ওমর কায়সার-এর গুচ্ছ কিশোরকবিতা

শুক্রবার , ১ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ
63

ছন্দবোঝাই ট্রাক

পথের ওপর আটকে আছে ছন্দবোঝাই ট্রাক
কিচ্ছুতে আর কাজ হবে না ছড়াকারকে ডাক।

যানজটে সব ছন্দপতন অচল জীবন-পর্ব
ছিটকে পড়া মাত্রাগুলো কেমন করে ধরব?

ছড়ার বাড়ির আট দরজায় কে দিয়েছে খিল
ছন্নছাড়া শব্দগুলো পায় না খুঁজে মিল।

চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে ভীষণ অভিমানে
শব্দ আমার ঘুমিয়ে আছে কালের অভিধানে।

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা

খড়ের চালায় তুফান দিল ধাক্কা
সকালে বসত, দুপুরে তেপান্তর
এখন কেবল আকাশ দিচ্ছে মায়া
আপন যারা সবাই হলো পর।

বৃষ্টি জলে ভিজলো মায়ের দেহ
গভীর রাতে কাঁপন দিয়ে জ্বর
তারপরে তার বন্ধ চোখের পাতা
স্তব্ধ হলো করুণ গলার স্বর।

আমরা কী আর থামিয়ে দিতে পারি
তুমুল হাওয়ার উথাল পাথাল ঝড়
শক্ত খুঁটির বাঁধন দিয়ে তবে
বাঁধতে পারি নতুন কোনো ঘর।

রোদের আয়ু ফুরিয়ে যাওয়ার আগে
মাঠের ওপর বিছিয়ে দেব খড়
এই আমাদের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
সারাজীবন চলছে নিরন্তর।

কথার কথা

কোনো কোনো কথা কই কানে কানে
কিছু কথা গেঁথে যায় প্রাণে প্রাণে
কত কথা সুর হয়ে বাজে গানে
হাওয়াতে হারালো কথা অঘ্রাণে।

মানুষ তো যন্ত্র না
তার থাকে যন্ত্রণা
কথার পেছনে তার তাকে শত মন্ত্রণা।

গাছেদের কথা ফোটে ফুল হয়ে
সৌরভে ছোটে তারা নির্ভয়ে।
কথামালা গাঁথা হয় ময়দানে
কোন্টা যে ভুল কথা কারা জানে?

মূলকথা বঞ্চিত
বুকে ব্যথা সঞ্চিত
তোমাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনছি তো।

বোবাদের কথাগুলো ইঙ্গিতে
কিছু কথা বোঝা যায় ভঙ্গিতে।
অতীতের কথা ভাসে আসমানে
ফেলে আসা কিছু কথা পিছু টানে।

মেঘ পাহাড়ের কন্যা

বিজলি আঁকা মুকুট মাথায় হাওয়ার পালকি চড়ে
বজ্রমুখর বর এসেছে জুম পাহাড়ের ঘরে
সূর্যঢাকা শ্রাবণদুপুর ওদের বিয়ের লগ্ন
বরুকন্যা মেঘ ও পাহাড় ভালোবাসায় মগ্ন।

সবুজ সবুজ গাঢ় সবুজ পাতারা দেয় তালি
গাছের গায়ে রঙিন প্রলেপ কদম ফুলের ডালি।
জলের সানাই বাজায় কারা দূর আকাশের পারে
সাতটি রঙের পাত্র থেকে রঙধনু রঙ ছাড়ে।

জল থৈ থৈ বিয়ের আসর সাঙ্গ হওয়ার পরে
জলের শিশু উছল হয়ে আসবে তাদের ঘরে।

শ্রাবণ দিনে পাহাড় মায়ের গর্ভে আসে ঝরনা
আদর করে মেঘ বাবা তার নাম রেখেছে স্বর্ণা।

ছলাৎ ছলাৎ ছন্দে শিশু ঢেউয়ের পেখম খুলল
গড়িয়ে চলার নেশায় কখন মায়ের কথা ভুলল।

কোত্থেকে এক পাখি এসে বলল কানে কানে
একটা মজার স্বপ্নকথা বলছি গানে গানে
ঝরনারে তুই চলতে পারিস ছুটতে পারিস যদি
বড় হয়ে তুই হবি এক পাগলপারা নদী,
হাজার রকম বাঁক পেরিয়ে যাবি অনেকদূর
তোর জন্য অপেক্ষাতে সাতটি সমুদ্দুর।

মায়ের নিষেধ যাসনে বাছা সমতলে দুঃখ
ওখানে সব ধুলো ধোঁয়া ওখানে সব রুক্ষ
মায়ের শিশু মায়ের কোলে পাহাড় ঘেষে থাক
সমুদ্দুরে ঝড় ঝঞ্ঝা হাজার দুর্বিপাক।

স্বর্ণা তখন পৌঁছে গেছে কোন অজানার ঘাটে
গাঙচিলেদের সাঁতার দেখে ব্যস্ত সময় কাটে
দুইটি তীরের নাম না জানা গ্রামের পরে গ্রাম
শস্যখেতে জল ছিটিয়ে খেলছে অবিরাম।

x