃত্যু হয় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খেয়ে। Government Yellow Card Scheme, Medicine & Healthcare Products Regulatory Agency, ও UK- এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আধুনিক চিকিৎসায় ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে ১১৯৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়! ওষুধ জনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষজনের জন্য UK National Health Scheme (NHS)- এ ২০০৯ সালে খরচ হয়েছে ৪৬৬ মিলিয়ন পাউন্ড। এতো তো গেল উন্নত রাষ্ট্রের কথা আর এদেশের মানুষের অবস্থা দুর্বিষহ, বর্ণনা করার মতো না খুবই বাজে অবস্থা, এখানে টাকা দিয়েও ভাল চিকিৎসা পাচ্ছেন বা কয়জনে।
প্রতিদিনই খবরের কাগজে বা সোশাল মিডিয়ায় দেখি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার অপব্যবহার ও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু। এখানে একদিকে ডাক্তারের অবহেলা অন্যদিকে ওষুধ কোম্পানির এম.আর দের হাসপাতাল বা ক্লিনিকে দিন রাত রাজত্ব। আমি মনে করি এদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা নোংরা বা অপচিকিৎসার পেছনে অহরহ ওষুধ কোম্পানিই সবচেয়ে বেশি দ্বায়ী। কারণ ডাক্তাররা কমিশনের কারণে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ রোগিদের প্রেশক্রিপশনে দেদার লিখে থাকেন। আর সরল মনে রোগীরা খেয়ে যাচ্ছেন, এটি খুবই দুঃখজনক একটি ব্যাপার।
আমি চিকিৎসা লাইনে তেমন বেশি কিছু জানি না, তবে বুঝতে পারি দেশে চিকিৎসার নামে এগুলা কি হচ্ছে? আমার মতে এই অপচিকিৎসার পেছনে আমাদের রাষ্ট্রের কর্ণধারই সবচেয়ে দায়ী, সাথে আমরা জনগণই কোন অংশে কম দায়ী নই। কেন নতুন নতুন কোম্পানির অনুমোদন, বিদেশি নকল ওষুধ সহজে দেশে আসছে, সেটি যেন দেখার কেউ নাই। রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য হয়ে গেছে, মানুষকে রোগ থেকে দূরে রাখার কাজটি তারা করছেন না।
আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখলাম ও বুঝলাম আমাদের দেশে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়ে গেছে, চিকিৎসকরা ১০০% সত্য কথা বলার পরও রোগীরা নিয়ম-কানুন বা সঠিক কথাটি শুনতে ও মানতে চান না। বেশিরভাগ সময় রোগীরা লোকের কথা শুনেন। বহু ওষুধ বিদেশে ব্যবহার সম্পূর্ণ স্থগিত হওয়ার পরেও এদেশে ব্যবহার হয়ে চলেছে অজানা অবৈজ্ঞানিক নিয়মে, সরকারি ব্যবস্থার শিথিলতায় এবং জনসাধারণের অশিক্ষা এবং স্বাস্থ্যচেতনার অভাবে। আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে চিকিৎসা সেবা অস্বাভাবিক নিম্নমানের এবং হাতুড়ে চিকিৎসকদের প্রসার এদেশে পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে বেশি।
আর তাই আগামী দিনে চিকিৎসক মহলের আন্তরিকতা সু-চিকিৎসা ও জনগনের সচেতনতা বোধ এবং সু-চিকিৎসা নিশ্চিত সঠিক নিয়মে ওষুধ সেবন এটাই দেখার আছে।

x