ওরা আর ভিটা হারাবে না

হালদার রোধে ২১২ কোটি টাকার প্রকল্প, আজ উদ্ধোধন

রাউজান প্রতিনিধি

শনিবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৩:২২ পূর্বাহ্ণ
284

রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ডোমখালী আজিমেরঘাট এলাকার জেলেপাড়ার ষাটোর্ধ হরিহর জলদাশ। হালদার ভাঙনে তিনিসহ এই পাড়ার অন্তত সাতটি পরিবার ইতোপূর্বে তিন দফায় বসতভিটা পরিবর্তন করেছে। হরিহরের সর্বশেষ ভিটাও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে।

হরিহরের মতো হালদাপাড়ের রাউজান অংশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েকশ পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে নানা স্থানে চলে গেছে। বার বার ভাঙনে এখনো উদ্বেগউৎকণ্ঠায় আছে শত শত পরিবার। এই অবস্থায় হালদাপাড়ের মানুষের মাঝে আশার আলো জ্বালিয়ে আজ উদ্বোধন করা হচ্ছে হালদার ভাঙন প্রতিরোধ নেওয়া একটি বড় প্রকল্প। এ সংবাদে হরিহরদের মতো ভিটামাটি হারানো মানুষেরা খুশি। ওরা মনে করছে, এবার আর ভিটামাটি হারাতে হবে না।

হালদার ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হবে আজ শনিবার। এতে ব্যয় হবে ২১২ কোটি টাকা। মদুনাঘাট থেকে এ কাজের উদ্বোধন করবেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। উপস্থিত থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য মাঈন উদ্দিন খান বাদল, প্রকল্প কাজের সংশ্লিষ্ট মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমানসহ পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তাগণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে এই প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করবে সেনাবাহিনী। প্রকল্পের কাজ হবে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায়। কাজের মধ্যে থাকছে ১২.১২ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ, ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, ৪ কিলোমিটার বিদ্যমান রাস্তা বা বাঁধ উঁচুকরণ এবং ০.৫০ কিলোমিটার গার্ডওয়াল নির্মাণ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার শত শত একর জমি রক্ষা পাবে। পাশাপাশি হালদা তীরবর্তী বাসিন্দাদের জীবনমানে পরিবর্তন আসবে। গত ৪ এপ্রিল একনেক সভায় হালদার প্রকল্পটির অনুমোদন হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের কাজ করা হবে রাউজানের পশ্চিম গহিরা, সর্তার ঘাট, আজিমেরঘাট, আবুর খীল, মোকামী পাড়া, হাটহাজারীর গড়দুয়ারা, ধলই, ফরহাদাবাদ, লাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দন, ছিপাতলী, মাদার্শাসহ ৩৯টি ভাঙন কবলিত পয়েন্টে। ৮টি পয়েন্টে নদীপাড়ের রাস্তা উঁচু করা হবে।

x