ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেলেন কাদের সিদ্দিকী

‘এরকম একটি জোট যে আছে তা মানুষই জানে না’

মঙ্গলবার , ৯ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
784

আট মাসের গাঁটছড়া ছিঁড়ে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। তার ভাষায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে যে জোট তারা গড়েছিলেন, নির্বাচনের পর গত সাত মাসে তার কোনো অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘জাতীয় কোনো সমস্যাকে তারা তুলে ধরতে পারছে না। এরকম একটি জোট যে আছে, তা দেশের মানুষ জানেই না।’ খবর বিডিনিউজের।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব বা ঠিকানা খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে জনগণের সকল সমস্যায় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করবে।’ এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা কাদের সিদ্দিকী আলাদা দল গঠনের পর গত এক দশকে বিএনপির জোটে না ভিড়লেও কাছাকাছিই ছিলেন।
গত ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের এক সময়কার আরেক নেতা কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার প্রায় এক মাস পার ৫ নভেম্বর ওই জোটে যোগ দেন তিনি। খেলাপি ঋণের কারণে ওই নির্বাচনে কাদের সিদ্দিকী অংশ নিতে না পারলেও টাঙ্গাইলে তার আসনে প্রার্থী করেন মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকীকে। ওই নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যানের পর বিএনপি ও গণফোরামের সংসদে যোগদানে ক্ষুব্ধ ছিলেন কাদের সিদ্দিকী। সংসদে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ৯ মে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাতজন সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার সঠিক ব্যাখ্যা না পেলে তারা আর জোটে থাকবেন না। এরপর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করে কামাল বলেছিলেন, নানা প্রশ্ন এলেও তাদের জোট ভাঙছে না। কাদের সিদ্দিকীও বলেছিলেন, তিনি তার প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও সময় দিচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টকে, কিন্তু জোট ছাড়ার কোনো ‘আল্টিমেটাম’ তিনি দেননি। তার এক মাস না যেতেই সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি।
লিখিত বক্তব্যে সরাসরি উল্লেখ না থাকায় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনার দল কি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দিল?’ উত্তরে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে এখানে কোনো অস্পষ্টতা আছে। সত্য কথা বলতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। তার কোনো কর্মকাণ্ড নেই। সেজন্য সেখান থেকে আমরা চলে আসছি। আমাদের প্রত্যাহার করছি- এই শব্দটা ব্যবহার করা আমাদের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয় নাই। সেজন্য বলেছি, আমাদের মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছি। আপনি যেটা বলেছেন, সেটাকেই বোঝায়।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘অকার্যকর’ অবস্থার জন্য কে দায়ী- প্রশ্ন করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমিসহ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ যারা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন, কমবেশি সকলেই দায়ী।’
নতুন কোনো জোটে যাচ্ছেন কি না- এই প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘রাজনীতি একটা প্রবহমান নদীর মতো, এটা স্রোতধারার মতো। গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের সাথে আমাদের কাজ করা উচিত। সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টে যারা ছিলেন, তাদের সাথে ভবিষ্যতে কোনো কাজ করব না, এমন কোনো শর্ত নেই। নিভের্জাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করব।’ তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটে না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরপর আমি বলেছিলাম, আর কিছু হোক বা না হোক, বর্তমান সরকারি দল ভবিষ্যতে কোনো দিন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না, সেই রাস্তাটা তারা নিশ্চিত করেছে। আমরা সমমনা গণতন্ত্রপ্রেমী এই দেশের প্রতিটি দলের সাথে আমরা কাজ করার চেষ্টা করব।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ফ্রন্টের ব্যানারে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেওয়া হয়নি, ফ্রন্টের যে অফিস ছিল সেখান থেকেও দেওয়া হয়নি। এটা দেওয়া হয়েছে মাননীয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় থেকে। মূলত নেতৃত্ব করেছে বিএনপি। এই জিনিসটা খুবই গুরুতর অন্যায় হয়েছে এবং ঐক্য গঠনের নীতিমালার পরিপন্থি হয়েছে।’
নির্বাচনের পর গণফোরামের বিজয়ী প্রার্থী সুলতান মো. মনসুর আহমেদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে। জাতির পেছনে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হয়েছে। শুধু মনসুর নয়, যারাই শপথ নিয়েছেন, সেটাকে মীরজাফরের চাইতেও খারাপভাবে দেখা যেতে পারে।’
সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী, মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী, দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ, আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

x