ওদের শ্রমেই পূর্ণতা লাভ করে ঈদের আনন্দ

দম ফেলার ফুরসত নেই দর্জি কারিগরদের

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ২০ মে, ২০১৯ at ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
28

জীবন যুদ্ধে হার না মানা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ওরা। কোন ধর্মীয় উৎসব এলেই বেড়ে যায় ওদের ব্যস্ততা। বিশেষ করে রমজানের ঈদে ওদের দিবারাত্রি শ্রমের ফলেই যেন সবার গায়ে নতুন জামা শোভা পায়। পূর্ণতা লাভ করে সবার আনন্দ। নিজেদের জীবনের বা পরিবারের কতোটা আনন্দ দিতে পেরেছে সেটি মুখ্য নয়, বরং সবাইকে আনন্দ উপহার দিয়েই আনন্দ পায় ওরা এমনই জানালো একাধিক সেলাই কারিগর। এখন থেকে দিন রাত্রী সমানভাবে যাচ্ছে যাদের।
মেশিনের অবিরত ঝরঝর শব্দ। কর্মব্যস্ত নারীপুুরুষ সকল সেলাইকর্মীই। একের পর এক সেলাই করে চলেছেন নতুন পোশাক। এই ঈদকে সামনে রেখে ধনীগরীব সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের নতুন পোশাকের সন্ধানে। আর তাদের চাহিদা যোগান দিতে গিয়ে আরো বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দর্জিরা। ফ্যাশন সচেতন নারীপুরুষ ভিড় জমাচ্ছেন নামিদামি টেইলার্সগুলোতে। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরিতে মেতে উঠেছেন তারা। কাজের চাপে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন দর্জিরা। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন মীরসরাই উপজেলার সকল হাটবাজারের দর্জি দোকানের কারিগররা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মীরসরাই বাজারের নিতুল টেইলার্স, প্রিয়াংকা, জোরারগঞ্জের শুভ টেইলার্স, বৈশাখী টেইলার্স, বারইয়ারহাটের ফেমাস টেইলার্স, সেঞ্চুরি টেইলার্স, সবুজ টেইলার্স, মিঠাছরার আলফা, সানমুন, মজুমদার টেইলার্স, বড়দারোগারহাটের এলিগেনস্‌ টেইলার্স খ্যাত অখ্যাত সকল টেইলার্সের কারিগররা নরনারীদের পোশাক তৈরিতে চরম ব্যস্ত সময় পার করছে। আর কয়েকদিন পর মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। এই ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পছন্দের কাপড় তৈরিতে মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই উপজেলার প্রায় অর্ধসহস্র দর্জি। দিনরাতই এখন দর্জিদের সেলাই মেশিনের ঝরঝর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে বারইয়ারহাট, করেরহাট, জোরারগঞ্জ, মিঠাছরা, মীরসরাই, বড়তাকিয়া, আবুতোরাব, বড়দারোগারহাট বাজার। মহা খুশির ঈদের যেমন বাড়ছে কেনাকাটা, তেমনি তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দর্জিদের কর্মব্যস্ততা। ক্রেতাদের চাহিদা মতো পোশাক তৈরিতে তাদের দম ফেলার ফুসরত নেই বলে জানান অনেক কারিগর। ঈদকে ঘিরে দর্জিদের রাতে সুখের ঘুম হারাম বললেও চলে। ক্রেতাদের মানানসই পোশাক তৈরিতে রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা। এছাড়াও পুরুষ দর্জিদের পাশাপাশি মহিলা দর্জিরাও থেমে নেই তাদের কাজে। এই সুযোগে তারাও কিছু আয়ের পথ সৃষ্টি করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছেন।
মীরসরাই বাজারের নিতুল টেইলার্সের কার্টিং মাষ্টার ও প্রোপ্রাইটর নিতুল চন্দ্র নাথ বলেন এবার ঈদ উপলক্ষে তাদের কাজের চাপ বেড়েছে রোজার আগে থেকেই। বাড়তি কাজের জন্য অতিরিক্ত কর্মচারী নেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরেও পোশাক তৈরি করে তারা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পারছেন না। এবার ঈদে নারীদের তৈরি পোশাকের মধ্যে অধিকাংশই লেহেংগা, কামিজ, লং কামিজ, জিপসি, লং জিপসি ইত্যাদি রয়েছে বলে জানান তিনি।
জনৈক গ্রাহক মীর হোসেন জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তৈরি করা শার্ট প্যান্ট পরেন। প্রতি বছর তিন থেকে চার সেট পোশাক বানাতে হয় তার। ব্যতিক্রম হয়নি এবারের ঈদেও। একটি টেইলার্স দোকানে একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট ৮০০টাকা মজুরীতে সেলাই করিয়েছেন তিনি। তবে এবার মজুরি বেশি নিচ্ছেন দোকানীরা।
দর্জি কারিগর অভি, জীবন, রূপন, রুবেল ও শিপ্রা এবং কাটিং মাষ্টার গোবিন্দ কুমার নাথ বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তারা আধুনিক ফ্যাশনের পোশাক তৈরি করছেন। এ কারণে আমাদের দোকানে প্রচুর ভিড় হচ্ছে। রমজানের আগেই কাজের চাপ শুরু হয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার অনেকটাই কম।
জোরারগঞ্জের রোকসানা আক্তার জানান, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবাই চায় নতুন পোশাক পরতে। রেডিমেড পোশাকের দোকানে একই নকশার অনেক পোশাক থাকে। এ বছর বেশির ভাগ পোশাক জর্জেট, কাতান সিল্ক, ভেলভেট চিকেন, নেট, তসর, টিস্যু, জরি, চুমকি, কুন্দনের কাজ করাসহ নানা ধরনের কাপড় বানানো হচ্ছে। তবে এ বছর ফ্যাশনেবল পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে সূতি কাপড়ের পোশাক একটি বিশাল বাজার দখল করে আছে বলে জানিয়েছেন টেইলার্স মালিকরা।

x